অভিনেতা যাহের আলভীর বিরুদ্ধে স্ত্রী ইকরার আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলা, মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ
ইকরার আত্মহত্যায় যাহের আলভীর বিরুদ্ধে মামলা, মানসিক নির্যাতন

অভিনেতা যাহের আলভীর বিরুদ্ধে স্ত্রী ইকরার আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলা

টেলিভিশন অভিনেত্রী ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্বামী অভিনেতা যাহের আলভী ও তাঁর মায়ের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনা ও মানসিক নির্যাতনের মামলা হয়েছে। গত রোববার ঢাকার পল্লবী থানায় মামলাটি করেছেন ইকরার বাবা কবির হায়াত খান। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, বিয়ের পর থেকেই যাহের আলভী তাঁর মার প্ররোচনায় ইকরাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন।

মৃত্যুর ঘটনা ও তদন্ত

শনিবার মিরপুর ডিওএইচএসের বাসায় ফ্যানে ইকরার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পরিবার। তাঁকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় একটি নাটকের শুটিং নেপালে ছিলেন যাহের আলভী। রোববার পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম আলমগীর জাহান প্রথম আলোকে জানান, মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলমান। তিনি বলেন, 'আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।'

মামলার অভিযোগ ও পারিবারিক দ্বন্দ্ব

মামলার এজাহারে দাবি করা হয়, যাহের আলভী ও তাঁর মা প্রায়ই ইকরাকে অপমান করতেন এবং তাঁদের জীবন থেকে সরে যাওয়ার জন্য চাপ দিতেন। প্রায় দুই বছর আগে ইকরা জানতে পারেন, তাঁর স্বামী অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এর পর থেকেই স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ বাড়তে থাকে। বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করেও সফল হননি ইকরার পরিবার। মামলায় আলভীর মাকে ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে।

সমাহিত ও নিরাপত্তা ঝুঁকির দাবি

রোববার ময়মনসিংহের ভালুকায় ইকরাকে সমাহিত করার সময় সেখানে ছিলেন না যাহের আলভী। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা হয়। যাহের আলভী দাবি করেন, ঢাকায় ফেরার উড়োজাহাজের টিকিট কেটে নেপালে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার পরও নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে ফিরে যান। তিনি বলেন, 'আমার কাছে এমন তথ্য এসেছে, বিমানবন্দরের বাইরে লোক রাখা আছে। দেশে আসামাত্রই তারা আমাকে মেরে ফেলবে।'

এই ঘটনা ঢালিউড ও টেলিভিশন জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, এবং মানসিক নির্যাতন ও পারিবারিক সহিংসতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সামনে এনেছে। তদন্তের অগ্রগতি ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে সংশ্লিষ্টরা নজর রাখছেন।