ইকরার আত্মহত্যা মামলায় আদালতের নির্দেশ: ১৫ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন জমা
ছোট পর্দার অভিনেতা যাহের আলভী ও তার মা নাসরিন সুলতানা শিউলির বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচণার মামলায় আদালত ১৫ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন এ আদেশ প্রদান করেন।
মামলার পটভূমি ও ঘটনার বিবরণ
শনিবার দুপুরে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় যাহের আলভীর বাসা থেকে তার স্ত্রী আফরা ইবনাত ইকরার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ইকরাকে উদ্ধার করেন। তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে পুলিশ খবর পেয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করাসহ বাসা থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।
আসামিদের অবস্থান ও অভিযোগ
অভিনেতা যাহের আলভী বর্তমানে নেপালে শুটিংয়ে রয়েছেন। তিনি ফেইসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে স্ত্রীর আত্মহত্যার খবর দেন এবং ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, ইকরার মামা শেখ তানভীর আহমেদ শনিবার রাতেই পল্লবী থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে মামলাটি দায়ের করেন। তার অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণেই ইকরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।
আদালতের কার্যক্রম ও নির্দেশনা
সোমবার প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, রোববার বিকালে মামলার এজাহার আদালতে আসে। আদালত তা গ্রহণ করে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে।
মামলার আরেক আসামি হিসেবে আলভীর মা নাসরিন সুলতানা শিউলির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতের এ নির্দেশনার পর পুলিশ তদন্ত ত্বরান্বিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিবারের প্রতিক্রিয়া ও অতীত ইতিহাস
ইকরার লাশ উদ্ধারের পর ফেইসবুক পোস্টে অভিনেতা আলভী লিখেছিলেন, "আজ দুপুরে মিরপুর ডিওএইচএসের বাসায় আমার স্ত্রী ইকরা আত্মহত্যা করেছে। আমি নেপালে শুটিংয়ে ছিলাম। খবরটা শোনার পর থেকে কথা বলার মত অবস্থায় নেই। আমি বুঝতে পারছি না আমাদের সন্তান আর আমার কথা না ভেবে সে কেন এভাবে চলে গেল।"
যাহের আলভী ও আফরা ইবনাত ইকরা ২০১০ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের সংসারে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। এই ট্র্যাজেডি পরিবারটিকে গভীর শোকে নিমজ্জিত করেছে।
আদালতের নির্দেশনার পর এখন পুলিশের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে মামলাটির পরবর্তী কার্যক্রম। সামাজিক মাধ্যম ও গণমাধ্যমে এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।



