সুসান সারানডনের অভিজ্ঞতা: গাজা সমর্থনে বক্তব্য, হলিউডে চাকরি হারানো ও ইউরোপে নতুন সুযোগ
হলিউডের খ্যাতনামা অভিনেত্রী সুসান সারানডন গাজায় যুদ্ধবিরতি দাবি করার পর তার চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ক্যারিয়ারে বড় ধাক্কা খেয়েছেন। তিনি সম্প্রতি এক আলোচনায় অংশ নিয়ে জানিয়েছেন, গাজা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবাদী মিছিল ও বক্তব্য দেওয়ার কারণে তার এজেন্সি তাকে বরখাস্ত করেছে। এর পর থেকে বড় হলিউড প্রজেক্ট বা টেলিভিশনে কাজ করা তার জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে গেছে।
এজেন্সি থেকে বরখাস্ত ও হলিউডে কাজের সীমাবদ্ধতা
সুসান সারানডন বলেন, ‘আমার এজেন্সি আমাকে বরখাস্ত করেছে, বিশেষ করে গাজার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবাদী মিছিল ও বক্তব্য দেওয়ার কারণে। এর পর থেকে বড় হলিউড প্রজেক্ট বা টেলিভিশনে কাজ করা আমার জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে গেছে।’ গত ২৭ ফেব্রুয়ারি এক আলোচনায় অংশ নিয়ে ৭৯ বছর বয়সী অভিনেত্রী এই কথা তুলে ধরেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালে ফিলিস্তিনের পক্ষে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার পর তার এজেন্সি তার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে দেয়, যা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
ইউরোপে নতুন সুযোগ ও স্বাধীন চলচ্চিত্রে কাজ
সারানডন আরও জানান, শেষ পর্যন্ত তিনি ইউরোপে, বিশেষ করে ইংল্যান্ড ও ইতালিতে নতুন এজেন্টের সাহায্যে কাজের সুযোগ পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ইতালিতে একটি সিনেমা করেছি এবং থিয়েটারে কয়েক মাস ধরে অভিনয় করেছি। এমনকি কিছু আন্তর্জাতিক পরিচালককে আমাকে তাঁদের প্রকল্পে নিতে নিষেধ করা হয়েছে, তবে তাঁরা তা মানেননি। বর্তমানে আমি মূলত স্বাধীন সিনেমা ও ছোট প্রজেক্টে কাজ করছি।’ এর পর থেকে সারানডন ইউরোপের স্বাধীন চলচ্চিত্র প্রযোজক ও ছোট প্রকল্পে কাজ করছেন, যা তার ক্যারিয়ারে নতুন সম্ভাবনার দিকে নিয়ে গেছে।
শিল্পের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক দমন নিয়ে মন্তব্য
সুসান সারানডন স্পেনের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্বাধীনতার একটি শক্তিশালী উদাহরণ তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ‘যেখানে দমন ও সেন্সরশিপ আছে, সেখানে স্পেনের প্রেসিডেন্ট এবং সুপরিচিত অভিনেতারা, যেমন হাভিয়ের বারডেম, গাজার জন্য দৃঢ় সমর্থন প্রকাশ করছেন। এটি আমাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।’ তার মতে, শিল্পী হিসেবে কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়ার কারণে তার ওপর যেসব চাপ এসেছে, তা শিল্পের স্বাধীনতা ও মুক্তচিন্তার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে।
সুসান সারানডন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে আমার অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, কোনো বড় এজেন্সি বা প্রযোজনা সংস্থা রাজনৈতিক কারণে শিল্পীকে সরিয়ে দিতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে আমার কাজের সুযোগ রয়েছে, যা আমাকে নতুন সম্ভাবনার দিকে নিয়ে গেছে।’ এই ঘটনা শিল্প জগতে রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রভাব এবং শিল্পীদের স্বাধীনতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
