ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যু: স্বামী জাহের আলভী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের
আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্বামী অভিনয়শিল্পী জাহের আলভী ও শাশুড়ি নাসরিন সুলতানা শিউলির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ রোববার ঢাকার পল্লবী থানায় এই মামলা করা হয়। মামলার বাদী হিসেবে ইকরার বড় মামা শেখ তানভীর আহমেদ নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম আলোকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন তানভীর আহমেদ।
মামলার অভিযোগ ও তদন্তের অগ্রগতি
মামলার অভিযোগপত্রে জাহের আলভী ও নাসরিন সুলতানা শিউলির বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার পাশাপাশি দুই বছর ধরে অবহেলা এবং নির্যাতনের বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে। পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আলমগীর জাহান জানিয়েছেন, 'মামলা হয়েছে। তদন্ত চলমান। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।'
তদন্ত–সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, এজাহারের একটি কপি বিমানবন্দরের অভিবাসন পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। যেহেতু অভিযুক্ত আসামি জাহের আলভী দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, তাই দেশে প্রবেশের পর দ্রুত গ্রেপ্তার করার জন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ইকরার মৃত্যু ও পটভূমি
ছোট পর্দার অভিনয়শিল্পী জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরা আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। ইকরার মৃত্যুর পরপরই একজন অভিনয়শিল্পী সহকর্মীর সঙ্গে জাহের আলভীর কথিত প্রেমের সম্পর্কের কথা সামনে এসেছে। বিবাহবহির্ভূত এই সম্পর্কের জেরে ইকরা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন, এমনটাই অভিযোগ ইকরার মা রেবেকা সুলতানা ও তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের, এমনকি বন্ধুদেরও।
ইকরার বান্ধবী সামিয়া আলম জানিয়েছেন, 'ইকরা আত্মহত্যা করার মতো মেয়েই নন। কী পরিমাণ কষ্ট আলভী দিয়েছেন, যে কারণে ইকরা আত্মহত্যা করেছেন, তা জানা দরকার।' ইকরার মৃত্যুকে ঘিরে দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে স্বামীর পরকীয়া ও অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসে। মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইকরার ব্যক্তিগত চ্যাট ফাঁস হয়, যা থেকে এই বিষয়টি ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়।
দাম্পত্য জীবন ও শেষকৃত্য
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ৯ নভেম্বর ভালোবেসে গোপনে বিয়ে করেন আলভী ও ইকরা। তাঁদের সংসারে রিজিক নামের এক পুত্রসন্তান রয়েছে। ইকরার মৃত্যুর পর সকালে তাঁর ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামা তানভীর আহমেদ। এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ময়মনসিংয়ের ভালুকার ধীতপুর ইউনিয়নে তাঁর গ্রামের বাড়িতে। সেখানে পারিবারিক করবস্থানে বাদ আসর সমাহিত করা হয় ইকরাকে।
এই ঘটনা টেলিভিশন জগত ও সামাজিক মাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যেখানে নারী নির্যাতন ও মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো উঠে এসেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এখন তদন্ত জোরদার করে আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
