শাহরুখ খানের অন্তরঙ্গ স্বীকারোক্তি: পরিবারই আমার নর্থ স্টার
বলিউডের কিং খান শাহরুখ খানকে আমরা সাধারণত পর্দার ঝলমলে আলোয় দেখি, কিন্তু তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের গল্প অনেকটাই ভিন্ন। সম্প্রতি একান্ত সাক্ষাৎকারে অভিনেতা তাঁর ক্যারিয়ারের উত্থান–পতন, দীর্ঘ বিরতি ও নতুন করে ফিরে আসার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘আমার সন্তানরাই আমার সবচেয়ে বড় সমালোচক। পরিবারই আমার নর্থ স্টার, যারা আমাকে মাটিতে পা রেখে চলতে শেখায়।’
ক্যারিয়ারের বিরতি ও পরিবারের সঙ্গে সময়
২০১৮ সালে ‘জিরো’ ছবির বাণিজ্যিক ব্যর্থতার পর অনেকেই ধারণা করেছিলেন যে শাহরুখ খানের তারকাখ্যাতির যুগ শেষের দিকে। সেই সময় তিনি কাজ থেকে পরিকল্পিত বিরতি নেন, যা মহামারির কারণে প্রায় চার বছর পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হয়। কিন্তু এই বিরতিই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পরিবারকে সময় দেওয়া, সন্তানদের সঙ্গে কাছাকাছি থাকা—এসব অভিজ্ঞতা তাঁকে নতুনভাবে ভাবতে ও জীবনকে মূল্যায়ন করতে সাহায্য করে। এরপরই আসে তাঁর দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, যার মধ্যে রয়েছে ‘পাঠান’, ‘জওয়ান’ ও ‘ডানকি’র মতো সফল চলচ্চিত্র।
সাফল্যের নতুন সংজ্ঞা: উত্তরাধিকার ও মূল্যবোধ
শাহরুখ খান তাঁর সাক্ষাৎকারে জোর দিয়েছেন যে সাফল্য কেবল ক্যারিয়ারের অর্জনে মাপা যায় না। বরং সন্তানদের সঙ্গে গড়ে ওঠা স্মৃতি, পরিবারের কাছ থেকে শেখা মূল্যবোধ—এসবই তাঁর আসল উত্তরাধিকার। তিনি বলেন, ‘কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও বাবা হয়ে থাকার ছোট ছোট মুহূর্তগুলোকে আমি হারাতে চাই না।’ পরিবারের সঙ্গে এই সংযোগের একটি বিশেষ দিক উঠে এসেছে ‘দ্য লায়ন কিং’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। ২০১৯ সালে এই রিমেকে তিনি মুফাসার কণ্ঠ দেন, আর তাঁর বড় ছেলে আরিয়ান খান প্রথমবার ভয়েস আর্টিস্ট হিসেবে সিম্বা চরিত্রে কাজ করেন। পরে ছোট ছেলে আব্রাম খানও এই ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যুক্ত হন।
সন্তানদের সঙ্গে কাজ: আবেগঘন অভিজ্ঞতা
শাহরুখ খান জানান, সন্তানদের সঙ্গে একই প্রজেক্টে কাজ করা তাঁর জন্য ছিল এক আবেগঘন অভিজ্ঞতা। তাঁর ভাষ্যে, ‘আমি ওদের কিছু শিখিয়েছি ঠিকই, কিন্তু ওদের কৌতূহল আর নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আমাকে অনেক কিছু নতুন করে দেখতে শিখিয়েছে।’ কন্যা সুহানা খানের সিনেমায় পথচলা, আরিয়ানের নির্মাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ—সবকিছুই তাঁকে একজন গর্বিত বাবায় পরিণত করেছে। তিনি বলেন, ‘ওদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেদের পথ তৈরি করতে দেখা আমার জন্য সবচেয়ে বড় আনন্দ।’
উত্তরাধিকার ও স্বাধীনতার বার্তা
শাহরুখের কথায় বারবার ফিরে আসে ‘লিগ্যাসি’ বা উত্তরাধিকার প্রসঙ্গ। তাঁর কাছে উত্তরাধিকার মানে শুধু সিনেমার সাফল্য নয়, বরং সন্তানদের স্বাধীনভাবে বড় হতে দেওয়া। নিজের বাবাকে অল্প বয়সে হারানোর স্মৃতি টেনে তিনি বলেন, একজন অভিভাবক হিসেবে তিনি সন্তানদের পথ দেখাতে চান, কিন্তু নিজের মতো করে চলার স্বাধীনতাও দিতে চান। এই সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে শাহরুখের জীবনের আরেকটি আবেগঘন স্মৃতি—মুম্বাইয়ে প্রথম আসার সময়ের অনিশ্চয়তা। দিল্লি থেকে স্বপ্ন নিয়ে আসা এক তরুণ হিসেবে তিনি সমুদ্রের ধারে দাঁড়িয়ে ভাবতেন, ভবিষ্যৎ কোথায়। আজ বহু বছর পর সেই একই সমুদ্রের সামনে দাঁড়ানো ‘মান্নত’ প্রাসাদ যেন তাঁর দীর্ঘ যাত্রার প্রতীক। শাহরুখের ভাষায়, ‘সমুদ্র মানুষকে নম্র হতে শেখায়। বুঝিয়ে দেয়, সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করার দরকার নেই।’
ডিজনি ক্রুজ লাইনের বিশেষ মুহূর্ত
সম্প্রতি ডিজনি ক্রুজ লাইনের ‘দ্য লায়ন কিং’–এ কণ্ঠ দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘খোলা সমুদ্রের ওপর ভেসে থাকা মানুষ যখন তাঁর কণ্ঠ শুনবে—সেটা তাঁর কাছে যেন এক বিশেষ “সার্কেল অব লাইফ” মুহূর্ত।’ এই সাক্ষাৎকারে শাহরুখ খান শুধু একজন তারকা নন, একজন পারিবারিক মানুষ হিসেবেই নিজেকে উপস্থাপন করেছেন, যা তাঁর ভক্তদের কাছে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এনে দিয়েছে।
