রুপালি পর্দার পর এবার রাজনীতির ময়দানেও ‘ব্লকবাস্টার’ সাফল্য দেখিয়েছেন দক্ষিণী সুপারস্টার থালাপতি বিজয়। তার নবগঠিত রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে) তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে ১০৮টি আসনে জয়লাভ করে একক বৃহত্তম দল হিসেবে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন, যার থেকে মাত্র ১০টি আসন দূরে অবস্থান করছে বিজয়ের দল।
দেহরক্ষীর রহস্যময় বার্তা
নির্বাচনী ফলাফলের পর সরকার গঠন নিয়ে যখন টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে, ঠিক সেই মুহূর্তে বিজয়ের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী আরুন সুরেশের একটি ইনস্টাগ্রাম স্টোরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। স্টোরিতে তিনি লিখেছেন, ‘মহাবিশ্ব কখনো ভুল করে না। ধৈর্য ধরুন... আরও বড় কোনো লক্ষ্য উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। শুভ দিন।’ বিজয়ের অনুসারীরা এই বার্তাকে বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগাম ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ‘বড় লক্ষ্য’ হতে পারে কোনো শক্তিশালী জোট গঠন বা সরকার গঠনের চূড়ান্ত ‘নীল নকশা’।
সরকার গঠনের পথে বিজয়
১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হলেও ম্যাজিক ফিগার ১১৮ ছুঁতে ব্যর্থ হয়েছে টিভিকে। তবে সূত্রের খবর, বিজয় ইতোমধ্যেই ছোট দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন। দুই রাজনৈতিক দল ভিসিকে এবং আইইউএমএল ইতোমধ্যেই বিজয়কে নিঃশর্ত সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছে। জোটের সমীকরণে কংগ্রেসের ৫ জন এবং বামপন্থী দলগুলোর সমর্থনে বিজয়ের জোটের শক্তি ১২০-এ পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যা তাকে অনায়াসেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দেবে।
কলিউডের সমর্থন
বিজয়ের এই অভাবনীয় সাফল্যে উচ্ছ্বসিত তামিল চলচ্চিত্র জগৎ (কলিউড)। অভিনেতা বিশাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘তামিলনাড়ুতে টিভিকে-কে ছাড়া কোনো জোট কল্পনা করা অসম্ভব এবং বিস্ময়কর।’ এছাড়া খুশবু সুন্দরসহ বহু তারকা বিজয়কে অগ্রিম অভিনন্দন জানিয়েছেন।
নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়
ছয় দশকের পুরোনো দ্রাবিড় রাজনীতির দ্বিমেরু আধিপত্য ভেঙে বিজয়ের এই উত্থানকে ভারতীয় রাজনীতির এক নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজভবনের সবুজ সংকেত পেলেই সম্ভবত আজ বা কালকের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর ওরফে থালাপতি বিজয়। সূত্র: ইন্ডিয়া ডটকম।



