মুম্বাইয়ের ২৬/১১ সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে নির্মিত ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’ সিনেমার ট্রেলার প্রকাশিত হয়েছে। এই ছবিতে একজন নার্সের চরিত্রে অভিনয় করেছেন বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি ছবির বিষয়বস্তু ও নার্সদের পেশা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তাদের পোশাক পরিবর্তনের দাবি জানান।
নার্সদের ইউনিফর্মে পরিবর্তন জরুরি
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কঙ্গনা মনে করেন বর্তমানে চিকিৎসকদের পোশাকের ক্ষেত্রে অনেক বেশি স্বাধীনতা থাকলেও নার্সদের এখনও নির্দিষ্ট ও ঐতিহ্যবাহী ইউনিফর্ম পরতে হয়। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় ব্রিটিশ আমলের নার্সদের ড্রেস কোড আমাদের দেশে এখনও চালু রয়েছে। চিকিৎসকেরা নিজেদের পছন্দমতো পোশাক পরতে পারলেও নার্সদের ক্ষেত্রে গরম বা শীত—সব ঋতুতেই এক ধরনের বিদেশি ধাঁচের ইউনিফর্ম পরতে দেখা যায়।’
ইউনিফর্মের ইতিহাস ও প্রস্তাব
ইউনিফর্মের ইতিহাস টেনে কঙ্গনা বলেন, এই পোশাকে ব্যবহৃত পিন, ক্যাপ বা বেল্ট মূলত প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার মার্কিন নৌবাহিনীর প্রভাব থেকে এসেছে। তবে তিনি পরিষ্কার জানান, ভবিষ্যতে ইউনিফর্মে কোনো পরিবর্তন এলে তা নার্সদের নিজস্ব প্রয়োজন ও মতামতের ভিত্তিতেই হওয়া উচিত। নার্সদের স্বস্তির কথা মাথায় রেখে যদি ইউনিফর্মে একটি ‘ভারতীয় ছোঁয়া’ আনা যায়, তবে তা অত্যন্ত ইতিবাচক হবে বলে তিনি মনে করেন।
নার্সিং পেশার প্রতি সমাজের নোংরা মানসিকতার সমালোচনা
পোশাকের পাশাপাশি নার্সিং পেশাকে কেন্দ্র করে সমাজের কিছু নোংরা মানসিকতারও সমালোচনা করেন কঙ্গনা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নার্সদের কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এই পেশাকে প্রায়ই ‘যৌনতার’ সঙ্গে যুক্ত করে নানা রকমের মন্তব্য করা হয়। আমার মনে হয় নার্সিং এমন একটি পেশা, যেটিকে সমাজে সবচেয়ে বেশি যৌনতার দৃষ্টিতে দেখা হয়। মানুষের এই ধারণা ও মনোভাব দ্রুত পরিবর্তন হওয়া উচিত।
সিনেমায় নার্স চরিত্রের গুরুত্ব
ছবিতে নিজের চরিত্রটি নিয়ে অভিনেত্রী বলেন, তারা সিনেমাটিতে অত্যন্ত সততা ও মর্যাদার সঙ্গে কাজ করেছেন। হাসপাতালের পুরো ব্যবস্থাকে সচল রাখতে নার্সদের অবদান চিকিৎসকদের চেয়ে কম নয় উল্লেখ করে কঙ্গনা বলেন, হাসপাতালের কথা ভাবলেই আমরা শুধু চিকিৎসকদের কথা ভাবি। তাদের অবদান অপরিসীম ঠিকই, কিন্তু যে লক্ষ লক্ষ নার্স ও কর্মী প্রতিদিন এই পুরো ব্যবস্থাকে সচল রাখছেন, আমাদের তাদের কথাও ভাবা উচিত।



