একসময় ১৩টি ধারাবাহিকে অভিনয়, এখন অডিশনে প্রত্যাখ্যাত অনিতা কানওয়াল
একসময় ১৩টি ধারাবাহিকে অভিনয়, এখন অডিশনে প্রত্যাখ্যাত

একসময় ভারতীয় টেলিভিশনের সবচেয়ে ব্যস্ত অভিনেত্রীদের একজন ছিলেন অনিতা কানওয়াল। তিনি একই সময়ে ১৩টি ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন এবং জনপ্রিয় সিরিয়ালের পরিচিত মুখ ছিলেন। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে শাহরুখ খানের সঙ্গেও কাজ করেছেন তিনি। কিন্তু সেই অনিতা কানওয়াল এখন বলছেন, অডিশনে গিয়ে বারবার প্রত্যাখ্যাত হচ্ছেন, কাজ পাচ্ছেন না, এমনকি কখনো কখনো নিজের অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন জাগে তাঁর মনে।

অনিতার কঠিন বাস্তবতা

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের কঠিন বাস্তবতার কথা খুলে বলেছেন অনিতা কানওয়াল। আশির দশক থেকে দুই হাজারের শুরুর সময় পর্যন্ত ভারতীয় টেলিভিশনের অত্যন্ত পরিচিত মুখ ছিলেন তিনি। সেই সময়ের দর্শকদের কাছে তিনি ছিলেন ঘরের মানুষ।

অনিতা জানান, একটা সময় ছিল, যখন তিনি একসঙ্গে ১৩টি টেলিভিশন শোতে কাজ করতেন। নব্বইয়ের দশকের ভারতীয় টিভির সোনালি সময়ে তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। বিভিন্ন সিরিয়ালে মায়ের চরিত্র, কঠোর অথচ আবেগপ্রবণ নারী কিংবা কর্তৃত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শাহরুখ খানের সঙ্গে কাজ

অনিতা ছিলেন জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ‘সার্কাস’-এর অংশ, যেখানে অভিনয় করেছিলেন তরুণ শাহরুখ খানও। বলিউডে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার আগেই সেই সিরিজে কাজ করেছিলেন শাহরুখ। পরে ‘কাভি হ্যাঁ কাভি না’ ছবিতেও শাহরুখের সঙ্গে পর্দা ভাগ করেছিলেন অনিতা। সেখানে তিনি অভিনেতার মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেন।

অডিশনে প্রত্যাখ্যান

তবে ক্যারিয়ারের এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পরও আজ তাঁকে নিয়মিত অডিশন দিতে হচ্ছে। আর সেই অডিশন থেকেই ফিরতে হচ্ছে হতাশ হয়ে। ইউটিউবার সিদ্ধার্থ কানানের সঙ্গে আলাপচারিতায় অনিতা বলেন, ‘আমি একসময় ১৩টি শোতে একসঙ্গে কাজ করতাম। মানুষ যখন আপনাকে ভুলে যেতে শুরু করে, তখন খুব কষ্ট হয়। এমন একটা সময় আসে, যখন নিজেকে ধ্বংস করে দিতে ইচ্ছা করে। মাত্র তিন দিন আগে মেয়েকে বলেছি, আমি তাহলে বেঁচে আছি কেন? সমাজের জন্য বা শিল্পের জন্য এখন আমি কী অবদান রাখছি?’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অনিতা আরও বলেন, ‘এই ইন্ডাস্ট্রিকে আমি অনেক কিছু দিয়েছি। সব ধরনের চরিত্র করেছি, অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছি। তাহলে দোষটা কার—আমার, নাকি ইন্ডাস্ট্রির?’

আত্মসন্দেহ ও বয়সের প্রশ্ন

বর্তমান পরিস্থিতি যে অনিতাকে মানসিকভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে, সেটিও অকপটে স্বীকার করেছেন অভিনেত্রী। তাঁর ভাষায়, এখন তিনি আত্মসন্দেহে ভোগেন। ভাবেন, তাঁর মধ্যেই কি কোনো সমস্যা আছে? বয়স বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু তাই বলে কি তাঁর আর কোনো চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ নেই?

‘আমি তো ১২ বছরের মেয়ের চরিত্র চাইছি না। ৭০ বছরের চরিত্র দিন। আমার বয়সী আরও অনেকে তো কাজ পাচ্ছেন। তাহলে আমি কেন পাচ্ছি না?’ বলেছেন অনিতা।

একটি অডিশনের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন অনিতা। তিনি বলেন, এক সহকারী তাঁকে নিজের পরিচয় দিতে বলেন। উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি অনিতা কানওয়াল। তোমাদের অনেকের জন্মের আগ থেকেই অভিনয় করছি।’ এরপর ঘর একেবারে চুপ হয়ে যায়। পরে হাসতে হাসতে যোগ করেন, ‘অবশ্য শেষ পর্যন্ত আমি সেই চরিত্রটা পাইনি।’

ওটিটি প্ল্যাটফর্মের যুগে হতাশা

অনিতার কথায় উঠে এসেছে আরেকটি হতাশাও। তাঁর দাবি, আগে তাঁকে বলা হতো টেলিভিশনে তাঁর মুখ খুব বেশি দেখা যাচ্ছে। কিন্তু গত আট বছর ধরে তিনি টিভিতে নিয়মিত কাজই করছেন না। অথচ এখন ওটিটি প্ল্যাটফর্মে একই অভিনেতাদের বারবার দেখা যায়।