আলী যাকেরের স্মৃতিতে গ্রন্থপাঠ উদ্যোগের পুরস্কার বিতরণ
আলী যাকেরের স্মৃতিতে গ্রন্থপাঠ উদ্যোগের পুরস্কার বিতরণ

নাট্যাঙ্গনের দিকপাল ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি আলী যাকেরের স্মৃতি ধরে রাখতে আয়োজিত ‘আলী যাকের মুক্তিযুদ্ধের গ্রন্থপাঠ উদ্যোগ’-এর সনদ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বই পাঠ প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের সেরা ২০ শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়। পাশাপাশি এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত থাকার জন্য ২০টি পাঠাগারকেও সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

আজ শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে এই আয়োজন সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এবং সহযোগিতা করে ‘মঙ্গল দীপ ফাউন্ডেশন’। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৪৭টি পাঠাগারের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্য

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ বলেন, আলী যাকের প্রমাণ করেছেন নাটক মুক্তিযুদ্ধের ফসল। তাঁর মঞ্চে কখনো মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কোনো শব্দ উচ্চারিত হয়নি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে মামুনুর রশীদ বলেন, ‘আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় আনন্দ নেই। শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবই পড়তে বাধ্য করা হয়। কিন্তু অপাঠ্য বইয়ের মধ্যে যে আনন্দ ও শিক্ষা আছে, তা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছে। কেবল নম্বরের প্রতিযোগিতা দিয়ে শিক্ষিত ও মানবিক সমাজ গড়া সম্ভব নয়। এই প্রতিযোগিতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।’ পাঠাগারগুলোর সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক দলগুলো পাঠাগার পরিচালনায় সহায়তা না করে উল্টো সমস্যা সৃষ্টি করে।

সারা যাকেরের বক্তব্য

আলী যাকেরের স্ত্রী ও নাট্যজন সারা যাকের বলেন, ‘বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রাদুর্ভাব তরুণ সমাজকে বিষাক্ত (টক্সিক) করে তুলছে। এই সময়ে তরুণদের বই পড়া খুবই জরুরি। আমরা চাই নতুন প্রজন্ম ডিজিটাল পর্দার প্রভাব থেকে দূরে সরে বইমুখী হোক।’ এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে চলমান থাকবে বলেও জানান তিনি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শ্রিয়া সর্বজয়ার বক্তব্য

আলী যাকেরের কন্যা শ্রিয়া সর্বজয়া বলেন, নিজেকে জানতে হলে দেশের ইতিহাস জানা জরুরি। দেশটা কীভাবে হলো, তা না জানলে সামনে এগোনো যায় না। বই হলো স্বপ্নের বড় প্রভাবক।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বেসরকারি গ্রন্থাগার সংহতির আহ্বায়ক শাহ নেওয়াজ এবং জুরিবোর্ডের সদস্য হেনা সুলতানা। সমাপনী বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান।

পুরস্কার ও অংশগ্রহণ

স্কুলপর্যায়ে হুমায়ূন আহমেদের ‘অনিল বাগচীর একদিন’ এবং কলেজ পর্যায়ে মাহমুদুল হকের ‘খেলাঘর’ উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে ৩৪০টি পাঠ প্রতিক্রিয়া জমা পড়েছিল। এর মধ্য থেকে দুই পর্যায়ে ১০ জন করে মোট ২০ জন সেরা শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়। এ ছাড়া প্রতিটি পাঠাগারকে ১০ হাজার টাকার বই উপহার দেওয়া হয়।