বৃষ্টিদিনে চায়ের কাপে ভেসে আসা নস্টালজিয়া ও ভালোবাসার গল্প
বৃষ্টিদিনে চায়ের কাপে নস্টালজিয়া ও ভালোবাসা

বৃষ্টিদিনে এক কাপ চায়ে আমি তোমাকে চাই—এই অনুভূতি যেন বাঙালির মননে গেঁথে আছে। মডেল আহানাফ ও সাবরিনের অংশগ্রহণে ‘রং বাংলাদেশ’-এর পোশাকে, ‘পারসোনা’-র সাজে, ‘প্রেরণা প্রাঙ্গণে’ তোলা ছবি সুমন ইউসুফের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। ফটোশ্যুট সমন্বয় করেছেন বিপাশা রায়।

বৃষ্টির রূপ-রঙের বর্ণনা

বাংলাদেশের বৃষ্টি যেন এক স্বর্গীয় অনুভূতি। টিনের চালে, শজনে ডালে, কদমতলে, যমুনার কূলে, কংক্রিটের ছাদে, রিকশার হুডে, হলুদ সোনাব্যাঙ ছাওয়া মাঠে, কোমরডোবা রাজপথে—সর্বত্র বৃষ্টির আলাদা রূপ। কদমের কালচে সবুজ পাতার ফাঁকে সোনার চাঁদের মতো কদম ফুল ফোটে। বারান্দার টবে, বাগানের কাঁটামেহেদি বেড়ার পাশে, ফুটপাতের কিশোরীদের হাতে বেলি ফুলের সৌরভ ছড়ায়। রাতে গন্ধরাজের প্ররোচনাভরা সৌগন্ধ বাতাসে ভাসে।

বৃষ্টি আর চায়ের সম্পর্ক

বর্ষার সঙ্গে চায়ের সম্পর্ক জন্মগত। যেখানে বৃষ্টি বেশি, সেখানেই চা চাষ ভালো হয়। এই দিনে চা-পান যেন এক বিলাসিতা। হালকা লেবু-চা, সুগন্ধি ব্লেন্ডারস চয়েস, কিংবা বাংলার বিখ্যাত কালো পাতির কড়া দুধ-চা—সবই চলে। এমনকি হলুদ চা (টারমারিক) সর্বরোগের দাওয়াই বলে বিবেচিত।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

একজন বলেন, ‘গ্রিন টি খেলে বয়স স্থির থাকে, এতে চিনি লাগে না, মেহমান এলে বিস্কুটের পয়সা বেঁচে যায়, আর একবার মেহমান গ্রিন টি খেয়ে গেলে আর কোনো দিনও সে বাসামুখী হয় না।’ অন্যজন জবাব দেন, ‘যাও! ফাজলামো করছ! গ্রিন টি আমার খুবই প্রিয়।’ ‘তবে খাও। চিরসবুজ চির আয়ুষ্মতী হও।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বৃষ্টি-চায়ের ব্যক্তিগত স্মৃতি

বৃষ্টিদিনে নস্টালজিয়া ভিড় করে। লেখকের একটি স্মৃতি: কবি হেলাল হাফিজের সংবর্ধনায় নেত্রকোনা গিয়েছিলেন। ফেরার বাস সকাল ৬টায়, পৌষ মাসের ঘোরতর শীত ও কুয়াশা। বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখেন বাস স্টার্ট দিয়েছে, কিন্তু চায়ের দোকানে কেটলিতে পানি ফুটছে। চা না খেয়ে যাওয়া চলে না, তাই বাস ছেড়ে দিলেন। চা খেয়ে পরের বাসে উঠলেন। আধঘণ্টা পর দেখেন, সামনের বাস অ্যাকসিডেন্ট করেছে—একটি ট্রাকের পেছনে ধাক্কা মেরে যাত্রীদের নাক ভেঙে গেছে। ‘ভাগ্যিস চা খাব বলে প্রথম বাস ছেড়ে দিয়েছিলাম!’

আরেকটি স্মৃতি: বুয়েটে পড়ার সময় কবিতার কামড়ে অস্থির যুবকেরা শহীদ মিনারের পাশে ট্র্যাফিক আইল্যান্ডে বসে তৌকীর আহমেদের আবৃত্তি শুনছিলেন। রাত দুইটা, চায়ের তেষ্টা পেয়ে তারা ঢাকা মেডিক্যাল ক্যানটিনে চলে যান। ফেরার পথে দেখেন, একটি ধাবমান ট্রাক ওই আইল্যান্ডকে ধুলার সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে। ‘জীবন বেঁচে গেল।’

বৃষ্টি ও ভালোবাসার কবিতা

বৃষ্টি মানে ভালোবাসার কথা বলার অবকাশ। শায়েরি দিয়ে বলা যায়: ‘এয় আব্রে করম থম থম কে বরস, ইতনা না বরস কে ও আ না সকে / জাব আ জায়ে তো জম কে বরস ইতনা বরস কে ও জা না সকে।’ অর্থাৎ হে দয়ালু মেঘ, থেমে বরষাও, এমন বর্ষণ কোরো না যেন সে আসতে না পারে। সে এসে গেলে ঘন বর্ষণ করো, এমন বর্ষণ করো যেন সে ফিরে যেতে না পারে।—আজমল রাজা কাদরি।

তখন ওরা দুজন চা খাবে। বাংলা সিনেমায় এর চেয়ে বেশি কিছু চলবে না। চুমুক চলবে কেবল চায়ের কাপে।