কবি নির্মলেন্দু গুণের ১৯৯১ সালের নির্বাচনী সাক্ষাৎকার: কুমির প্রতীকের গল্প
কবি নির্মলেন্দু গুণের নির্বাচনী সাক্ষাৎকার

কবি নির্মলেন্দু গুণ ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোণা-বারহাট্টা আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। তাঁর নির্বাচনী প্রতীক ছিল কুমির। প্রথমে তিনি আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে ব্যর্থ হওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেই সময় এই সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন লেখক গবেষক আনোয়ার কবির। লেখাটি পুনর্মুদ্রণ করা হলো আজ কবির জন্মদিনে শ্রদ্ধা জানিয়ে।

নির্বাচনে জয়ের আশা

নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হলে নির্মলেন্দু গুণ বলেন, "মারাত্মক প্রশ্ন। নির্বাচনের পূর্বে এই প্রশ্নের উত্তর দেয়া সম্ভব নয়। এরশাদের আমলে হয়তোবা এই প্রশ্নের উত্তর দেয়া সম্ভব হতো। কিন্তু এখন এরশাদের আমল নয়। সুতরাং এখন এই প্রশ্নের উত্তর দেয়া সম্ভব নয়। শুধু আশাবাদী এইটুকু বলতে পারি।"

জয়ী হলে পরিকল্পনা

নির্বাচনে জয়ী হলে তাঁর পরবর্তী লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, "পরবর্তী লক্ষ্য হবে আমার অবহেলিত এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিজেকে যুক্ত করা এবং জাতীয় সংসদে সাংবিধানিক সমস্যাগুলোর সমাধাকল্পে ভূমিকা রাখা। পাশাপাশি আমার ইচ্ছা আছে নির্বাচনি অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি চমৎকার গ্রন্থ রচনার।"

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রন্থটি পদ্যে না গদ্যে হবে—এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, "গ্রন্থটি হবে গদ্যে এবং রাজনীতি ভিত্তিক।" তিনি আরও জানান, পাঠকরা ভবিষ্যতে তাঁর কাছ থেকে পদ্য ব্যতীত অন্যান্য লেখাও পাবেন।

সংসদে কবিদের প্রতিনিধিত্ব

"আমি কবিদের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য পেশাজীবী হিসেবে সংসদে যাচ্ছি না। সুতরাং কবিদের প্রতি আমার বিশেষ কোনো দায়িত্ব থাকার কথা নয়। আমি সেখানে আমার এলাকার মানুষের প্রতিনিধি হিসাবে যাবো। সুতরাং সংসদে এলাকার সমস্যার কথাই বলব। তবে কবিদের সমস্যাকেও আমি নিশ্চয় তুলে ধরার চেষ্টা করব," বলেন তিনি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কুমির প্রতীকের অর্থ

নির্বাচনি প্রতীক কুমির নেওয়ার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে নির্মলেন্দু গুণ বলেন, "আমি নিজে অত্যন্ত নিরীহ মানুষ। তার উপর স্বতন্ত্র। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা আমাকে করুণার দৃষ্টিতে দেখুক এমন কোনো নিরীহ প্রতীক বেছে নেওয়াটা বোকামি হবে ভেবেই আমি এই প্রতীক বেছে নিয়েছি। আপনারা সবাই জানেন যে কুমির সমীহ আদায় করার মতো প্রাণী। জলের রাজা এবং প্রয়োজনে স্থলেও উঠে আসতে পারে।"

আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পাওয়া

প্রিয় দল আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পাওয়ায় তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, "প্রথমে কষ্ট পেয়েছিলাম। এখন এ নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই। আমার এলাকার মানুষ আমাকে ভালোবাসে। এই ভালোবাসা কোনো রাজনৈতিক দলের ভালোবাসার চেয়েও বড়।"

লেখা ছেড়ে রাজনীতি?

"লেখা ছেড়ে আসিনি। লেখা ছেড়ে এসেছি কে বললো? আরো নতুন করে লেখার প্রস্তুতিপর্ব হচ্ছে আমার এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ। এর ভেতর দিয়ে আমি আরো অনেক নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করছি," বলে জানান তিনি।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকারী ও কাদের সিদ্দিকী

বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য: "হত্যাকারীদের আমি অন্য সকল মানুষের মতোই ঘৃণা করি। বাংলার মাটিতে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার হবেই হবে...। খুনিরা ও তাদের সহযোগীরা এই হত্যাকাণ্ডে দণ্ড এড়াতে পারবে না।"

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর গ্রেফতারে তাঁর প্রতিক্রিয়া: "আমি তার মুক্তির দাবি করেছি। আমি মনে করি পুরস্কারের যোগ্য একজন বীরকে আমরা তিরস্কার করেছি। এটা অত্যন্ত দুঃখের বিষয়।"

এরশাদের বিচার

স্বৈরাচারী এরশাদের বিচারের ব্যাপারে তিনি বলেন, "দেশের প্রচলিত আইনে দেশের সকল নাগরিকই বিচারযোগ্য, সেক্ষেত্রে এরশাদ সাহেবেরও নিশ্চয় বিচার হবে। তার এমন কিছু অপরাধ আছে যা প্রচলিত আইনের আওতায় পড়ে না। সেসব বিচার করার জন্য প্রয়োজনবোধে নতুন আইন প্রণয়ন করা যেতে পারে। মোট কথা সমাজ ও রাজনীতিকে কলুষমুক্ত রাখার প্রয়োজনে আমাদের বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিতে হবে। এক্ষেত্রে আমাদের নমনীয়তা আমাদের ভবিষ্যতের জন্য হবে অত্যন্ত ক্ষতিকর।"