বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি ‘সোনালী কাবিন’ খ্যাত আল মাহমুদের ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ শনিবার। বহুমাত্রিক কাব্যভাষা, লোকজ ঐতিহ্য ও গ্রামীণ জীবনচিত্রের অনন্য শিল্পরূপের মাধ্যমে তিনি বাংলা কবিতায় নিজস্ব ধারা নির্মাণ করে গেছেন।
জন্ম ও পরিচিতি
আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ। তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মৌড়াইল এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। ষাটের দশকে ‘লোক লোকান্তর’ ও ‘কালের কলস’ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে তিনি বাংলা কবিতায় স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন। ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত ‘সোনালী কাবিন’ তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সারির কবিদের কাতারে প্রতিষ্ঠিত করে। ভাটি বাংলার নদী, চরাঞ্চলের জীবন, গ্রামীণ প্রেম-বিরহ, লোকজ সংস্কৃতি এবং আঞ্চলিক ভাষার সৃজনশীল ব্যবহারে তার কবিতা পেয়েছে স্বতন্ত্র শিল্পরূপ।
সাহিত্যকর্ম ও পুরস্কার
শিশুসাহিত্যিক ও সাংবাদিক হিসাবেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন আল মাহমুদ। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘পানকৌড়ির রক্ত’, ‘কবি ও কোলাহল’ এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘কাবিলের বোন’। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদকসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হন। ২০১৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন।
জন্মবার্ষিকীর আয়োজন
জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কবি আল মাহমুদ গবেষণা কেন্দ্র ও স্মৃতি পরিষদ তিন দিনব্যাপী স্মরণোৎসবের আয়োজন করেছে। আজ আলোচনা সভা, কবিতা পাঠ, স্মৃতিচারণ, সংগীতায়োজন, পদক প্রদান এবং সাহিত্যবিষয়ক বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপনী হবে।
সোনালী কাবিন পদক প্রদান
বাংলা সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের প্রখ্যাত কবি, সাহিত্যিক ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদারকে ‘সোনালী কাবিন পদক-২০২৬’ দেওয়া হচ্ছে। আজ অনুষ্ঠানের সমাপনী আয়োজনে এই পদক তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।



