নাট্যাঙ্গনে স্বস্তির হাওয়া, ঈদে নাটক শুটিং বেড়েছে ৫০-৬০ শতাংশ
প্রায় দেড় বছর ধরে অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাওয়া নাট্যাঙ্গনে এখন স্বস্তির পরিবেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে কাজের গতি বেড়েছে, কমেছে স্পনসর সংকট। ঈদ উপলক্ষে গত বছরের তুলনায় নাটক শুটিং বেড়েছে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ, যা নির্মাতা ও অভিনেতাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
নির্মাতাদের মধ্যে কাজের উৎসাহ
নির্মাতা মোস্তফা কামাল রাজ বলেন, ‘সবার মধ্যেই নির্বাচনের পর কাজ নিয়ে উৎফুল্লতা লক্ষ করছি। চারপাশে যাঁদেরই দেখছি, সবাই শুটিং করছেন। স্বাধীনভাবে কাজ করছেন। স্বস্তির একটি পরিবেশ দেখছি। আমাদের নির্মাতাদের জন্য এটা খুবই আনন্দের খবর।’ তিনি আরও জানান, গতবারের চেয়ে এবার নাটকের বাজেট বাড়ছে এবং স্পনসর পাওয়া সহজ হয়েছে।
কাজের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি
দুই থেকে তিন বছর আগে প্রতি ঈদে ৫০০ থেকে ৬০০ নাটক প্রচারিত হলেও গত কয়েক বছরে তা কমে ২০০ থেকে ১৫০-এ নেমে এসেছিল। এবার সেই সংখ্যা আবার বাড়ছে। প্রযোজকদের সংগঠনের সাবেক সভাপতি মনোয়ার পাঠান বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ সময় একটা অস্বস্তির মধ্যে ছিলাম। সামনে কী হবে, এই প্রশ্ন ঘুরছিল। এবার গতবারের চেয়ে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কাজ বাড়বে নিশ্চিত।’ অভিনেতা শামীম হাসান সরকারও কাজের পরিবেশকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
স্পনসর সংকটের সমাধান ও আটকে যাওয়া নাটক
গত বছর স্পনসর সংকটের কারণে অনেক নাটক রিলিজ করা যায়নি। এবার সেই অবস্থার উন্নতি হয়েছে। সিএমভির কর্ণধার শাহেদ আলী জানান, তিনি ইতিমধ্যে ৭০ শতাংশ নাটকের স্পনসর পেয়েছেন এবং বাকিগুলোর জন্য আশাবাদী। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘বড় বড় বেশ কিছু লগ্নিকারী এখনো মার্কেটে আসছে না। সবাই এলে কাজের পরিবেশ আরও বেশি স্বস্তিদায়ক হবে।’ এ বছর প্রচারিতব্য নাটকের একটি বড় অংশ গত বছর করা, যা এখন মুক্তি পাচ্ছে।
স্বস্তির পাশাপাশি অস্বস্তির ঘটনা
স্বস্তির মাঝেও কিছু অস্বস্তির কথা জানিয়েছেন অভিনেতা মুশফিক আর ফারহান। তিনি বলেন, ‘শনিবারে পুরান ঢাকায় একটি শুটিংবাড়িতে কাজ করছিলাম। একদল লোক এসে চাঁদা চেয়েছে। না দিলে শুটিং করতে দেবে না। পরিচালককে পরে বাধ্য হয়ে চাঁদা দিতে হয়েছে। এই ঘটনা আমার কাছে ভালো লাগেনি।’ ওই নাটকের পরিচালক মহিদুল মহিমও সময়ের চাপে টাকা দিতে বাধ্য হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
সামগ্রিকভাবে, নাট্যাঙ্গনে কাজের গতি ফিরে এলেও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে, যা সমাধানের দাবি রাখে।
