বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকের উত্তাল স্বদেশি আন্দোলন, উগ্র জাতীয়তাবাদ বনাম মানবিকতার সংঘাত এবং অন্তঃপুর থেকে এক নারীর বাইরের পৃথিবীতে পা রাখার টানাপোড়েন—এমনই প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস ‘ঘরে-বাইরে’। বইটি নিয়ে পাঠচক্রের আসর করেছে দিনাজপুর বন্ধুসভা।
পাঠচক্রের আয়োজন
১৩ মে বিকেলে প্রথম আলো দিনাজপুর অফিসে এটি অনুষ্ঠিত হয়। পাঠচক্রে ১৯১৬ সালে প্রকাশিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই রাজনৈতিক উপন্যাসের মূল ভাববস্তু ও বর্তমান সময়ে এর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
চরিত্র ও মনস্তাত্ত্বিক লড়াই
শুরুতেই উপন্যাসের প্রধান তিন চরিত্র—উদারমনা নিখিলেশ, আবেগপ্রবণ বিমলা এবং বিপ্লবী ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী সন্দীপের মধ্যকার মনস্তাত্ত্বিক লড়াই নিয়ে আলোচনা করা হয়। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিন নেওয়াজ বলেন, ‘স্বদেশী আন্দোলনের সময়কার অস্থিরতা কীভাবে মানুষের ব্যক্তিগত জীবন ও আদর্শকে প্রভাবিত করেছিল, রবীন্দ্রনাথ তা নিখুঁতভাবে এই উপন্যাসে ফুটিয়ে তুলেছেন।’
সমাজের বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা
বন্ধুরা তাঁদের আলোচনায় তুলে ধরেন যে নিখিলেশের আধুনিক ও সত্যনিষ্ঠ দৃষ্টিভঙ্গি এবং সন্দীপের কৌশলী রাজনীতির যে দ্বন্দ্ব উপন্যাসে দেখা যায়, তা আজও আমাদের সমাজের নানা স্তরে দৃশ্যমান। বিশেষ করে ‘ঘর’ বা ব্যক্তিগত জীবন এবং ‘বাহির’ বা সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনের যে সূক্ষ্ম ভারসাম্য, তা নিয়ে সবাই তাঁদের নিজস্ব বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।
পাঠচক্রের গুরুত্ব
সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিব ইসলাম বলেন, ‘নিয়মিত এ ধরনের পাঠচক্র বই পড়ার অভ্যাস তৈরিতে সাহায্য করে এবং জীবনকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে শেখায়।’ কার্যনির্বাহী সদস্য, দিনাজপুর বন্ধুসভা এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন এবং ভবিষ্যতে আরও এমন উদ্যোগের কথা জানান।



