ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মিউজিক বিভাগের শিক্ষার্থী সিনথিয়া অমি শাকিরার ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর থিম সং ‘ডাই ডাই’ কভার করে নেটদুনিয়ায় আলোচিত হয়েছেন। তাঁর কভার করা গানটি ইতিমধ্যে ২৩ লাখের বেশি দর্শক দেখেছেন। ভারত, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রশংসা পাচ্ছেন তিনি।
গান প্রকাশের গল্প
সিনথিয়া অমি প্রথম আলোকে জানান, ৭ জুন তিনি প্রথম গানটি ফেসবুকে প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এটি বিশ্বকাপের আলোচিত একটি থিম সং। সারা দুনিয়ার মানুষ শুনছেন। বিভিন্ন দেশ থেকে অনেক কভার হচ্ছিল, কিন্তু বাংলাদেশ থেকে কেউ কভার করেছেন দেখিনি। তাই নিজেই গেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাগাভাগি করে নিই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি কোনো পরিকল্পনা করে গানটি করিনি। কেউ গাইছে না ভেবেই র্যান্ডম গানটি গেয়েছি। দর্শক এতটা পছন্দ করবেন ভাবিনি। পরে সবাই অনেক প্রশংসা করায় অবাক হয়ে যাই। তখন অনেকেই মন্তব্য করেন, প্রপারলি গেয়ে পোস্ট করলে ভালো হয়।’
ভাইরাল হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া
প্রথম পোস্টের পর সবার মন্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়ে কিছুটা প্রস্তুতি নিয়ে গুছিয়ে গানটি প্রকাশ করেন সিনথিয়া। সেটাও ভাইরাল হয়। তিনি বলেন, ‘ভেবেছিলাম শুধু বাংলাদেশের দর্শকেরাই পছন্দ করবেন। পরে দেখি দেশ–বিদেশের বিভিন্ন ভাষাভাষীর মানুষের কাছ থেকে প্রশংসা পাচ্ছে, এটাই বড় পাওয়া। সবার কাছে কৃতজ্ঞ। এই ভালো লাগা ভবিষ্যতে আরও গান গাইতে অনুপ্রাণিত করবে।’
গানের প্রতি ভালোবাসা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সিনথিয়া অমি ছোটবেলা থেকেই ওয়েস্টার্ন মিউজিক শোনেন। তাঁর পছন্দের সংগীতশিল্পীদের মধ্যে আছেন শাকিরা। শৈশব থেকেই দেশ–বিদেশের গান গাওয়ার অভ্যাস হয়েছে। ভবিষ্যতে গান নিয়েই থাকতে চান। তিনি বলেন, ‘আমার আপু গান শিখতেন, সেখান থেকে আমার গানের প্রতি ভালোবাসা। মা–বাবা জানার পর আমাকে গানে আগ্রহী করেছেন। বাংলাদেশ বেতারের চিফ মিউজিক ডিরেক্টর আতিকুর রহমান অনেক উৎসাহ দিয়েছেন। তাই বাংলাদেশ বেতারের শিশুশিল্পী হিসেবে গান করেছি। এখনো নিয়মিত গান করি। গান নিয়েই ক্যারিয়ার এগিয়ে নিতে চাই।’
গান গাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে গান লেখার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। ইতিমধ্যে তিনটি মৌলিক গান করেছেন—‘বুকটা করে হাহাকার’, ‘বসন্তের হাওয়া’ ও ‘মাধবী ফুলছায়ে’। সব শেষে তিনি জানান, ‘আমি নিয়মিত গান শিখছি। এখন গান নিয়ে পড়ছি। এর আগে নজরুলসংগীত, ক্ল্যাসিক সংগীত শিখেছি। এই চর্চা চালিয়ে যেতে চাই। পরিবারের সবাই খুব সহায়তা করছেন। তাঁদের উৎসাহেই গান করে যেতে চাই।’



