রাহুলের মৃত্যুতে চলচ্চিত্র পরিবারের ঐক্যবদ্ধ লড়াই: প্রিয়াঙ্কার আবেগঘন বার্তা
অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। চলচ্চিত্র ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ এর শুটিং করতে গিয়ে ২৯ মার্চ তালসারিতে সমুদ্রে ডুবে মৃত্যু হয় অভিনেতা রাহুলের। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা চলচ্চিত্র জগৎ শোকাহত।
শুটিং নিরাপত্তা নিয়ে কর্মবিরতি ও চলচ্চিত্র পরিবারের ঐক্য
৭ এপ্রিল স্টুডিও পাড়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে স্থানীয় আর্টিস্ট ফোরাম। শুটিংয়ের নিরাপত্তা নিয়ে সরব হয়েছেন কলাকুশলীরা। আজ বিকেলে এক ফেসবুক পোস্টে রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার লিখেছেন, ‘গত ৭ তারিখে গোটা চলচ্চিত্র পরিবার যেন এক সুরে বাঁধল নিজেদের—একই ভাবনা, একই চিন্তা আর অফুরন্ত ভালোবাসায়। এখানে কোনো বিভাজন নেই, কোনো রাজনৈতিক রং নেই; নেই কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা আমিত্বের সংঘাত। এখানে শুধু একটাই সত্য—আমরা একটি পরিবার। পরিবারেরই একজন সদস্যের প্রতি গভীর স্নেহ আর মমতা থেকেই আজকের এই ঐক্যবদ্ধ লড়াই।’
রাহুলের স্মৃতি ও পরিবর্তনের আহ্বান
প্রিয়াঙ্কা আরও লিখেছেন, ‘রাহুলকে কেউ অভিনেতা হিসেবে ভালোবেসেছেন, কেউ চেনেন অরুণোদয় হিসেবে, আবার কেউবা ভালোবেসেছেন লেখক রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে। একটি মৃত্যু আজ আমাদের গোটা পরিবারকে একসুতোয় গেঁথে দিল।’ সন্তান সহজের সঙ্গে প্রিয়াঙ্কা ও রাহুলের ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।
প্রিয়াঙ্কার ভাষ্য, ‘তবে এই অকালপ্রয়াণ যেন নিছক একটি শোকের স্মৃতি হয়ে না থাকে; এটি যেন আরও বড় কোনো পরিবর্তনের সূচনা করে। তবেই এই মানুষটি আমাদের মাঝে অমর হয়ে থাকবেন, এটাই হবে তাঁর প্রকৃত উত্তরসূরি বা লেগাসি। আমাদের লক্ষ্য হোক একটাই—ভবিষ্যতে যেন এমন দুর্ঘটনা আর না ঘটে। টেকনিশিয়ান হোন বা শিল্পী—মৃত্যুর পর নিজের সম্মান আর মর্যাদার লড়াই যেন কাউকে লড়তে না হয়।’
এই ঘটনা চলচ্চিত্র শিল্পে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নীতিমালা পুনর্বিবেচনার দাবি জোরালো করেছে। স্থানীয় আর্টিস্ট ফোরামের কর্মবিরতি চলচ্চিত্র শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে।



