সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সাক্ষাৎকার: বৈশাখী শোভাযাত্রা ও সংস্কৃতি রক্ষায় পরিকল্পনা
নিতাই রায় চৌধুরী: বৈশাখী শোভাযাত্রা ও সংস্কৃতি রক্ষার উদ্যোগ

সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সাক্ষাৎকার: বৈশাখী শোভাযাত্রা ও সংস্কৃতি রক্ষায় পরিকল্পনা

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী সম্প্রতি বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে অংশ নেন। মাগুরা-২ আসন থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে আইন পেশায় যুক্ত হন এবং রাজনৈতিক জীবনে শিক্ষা, যুব ও ক্রীড়া এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বৈশাখী শোভাযাত্রা নিয়ে সরকারের স্পষ্ট অবস্থান

বাংলা ট্রিবিউনের প্রশ্নের জবাবে নিতাই রায় চৌধুরী বৈশাখী শোভাযাত্রা নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, "এটি বৈশাখী শোভাযাত্রা, যা আনন্দের শোভাযাত্রা হিসেবে পরিচিত। আমরা এই সিদ্ধান্ত একটি সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নিয়েছি।" তিনি উল্লেখ করেন যে ১৯৮৯ সালে চারুকলা থেকে প্রথম "আনন্দ শোভাযাত্রা" শুরু হয় এবং পরে ১৯৯৬ সালে সরকার পরিবর্তনের পর এটিকে "মঙ্গল শোভাযাত্রা" নাম দেওয়া হয়। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে পহেলা বৈশাখের উৎসব হাজার বছরের গ্রামীণ কৃষিভিত্তিক সমাজের সঙ্গে যুক্ত এবং নাম নিয়ে বিভ্রান্তি এড়াতে সরকার "বৈশাখী শোভাযাত্রা" নামটি ঘোষণা করেছে।

সংগীত শিক্ষক নিয়োগ ও সংস্কৃতির গুরুত্ব

স্কুলগুলোতে সংগীত শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়ে হেফাজতে ইসলামসহ কিছু সংগঠনের বিরোধিতার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, "তারা তাদের মতামত দিতে পারে—এটাই গণতন্ত্রের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু আমরা মনে করি সংগীত আমাদের সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা মানুষের মনন ও সৃজনশীলতা গড়ে তোলে।" তিনি যোগ করেন যে শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কৃতির জায়গা নিশ্চিত করা জরুরি এবং সংগীত শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ডিজিটাল যুগে বাংলা সংস্কৃতি রক্ষার পরিকল্পনা

ডিজিটাল যুগে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, "এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। আমরা বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দিয়ে সামনে তুলে ধরবো।" তিনি উল্লেখ করেন যে প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ এবং চারুকলার মাধ্যমে পুরনো ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা হবে এবং সংগীতের বিভিন্ন ধারা যেমন বাউল, মারফতি, মুর্শিদি, কীর্তন নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা ও শিল্পীদের পৃষ্ঠপোষকতা

প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাগুলোর অব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, "আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছি এবং সঠিক সংরক্ষণের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।" শিল্পীদের পৃষ্ঠপোষকতা না পাওয়ার অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, "আমরা শিল্পীদের জন্যও সহায়তার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা করছি, যাতে সংস্কৃতি একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।"

শিল্পকলা একাডেমি সক্রিয়করণ ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ

সারাদেশে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে শিল্পকলা একাডেমিতে সাংস্কৃতিক চর্চা না হওয়ার বিষয়ে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, "এখন থেকে এটি পরিবর্তন হবে। আমরা একটি সুপরিকল্পিত উদ্যোগ নিচ্ছি।" তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন:

  • শিল্পকলা একাডেমিগুলোতে বাউল, লালন, উচ্চাঙ্গ, রবীন্দ্র, নজরুল, আধুনিকসহ বিভিন্ন ধারার সংগীতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
  • দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।
  • শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে উপজেলা পর্যায়ে রুটিনভিত্তিক প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হবে।
  • বাদ্যযন্ত্রশিল্পীদেরও সম্মানী প্রদান করা হবে এবং নিয়মিত প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে।

মন্ত্রী শেষে বলেন, "আমাদের লক্ষ্য সারা দেশে সাংস্কৃতিক জাগরণ তৈরি করা এবং গানে-নাটকে-সংস্কৃতিতে দেশকে প্রাণবন্ত করে তোলা।"