ঢালিউডের সোনালি যুগে দুই ধারার তারকাদের সমান্তরাল উপস্থিতি
ঢালিউডের ইতিহাসে এক সময় দুই ধরনের ধারার তারকাদের সমান্তরালভাবে উপস্থিতি লক্ষ্য করা যেত। একদিকে ছিলেন শাবনূর, মৌসুমী, পপি ও পূর্ণিমার মতো গ্রহণযোগ্য ও দাপুটে নায়িকারা, যাঁরা মূলধারার সিনেমায় নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছিলেন। অন্যদিকে উঠে এসেছিলেন মুনমুন, ময়ূরী ও পলিদের মতো তারকারা, যাঁদের সিনেমাকে ঘিরে বারবার অশ্লীলতার অভিযোগ উঠেছিল। তবে সেই সময় বাণিজ্যিক সাফল্যের পাল্লা ভারী ছিল মুনমুন-ময়ূরীদের দিকেই, ফলে মূলধারার অনেক তারকাই ধীরে ধীরে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন।
পূর্ণিমার মুখে সেই সময়ের কঠিন বাস্তবতা
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা সেই সময়ের বাস্তবতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। ১৯৯৮ সালে জাকির হোসেন রাজুর ‘এ জীবন তোমার আমার’ সিনেমার মাধ্যমে ঢালিউডে অভিষেক ঘটে তার। এরপর একটানা কাজ করে উপহার দেন একাধিক সুপারহিট সিনেমা। কিন্তু অশ্লীলতার দাপটে বদলে যেতে থাকা ইন্ডাস্ট্রির চাপে একসময় নিজেকে গুটিয়ে নিতে বাধ্য হন তিনি।
পূর্ণিমা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘সেই সময় ইন্ডাস্ট্রির নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই চলে যায় ভিন্ন ধারার সিনেমার দিকে। ময়ূরী, মুনমুন বা যারা কাজ করত—তারা তখন ইন্ডাস্ট্রি দখল করে রেখেছিল। কাজও করত অনেক বেশি। তাদের কারণে আমরা কাজ পাচ্ছিলাম না। সেই সিনেমাগুলোও দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিল এবং প্রযোজকেরাও সেগুলোর দিকেই ঝুঁকেছিলেন। ওদের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, তারা ইন্ডাস্ট্রি লিড করছিল।’
টেলিভিশন নাটকে নতুন পথের সন্ধান
তবে নিজের অবস্থান নিয়ে ছিলেন অনড় পূর্ণিমা। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘ওরা যে ধরনের ছবি করত, সেগুলো আমার ঘরানার নয়। আমি কী করব—ঘরে বসে থাকব? সংসার তো চালাতে হবে।’ এই বাস্তবতা থেকেই পূর্ণিমা সিনেমা থেকে সরে এসে মন দেন টেলিভিশন নাটকে। সেই সময় জাহিদ হাসানের প্রস্তাবে পূর্ণিমা অভিনয় শুরু করেন ধারাবাহিক নাটক ‘লাল নীল বেগুনি’-তে।
নাটকে কাজের অভিজ্ঞতা ছিল তাঁর জন্য একেবারেই নতুন। পূর্ণিমা জানান, তখন তিনি সিরিয়ালের কাজের ধরন, এমনকি পারিশ্রমিকের বিষয়েও কিছুই জানতেন না। ‘কোনো কিছু না বুঝেই “হ্যাঁ” বলে দিয়েছিলাম,’ বললেন পূর্ণিমা। পরে এটিএন বাংলায় প্রচারিত ‘লাল নীল বেগুনি’ নাটকটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়, যা পূর্ণিমার ক্যারিয়ারের নতুন এক দিক উন্মোচন করে।
বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ প্রকল্প
যদিও পরবর্তী সময়ে ময়ূরী, মুনমুন ও পলিদের মতো তারকাদের এ দাপট বেশিদিন টেকেনি। আবার শাবনূর, মৌসুমী, পপি ও পূর্ণিমার মতো তারকারাই ব্যস্ত হয়ে ওঠেন—একের পর এক ব্যবসাসফল ও মানুষের পছন্দসই সিনেমা উপহার দেন। বর্তমানে পূর্ণিমা অভিনীত ‘জ্যাম’ ও ‘গাঙচিল’ সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। দুটি ছবিরই পরিচালক নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামূল।
ঢালিউডের সেই সময়ের দ্বিধাবিভক্ত পরিবেশ শুধু পূর্ণিমার ক্যারিয়ারই নয়, পুরো শিল্পের গতিপথকেও প্রভাবিত করেছিল। আজও সেই স্মৃতি সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।



