রায়হান রাফীর সিনেমা যাত্রা: স্বপ্ন, সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প
রায়হান রাফীর সিনেমা যাত্রা: স্বপ্ন ও সংগ্রাম

রায়হান রাফীর সিনেমা যাত্রা: স্বপ্ন, সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প

পডকাস্ট শো 'লিগ্যাসি উইথ এমআরএইচ: সিজন–২'-এর সপ্তম পর্বে অতিথি হিসেবে অংশ নিয়েছেন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাতা রায়হান রাফী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ রিদওয়ানুল হকের সঞ্চালনায় এই পর্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল 'বাংলাদেশি সিনেমার নবজাগরণ'। রাফী তাঁর জীবনের দর্শন, শৈশবের স্বপ্ন, এবং সিনেমা জগতে প্রবেশের সংগ্রামময় গল্প শোনান।

শৈশবের স্বপ্ন ও সিনেমার প্রেম

রায়হান রাফী তাঁর শৈশবের স্মৃতিচারণা করে বলেন, 'আমার ইমাজিনেশন পাওয়ার অনেক বেশি ছিল।' গাজীপুরের হোস্টেল থেকে পালিয়ে তিনি লুকিয়ে সিনেমা দেখতেন। জেমস ক্যামেরনের 'টাইটানিক' দেখে প্রথমবারের মতো তিনি উপলব্ধি করেন যে, ডিরেক্টরই সিনেমার আসল জাদুকর। হোস্টেল জীবনে তিনি আশেপাশের ঘটনাবলি দেখে মনের মধ্যে গল্প সাজাতেন। রাফী বলেন, 'আমি কারও মৃত্যুর গল্প কানে শুনি না, কারণ আমি সেটা চোখে দেখতে পাই।'

ঢাকায় সংগ্রাম ও একাকী লড়াই

ঢাকায় আসার পরের দিনগুলো রাফীর জন্য সহজ ছিল না। তিনি বলেন, 'সারা দিন বিভিন্ন ডিরেক্টরের পেছনে ঘুরতাম।' রাত হলে গাজীপুর ফেরার পথ না থাকায় নাখালপাড়ায় একজন বন্ধুর বাসায় উঠতেন। যখন কোথাও কাজ শেখার সুযোগ মিলল না, তখন তিনি নিজেই শর্ট ফিল্ম বানানো শুরু করেন। রাফী স্মরণ করেন, 'বিয়ের ভিডিও করার ক্যামেরা দিয়ে প্রথম শর্ট ফিল্ম বানানো শুরু করলাম।'

দেড় বছরের যুদ্ধ ও 'আজব বাক্স'

শুটিং শেষ করার পর এডিটিংয়ের জন্য রাফীকে দেড় বছর ধরে সংগ্রাম করতে হয়। তিনি বলেন, 'এডিটের জন্য এক এডিটরের পেছনে দেড় বছর ঘুরলাম।' অবশেষে সিমিত রায় অন্তরের সঙ্গে পরিচয় হয়, যিনি তাঁর প্রথম শর্ট ফিল্ম 'আজব বাক্স' এডিট করেন। এই দেড় মিনিটের সিনেমাটি ফেসবুকে আপলোড হওয়ার পর রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায় এবং রাফীর জন্য একটি শক্তিশালী ফ্যানবেজ তৈরি করে দেয়।

জাজ মাল্টিমিডিয়া ও 'পোড়ামন–২'

মিউজিক ডিরেক্টর জুয়েল মোর্শেদের মাধ্যমে জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আবদুল আজিজের সঙ্গে রাফীর পরিচয় হয়। রাফীর তৈরি 'স্টোরি অব রতন' দেখে আবদুল আজিজ ইমোশনাল হয়ে যান এবং তাঁকে সিনেমা বানানোর সুযোগ দেন। এরপর শুরু হয় 'পোড়ামন–২'-এর স্ক্রিপ্ট নিয়ে দেড় বছরের প্রস্তুতি। রাফী বলেন, 'আমি আত্মহত্যা ও জানাজার মতো স্পর্শকাতর বিষয়কে রোমিও-জুলিয়েট ফরম্যাটে বলেছি।'

সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির সংকট ও ভবিষ্যৎ

বর্তমান সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির সংকট প্রসঙ্গে রাফী বলেন, 'আমাদের দেশে এখন ভালো চিত্রনাট্যের খুব অভাব। কারণ আমরা বই পড়া বন্ধ করে দিয়েছি।' তিনি বিশ্বাস করেন যে, জীবনকে পর্যবেক্ষণ করলেই অসংখ্য গল্প পাওয়া যায়। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হিসেবে রাফী তাঁর নতুন প্রজেক্ট 'প্রেশার কুকার' সম্পর্কে জানান, যা ঢাকা শহরের স্ট্রেস ও মানুষের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তৈরি হবে।

তরুণদের জন্য বার্তা

অনুষ্ঠানের শেষে তরুণদের উদ্দেশ্যে রাফী বলেন, 'নিজের যোগ্যতাকে চিনতে হবে। যার যোগ্যতা আছে, তাকে কেউ আটকাতে পারে না।' তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সংগ্রামই জীবনের সবচেয়ে বড় রেফারেন্স এবং এটি সিনেমার গল্পে উঠে আসে। রাফীর মতে, বাস্তব অভিজ্ঞতা বইয়ের শিক্ষার চেয়ে বেশি মূল্যবান।