বডি সেলিমের ট্র্যাজিক শেষ: মাদক মামলায় আটক, শীতে মৃত্যু
বডি সেলিম: মাদক মামলায় আটক, শীতে মৃত্যু

বডি সেলিমের জীবন ও মৃত্যুর করুণ গল্প

বডি সেলিমকে আমরা চিনতাম। সোহরাওয়ার্দীতে নিয়মিত আসতেন জিনিস খেতে। তার নিষ্পাপ হাসি আর রসিয়ে চাপা মারার দক্ষতা ছিল অনন্য। তিনি দেশের বিশাল শিল্পপতি ও ব্যাংক চেয়ারম্যানদের বডিগার্ড হিসেবে কাজ করতেন, ধীরে ধীরে তাদের অকাম-কুকামে সহযোগী হয়ে উঠেছিলেন। মদ, মাদক, মাগি—এসবের খণ্ডকালীন সরবরাহকারী হিসেবেও তার ভূমিকা ছিল। আমাদের সাথে এসব গল্প শেয়ার করে তিনি রিলিফ পেতেন, সম্ভবত গাঁজার টানে মহল্লা ছেড়ে আসতেন।

ব্যক্তিগত জীবনের সংকট

সেলিমের ব্যক্তিগত জীবন ছিল অস্থির। তার স্ত্রী নিরু বদমেজাজি ও বহুগামী ছিলেন। তিন সন্তান হওয়ার পরও তিনি প্রায় সংসার ছেড়ে চলে যান। একবার সেলিমকে উকিল নোটিশ দিয়ে বিবাহবিচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। সে সময় তিনি শিশুর মতো কেঁদে ফেলেছিলেন। আমরা বন্ধুরা তাকে সাহায্য করেছিলাম, নিরুকে ফিরিয়ে এনেছিলাম। কিন্তু নিরু আমাকে পছন্দ করতেন না, সেলিমের বাইরে থাকার অভ্যাস নিয়ে আমি সতর্ক করতাম।

মাদক মামলায় আটক

এক শীতের সন্ধ্যায়, সেলিম তার তিন বছরের মেয়ে সাবাকে ঘুম পাড়িয়ে বাইরে বেরিয়েছিলেন। একটি গাঁজার পোঁটলা কিনতে গিয়েছিলেন মাত্র এগারো মিনিটের জন্য। কিন্তু পুলিশ তাকে ধরে ফেলে। তিনি মোবাইল নিয়ে যাননি, তাই ফোন করতে পারেননি। পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে যায় মাদক কারবারি হিসেবে। থানায় তিনি বারবার বলেছিলেন, ‘আমার মেয়ে বাসায় একলা, স্যার। আমারে ছাইড়া দেন, আমি একটু পর আসতেছি।’ কিন্তু কেউ তার কথা শোনেনি।

গণপিটুনি ও মৃত্যু

থানা থেকে পালানোর চেষ্টা করলে জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে আবার থানায় নিয়ে যায়। সারা রাত হাজতে শীতে ও শারীরিক ব্যথায় কাটে তার। জ্বরে ও ক্ষুধায় কাতর হয়ে তিনি কাজলের ফোন নম্বর ভুলে যান। পরদিন সন্ধ্যায় খবর আসে, শীতে কাতর হয়ে বডি সেলিমের মৃত্যু হয়েছে। তার মেয়ে সাবা তখনও একা ঘরে অপেক্ষা করছিল।

পরবর্তী ঘটনা

আমি ও তপু রাতে সেলিমের বাড়ি খুঁজে বের করি। নিরুকে সব কথা খুলে বলি। তিনি আশ্বাস দেন যে শিল্পপতি ও ব্যাংক চেয়ারম্যানদের খবর দিয়ে সেলিমকে মুক্ত করবেন। কিন্তু কেউ তার খোঁজ নেয়নি। নিরুই শেষ পর্যন্ত সেলিমের মৃত্যুর সংবাদ দেন। এই ট্র্যাজেডি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সমাজের প্রান্তিক মানুষদের কীভাবে উপেক্ষা করা হয়।