শুটিং সেটে সহশিল্পীকে 'মারধর' অভিযোগে তানজিন তিশার জবাব: 'চরিত্রের প্রয়োজনে'
ঢাকার মানিকগঞ্জে একটি ঈদ নাটকের শুটিং সেটে সহশিল্পী সামিয়া অথৈকে 'মারধর' করার অভিযোগে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছেন তারকা অভিনেত্রী তানজিন তিশা। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং সংবাদমাধ্যমে এই ঘটনা নিয়ে চলছে তোলপাড়। শুরুতে কোনও প্রতিক্রিয়া না জানালেও, রাত গড়াতেই তিশা তার বক্তব্য প্রকাশ করেন।
সামিয়া অথৈয়ের ফেসবুক লাইভে কান্না
এদিন বিকালে কাঁদতে কাঁদতে ফেসবুক লাইভে সামিয়া অথৈ জানান, মানিকগঞ্জে ঈদ নাটকের শুটিংয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন তিনি। তার দাবি, একটি চড়ের দৃশ্যকে কেন্দ্র করে তাকে মারধর করেছেন তানজিন তিশা। সামিয়া বলেন, 'এটি শুধু চড় নয়, স্ক্রিপ্টের বাইরে গিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে খামচি দেওয়া হয়েছে, যাতে আমার হাত ছুলে রক্ত বের হয়েছে।'
তানজিন তিশার প্রতিক্রিয়া: 'চরিত্রের প্রয়োজনে'
অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিশা দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, 'এটি কোনও ব্যক্তিগত আক্রমণ ছিল না; যা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ চরিত্রের প্রয়োজনে এবং গল্পের চাহিদা অনুযায়ী।' তিনি আরও যোগ করেন, 'আমি শুধু আমার চরিত্রটা প্লে করেছি। এখানে আমি একজন স্পেশাল চাইল্ড, মানে অটিস্টিক। যে চরিত্রের প্রয়োজনে মারতে পারে, কামড় দিতে পারে, পানিতে চুবিয়ে মেরে ফেলতে পারে—এ রকম অনেক ঘটনা ঘটাতে পারে। কাজটা রিলিজ হলেই দেখতে পারবেন।'
বিলম্বিত প্রতিক্রিয়ার কারণ
ঘটনার প্রতিক্রিয়া দিতে বিলম্ব প্রসঙ্গে তিশা জানান, 'আমি এতক্ষণ একই নাটকের শুটিং করছিলাম। আমি চাইনি দৃশ্যটা শেষ না করে কাজটা ফাঁসিয়ে দিতে। অথচ যে (সামিয়া) লাইভটা করেছে, সে কিন্তু ইউনিটকে ফাঁসিয়ে দিয়ে গেছে।' তিনি অভিযোগ করেন, সামিয়া এমনভাবে লাইভ করেছেন যেন তিনি তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেছেন, যা প্রকৃতপক্ষে ঘটেনি।
সামিয়া অথৈয়ের অতীত অভিযোগ
সামিয়া অথৈ আরও দাবি করেন, এই ঘটনা শুধু একদিনের নয়। তিনি জানান, এর আগে অভিনেতা মুশফিক আর ফারহানের সঙ্গে কাজ করার সময় তানজিন তিশা তাকে ফোন করে হুমকি দেন। শুধু তাকেই নয়, অভিনেত্রী কেয়া পায়েলসহ আরও কয়েকজনকে ফারহানের সঙ্গে কাজ না করার জন্য সতর্ক করেন। কারণ জানতে চাইলে তিশা নাকি দাবি করেন, ফারহান তার 'জামাই'! ঘটনার পর অথৈ বিষয়টি ফারহানকে জানান এবং পরে তার সঙ্গে আর কাজ করেননি।
শুটিং সেটের অন্যান্য সাক্ষী
নাটকটিতে তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈ ছাড়াও অভিনয় করছিলেন শহিদুজ্জামান সেলিম, মোমেনা, মীর রাব্বী প্রমুখ। সামিয়া জানান, শুটিং মনিটরে বসে পুরো দৃশ্যটি দেখছিলেন শহিদুজ্জামান সেলিম ও পরিচালক রিংকু। অপ্রত্যাশিত ঘটনায় সেলিম বিস্ময় প্রকাশ করে অথৈয়ের কাছে জানতে চান, তিশা কেন এমন আচরণ করলেন এবং তাদের মাঝে আগে থেকে কোনও ঝামেলা ছিল কি না।
সামিয়া অথৈয়ের পরবর্তী পদক্ষেপ
সামিয়া অথৈ জানান, তিনি এই ঘটনার বিচার চেয়ে অভিনয়শিল্পী সংঘে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানাবেন। তিনি বলেন, 'আমি শুধু ন্যায়বিচার চাই। একজন পেশাদার অভিনেত্রী হিসেবে আমার অধিকার আছে নিরাপদ পরিবেশে কাজ করার।' এই ঘটনা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পে পেশাদার আচরণ ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
