শাকিব খানের দাবি: চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য স্বচ্ছতা ও প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণ জরুরি
শাকিব খানের দাবি: চলচ্চিত্র শিল্পে স্বচ্ছতা ও প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণ

শাকিব খানের দাবি: চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য স্বচ্ছতা ও প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণ জরুরি

ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা শাকিব খান সাম্প্রতিক সময়ে নতুন সরকারের কাছে চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, সংগীত এবং নাট্যাঙ্গনের শিল্পীদের প্রত্যাশা ও দাবি তুলে ধরেছেন। তিনি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে স্বচ্ছ নীতি, স্বাধীন কর্মপরিবেশ এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়নের ওপর জোর দিয়েছেন। শাকিব খানের মতে, দেশের সাংস্কৃতিক খাতের উন্নয়নে প্রেক্ষাগৃহ বাড়ানো, সরকারি অনুদানে স্বচ্ছতা এবং জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের সংস্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে স্বচ্ছতা চান শাকিব খান

শাকিব খান প্রথমত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিয়ে বিতর্কের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, এই পুরস্কারের বিচারপ্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগ বারবার সামনে আসছে। তাই তাঁর দাবি, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের বিচারপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হতে হবে। এ জন্য মূল্যায়নের নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ এবং বাইরের হস্তক্ষেপ রোধে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

সরকারি অনুদানে স্বচ্ছ কমিটি গঠনের আহ্বান

দ্বিতীয়ত, শাকিব খান সরকারি অনুদানের চলচ্চিত্র বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি বা পক্ষপাতের অভিযোগ দূর করতে স্বচ্ছ কমিটি গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি অনলাইন স্কোরিং পদ্ধতি এবং পাবলিক রিপোর্ট প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন। তাঁর মতে, এতে প্রকৃত মেধাবী শিল্পীরা উৎসাহ পাবেন এবং সৃজনশীল কাজে আরও মনোযোগ দিতে পারবেন।

প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণে বিশেষ উদ্যোগের প্রস্তাব

তৃতীয়ত, শাকিব খান দেশে প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, মাঝখানে কয়েকবার প্রেক্ষাগৃহ বাড়ানোর উদ্যোগের কথা শোনা গেলেও পরে আর কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। তাই তাঁর পরামর্শ, সারা দেশে প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণের ব্যাপক উদ্যোগ নিতে হবে। মানুষ পরিবার নিয়ে আবার ছবি দেখতে চায়, তাদের জন্য সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করা দরকার।

তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন, সারা দেশে যেসব বন্ধ ও জরাজীর্ণ প্রেক্ষাগৃহ রয়েছে, সেগুলোর সংস্কারে স্বল্প সুদে ঋণ, করছাড় এবং পুনর্গঠন তহবিল গঠন করা যেতে পারে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেলে আধুনিক মাল্টিপ্লেক্স স্থাপনেও উৎসাহ দেওয়া যেতে পারে। যেসব জেলায় প্রেক্ষাগৃহ নেই, সেখানে কম আসনসংখ্যার ডিজিটাল মিনি প্রেক্ষাগৃহ বানানো যেতে পারে, যা নির্মাণ ব্যয় কমাবে এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের যুক্ত করবে।

নতুন প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণে ভ্যাট ও ট্যাক্সছাড়, জমি লিজে বিশেষ সুবিধা, আমদানি করা প্রজেকশন ও সাউন্ড যন্ত্রে শুল্ক কমানোর মতো প্রণোদনা দিলে বিনিয়োগ বাড়বে বলে তিনি মনে করেন। ডিজিটাল প্রজেকশন, ডলবি সাউন্ড, অনলাইন টিকেটিং বাধ্যতামূলক বা প্রণোদিত করলে দর্শকের অভিজ্ঞতা উন্নত হবে এবং হলমুখী দর্শক বাড়বে। দেশীয় চলচ্চিত্রের নির্দিষ্ট প্রদর্শন কোটা, উৎসবভিত্তিক বিশেষ প্রদর্শনী এবং পরিবারবান্ধব কনটেন্টে সহায়তা দর্শক টানতে সাহায্য করবে।

প্রেক্ষাগৃহকে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান

শাকিব খান আরও বলেছেন, প্রেক্ষাগৃহকে শুধু সিনেমা দেখার জায়গা নয়, সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে। সেখানে বিভিন্ন উপলক্ষে চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করা যেতে পারে, যা শিল্প ও সংস্কৃতির বিকাশে ভূমিকা রাখবে।

ঝামেলামুক্ত ও নিরাপদ কাজের পরিবেশের দাবি

চতুর্থত, শাকিব খান সরকারকে ঝামেলামুক্ত, পেশাদার এবং নিরাপদ কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শিল্পীরা যাতে স্বাধীনভাবে তাদের সৃজনশীল কাজ করতে পারেন, সে জন্য সরকারের সহায়তা অপরিহার্য।

সামগ্রিকভাবে, শাকিব খানের এই দাবিগুলো চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নতুন সরকারের কাছে তাঁর এই আহ্বান শিল্পী সমাজের প্রত্যাশার প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।