বাসসের এমডি মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে অনাস্থা, কর্মচারীদের চাপে কার্যালয় ত্যাগ
বাসস এমডি মাহবুব মোর্শেদ কর্মচারীদের অনাস্থায় কার্যালয় ত্যাগ

বাসসের এমডি মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে অনিষ্ঠা, কর্মচারীদের চাপে কার্যালয় ত্যাগ

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ সাংবাদিক ও কর্মচারীদের অনাস্থা ও বিক্ষোভের মুখে কার্যালয় থেকে বের হয়ে গেছেন। বুধবার বিকালে রাজধানীর পল্টনে অবস্থিত বাসস কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে, যেখানে তার বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়।

অনাস্থা ও বিক্ষোভের ঘটনা

বাসসের কয়েকজন সাংবাদিকের বর্ণনা অনুযায়ী, বুধবার দুপুরের দিকে সাংবাদিক ও কর্মচারীদের একটি অংশ মিটিং করে নানা অভিযোগ তুলে এমডি ও প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। পরে তারা তার কক্ষে গিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং তাকে বের হয়ে যেতে চাপ দেন। সেখানে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তিনি কার্যালয় ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

মাহবুব মোর্শেদ এ ঘটনার পর বুধবার আর কার্যালয়ে ফিরে আসেননি বলে জানা গেছে। বাসসের শ্রমিক সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক রহিম উদ্দীন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সবার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতেন এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব করতেন। তিনি নিজেকে মহা ক্ষমতাধর মনে করতে শুরু করেছিলেন।’

মাহবুব মোর্শেদের বক্তব্য

এ বিষয়ে মাহবুব মোর্শেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বহিরাগত বেশ কিছুসংখ্যক লোকের সঙ্গে সাংবাদিক ও কর্মচারীদের একটি অংশ জোর করে আমার রুমে ঢুকে পড়ে এবং আমাকে নানান রকম হুমকি-ধামকি প্রদর্শন করে। তারা আমাকে বের হয়ে যেতে বলছিল বারবার। অফিসের নানান কক্ষে তারা তালা ঝুলিয়ে এক ধরনের ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করে। কয়েকজন মারমুখী হয়ে তেড়ে আসে। এই অবস্থায় আমি বাধ্য হয়ে অফিস ত্যাগ করি।’

রহিম উদ্দীন আরও উল্লেখ করেন, ‘আজকের বৈঠকের সিদ্ধান্ত তাকে জানিয়ে বলা হয়, আপনাকে কেউ পছন্দ করে না, ফলে আপনার অধীনে কেউ কাজ করবে না। এটি জানানোর পর তিনি অফিস ছেড়ে চলে যান। আমরা অনাস্থা দেখিয়েছি। পদত্যাগ করবেন কি করবেন না সেটা তার সিদ্ধান্ত।’

পটভূমি ও প্রাসঙ্গিক তথ্য

প্রসঙ্গত, মাহবুব মোর্শেদকে ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট দুই বছর মেয়াদে বাসসের এমডি ও প্রধান সম্পাদক করে অন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকারের মেয়াদ শেষের পরদিনই এ ঘটনা ঘটলো, যা সংস্থার অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা ও অসন্তোষের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এ ঘটনাটি বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম খাতের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও শ্রমিক-কর্মচারী সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ সংস্থাগুলোর জন্য শিক্ষণীয় হতে পারে।