বলিউডের বহুল প্রতীক্ষিত কমেডি ছবি ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ আজ ২৬ জুন দেশজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। অক্ষয় কুমার, রাভিনা ট্যান্ডনসহ একঝাঁক তারকাকে নিয়ে নির্মিত এই ছবি ‘ওয়েলকাম’ ফ্র্যাঞ্চাইজির তৃতীয় কিস্তি। মুক্তির আগেই অগ্রিম টিকিট বিক্রি রেকর্ড গড়েছে।
অগ্রিম বুকিংয়ে চমক
গত বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে অগ্রিম বুকিং শুরু হয়। প্রথম ১২ ঘণ্টায় ৪০ হাজার ১১২টির বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে। আজ সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকে। সারা ভারতে ছবিটি ৩ হাজার ২৩২টি পর্দায় মুক্তি পাচ্ছে। অগ্রিম টিকিট বিক্রি থেকে ছবিটি ইতিমধ্যে প্রায় ৮৯ লাখ ৪২ হাজার রুপি আয় করেছে। ব্লক বুকিংয়ের সঙ্গে মোট আয় ২ কোটি ৭৪ লাখ রুপি ছাড়িয়েছে।
১৮ বছর পর জুটি
প্রায় ১৮ বছর পর বড় পর্দায় ফিরছেন অক্ষয় কুমার ও রাভিনা ট্যান্ডন। ছবিটি পরিচালনা করেছেন আহমেদ খান এবং প্রযোজনা করেছেন ফিরোজ এ নাদিয়াদওয়ালা। মুক্তির আগে বৃহস্পতিবার বিশেষ ‘পেইড প্রিভিউ’ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
সিবিএফসির পরিবর্তন
ভারতের কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র প্রত্যয়ন বোর্ড (সিবিএফসি) ছবিটিকে ইউ/এ ১৬+ সনদ দিয়েছে। ছাড়পত্র দেওয়ার আগে কয়েকটি পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়। সংশোধনের পর ছবিটির দৈর্ঘ্য ২ ঘণ্টা ৪৪ মিনিট। বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী কয়েকটি সংলাপ, বিকিনি-সংক্রান্ত দৃশ্য, কিছু দ্ব্যর্থবোধক ইঙ্গিত এবং কাশ্মীর-সম্পর্কিত উল্লেখে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
১১৫ কোটি রুপির বাজেট
‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’–কে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় মাল্টিস্টারার বলিউড ছবি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে ৩২ জনের বেশি নামকরা অভিনয়শিল্পী রয়েছেন। অক্ষয় কুমার জানিয়েছেন, ছবিটি নির্মাণ করতে ১১৫ কোটি রুপি খরচ হয়েছে। তিনি এই সিক্যুয়েলে অভিনয়ের জন্য এক রুপিও নেননি।
ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন সুনীল শেঠি, জ্যাকি শ্রফ, পরেশ রাওয়াল, আরশাদ ওয়ার্সি, জনি লিভার, রাজপাল যাদব, শ্রেয়স তলপাড়ে, তুষার কাপুর, দিশা পাটানি, জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ, লারা দত্ত, কৃষ্ণা অভিষেক, কিকু শারদা, মুকেশ তিওয়ারিসহ অনেক পরিচিত মুখ।
ফ্র্যাঞ্চাইজির তৃতীয় অধ্যায়
২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ওয়েলকাম’ এবং ২০১৫ সালের ‘ওয়েলকাম ব্যাক’-এর পর এটি এই জনপ্রিয় কমেডি ফ্র্যাঞ্চাইজির তৃতীয় ছবি। আনিস বাজমি পরিচালিত প্রথম ছবিতে অক্ষয় কুমার, ক্যাটরিনা কাইফ, নানা পাটেকর ও অনিল কাপুরের অভিনয় দর্শকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল। নতুন ছবিতে সেই হাস্যরসের ধারা বজায় রাখার পাশাপাশি অ্যাকশন, অ্যাডভেঞ্চার এবং বড় পরিসরের বিনোদনের মিশেল রাখার চেষ্টা করেছেন নির্মাতারা।
বক্স অফিস বিশ্লেষণ
বক্স অফিস বিশ্লেষকদের মতে, ছবিটির প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে দর্শকদের মুখে মুখে প্রচার (ওয়ার্ড অব মাউথ) এবং প্রথম সপ্তাহান্তের আয়ের ওপর। মুক্তির আগেই অগ্রিম বুকিং নির্মাতাদের আশাবাদী করে তুলেছে। ছবিটি বক্স অফিসে কতটা সাফল্য পায়, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।



