ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তের 'অভিমান' সিনেমা টালিউডে সম্পর্কের গল্প বললেও তার চিত্রায়ন ভিন্ন মাত্রা এনেছে। বর্ষীয়ান অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলি ও যিশু সেনগুপ্তের এই সিনেমাটি প্রেম, একাকিত্ব, স্মৃতি ও রহস্যের মিশেলে নির্মিত।
গল্পের কেন্দ্রে সংগীতশিল্পী আকাশ
সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আকাশ চট্টোপাধ্যায়, যাকে প্রসেনজিৎ নিজের অভিজ্ঞতা ও পরিণত অভিনয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন। সংলাপের চেয়ে তার চোখ, নীরবতা ও মুখের অভিব্যক্তি বেশি কথা বলে। কিছু দৃশ্যে তিনি এতটাই স্বাভাবিক যে চরিত্র আর অভিনেতার সীমারেখা মুছে যায়।
শুভশ্রী ও যিশুর অভিনয়
শুভশ্রী গাঙ্গুলি এ সিনেমায় অন্যতম বড় প্রাপ্তি। তার চরিত্রে যেমন কোমলতা রয়েছে, তেমনই মানসিক টানাপোড়েন। সংযত অভিনয়ে তিনি গল্পের আবেগ বিশ্বাসযোগ্য করেছেন। যিশু সেনগুপ্তও নিজের চরিত্রে যথাযথ; তার উপস্থিতি সিনেমার রহস্য ও আবেগ দুইকেই এগিয়ে নিয়ে যায়। সোহিনী সরকার স্বল্প সময়ে নজর কাড়েন।
পরিচালনার কাব্যিক মাত্রা
পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত 'অভিমান'কে শুধু গল্পে আটকে রাখেননি। দৃশ্য বিন্যাস, আলো-আঁধারির ব্যবহার ও আবহসংগীত কাব্যিক মাত্রা দিয়েছে। প্রতীপ মুখোপাধ্যায়ের ক্যামেরা বিশেষ করে ক্লোজআপ ও নীরব মুহূর্ত দীর্ঘদিন মনে রাখার মতো। সংলাপে সম্পর্কের জটিলতা ও অভিমানের সূক্ষ্ম অনুভূতি সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।
সীমাবদ্ধতা ও শক্তি
সিনেমার গতি অনেক সময় ধীর, যা ধৈর্যের পরীক্ষা নিতে পারে। কিছু প্রতীকী উপস্থাপনা সাধারণ দর্শকের কাছে দুর্বোধ্য হতে পারে। দ্বিতীয়ার্ধে রহস্যের স্তর বজায় রাখতে কিছু অংশ অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘ। তবে 'অভিমান'-এর সবচেয়ে বড় শক্তি তার আবেগ। সম্পর্কের সরল সমীকরণ নেই, আছে মানুষের মনের নানা স্তর। ছবিটি উত্তর দেওয়ার চেয়ে প্রশ্ন বেশি ছুড়ে দেয়, যা শেষ দৃশ্যের পরেও আবেশ তৈরি করে।
বাণিজ্যিক বিনোদনের ভিড়ে 'অভিমান' নিঃসন্দেহে অন্য ধরনের অভিজ্ঞতা। ধীর ছন্দের, আবেগপ্রধান ও শিল্পসম্মত গল্পের অনুরাগীদের জন্য এটি দীর্ঘদিন মনে রাখার মতো সিনেমা হতে পারে।



