ঢাকা মহানগরে শিল্পকর্ম প্রদর্শনালয়ের সংখ্যা সীমিত। বেসরকারি উদ্যোগে ধানমণ্ডি, লালমাটিয়া, গুলশান ও উত্তরার পর আরেকটি নতুন প্রদর্শনালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে নতুন বাণিজ্যিক ভবন সেন্টার পয়েন্টে। ইউনাইটেড গ্রুপের সহযোগিতায় ভবনের নিচতলায় আন্তর্জাতিক মানের এই চিত্রশালার উদ্যোক্তা ‘ভূমি গ্যালারি’র সাইফুর রহমান লেনিন। সেখানে উদ্বোধনী প্রদর্শনীর সাফল্যের পর, এবার তিন প্রজন্মের ১০ শিল্পীর সমসাময়িক কালে আঁকা চিত্রকর্ম নিয়ে ‘পারসিসটেন্স’ অর্থাৎ ‘সংকল্প’ নামে বিশেষ একটি চিত্রকর্ম প্রদর্শনী শুরু হয়েছে ১৯ জুন শুক্রবার।
প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা
বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আগে ও পরের অর্থাৎ গত শতকের সত্তর ও আশির দশকের আটজন স্বনামধন্য চিত্রশিল্পীর সঙ্গে এ শতকের শূন্য ও ১০ দশকের অপেক্ষাকৃত তরুণ দুজন শিল্পীও এ প্রদর্শনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এই দুই শিল্পী সহিদ কাজী ও আবদুল্লাহ আল বশীর।
প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী অগ্রজ শিল্পীরা হলেন বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনে সব বয়সীদের প্রিয় মুখ সদ্য প্রয়াত তরুণ ঘোষ, একুশে পদকপ্রাপ্ত চারজন চিত্রকর—ফরিদা জামান, জামাল আহমেদ, রোকেয়া সুলতানা ও কনক চাঁপা চাকমা। অন্যান্য গুণী তিন শিল্পী মোহাম্মদ ইউনুস, আহমেদ সামসুদ্দোহা ও মোহাম্মদ ইকবাল।
তরুণ ঘোষের অপ্রদর্শিত কাজ
সদ্য প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা চিত্রশিল্পী তরুণ ঘোষ, সেই আশির দশক থেকে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে প্রগতিমুখী যত ধরনের উল্লেখযোগ্য কাজ হয়েছে, তার প্রায় সব কটির সঙ্গে তিনি ছিলেন নিবিড়–সম্পর্কিত! তাঁর আঁকা অপ্রদর্শিত চিত্রকর্ম এই প্রদর্শনীতে যুক্ত হয়েছে। এখানে একসঙ্গে তাঁর আঁকা আটটি কাজ দেখার দুর্লভ সুযোগ পাচ্ছেন শিল্পপ্রেমীরা।
প্রথমটি হলো শেষ বিকেলে নদীর বিশাল বুকে চঞ্চল স্রোতে ঘূর্ণমান অন্ধকার থেকে মুক্ত অবশিষ্ট আলোয় অস্পষ্ট স্টিমারের ছবি, শিরোনাম ‘পড়ন্ত বিকেল’। আকাশে অস্তাচলের পথে যাত্রা করা সূর্য, নদীতে সেই বিদায়ী আলোর খেলা চিত্রটিকে অসামান্য পূর্ণতা দিয়েছে। এটি ক্যানভাসে অ্যাক্রিলিক মাধ্যমে আঁকা ২০১২ সালের কাজ।
একই মাধ্যমে আঁকা আরেকটি চিত্রকর্ম ‘স্বর্গের পথ’। পথের সামান্য দূরে চমৎকার কিছু ঘরের আভাস, সেদিকে ফল-ফুলশোভিত সবুজের বুকচেরা লাল রঙের পথটির গন্তব্য যেন স্বর্গের দিকে! ২০২২ সালে আঁকা।
ক্যানভাসে বিমূর্ত ধারায় ২০১৭ সালে আঁকা তাঁর আরেকটি বড় ছবি ‘না বলা’। উজ্জ্বল–অনুজ্জ্বল কয়েকটি বর্ণের আলিম্পনে সাদার শুভ্রতায় চোখ ও মনে ভালো লাগার মতো একটি কাজ।
কাগজে জলরঙে আঁকা তরুণ ঘোষের পাঁচটি চিত্রকর্মের তিনটি শিরোনামহীন, অন্য দুটির একটি স্বর্গের বাগান, অন্যটি ফুল নিয়ে গঠন। এগুলো শিল্পীর ২০২২ ও ২৩ সালের কাজ।
ফরিদা জামানের জেলেকন্যা সুফিয়া
বাংলার জেলে সম্প্রদায়ের জলাধারে জাল ফেলা, জলের বুদ্বুদ, মাছ ধরা, নদীর চরে জাল শুকানো, জেলেকন্যা সুফিয়া, মাছশিকারি বিড়াল—এসব বিষয় অনেকটা গল্পের উপাদান হয়ে উঠে আসে শিল্পী ফরিদা জামানের চিত্রপটে।
এই প্রদর্শনীতে তাঁর সাতটি চিত্রকর্ম আছে, এর ছয়টিই জেলেকন্যা সুফিয়াকে কেন্দ্র করে আঁকা। শিল্পী মৌলিক তিনটি রং অর্থাৎ লাল, নীল ও হলুদের যেকোনো একটি রংকে প্রাধান্য দিয়ে একেকটি চিত্রপটকে সাজিয়ে চিত্র–আখ্যান গড়ে তোলেন। ‘রাত্রিকালে সুফিয়া’ নামের চিত্রগঠনে আমরা যেমন হলুদ রঙের প্রাধান্য দেখি, তেমনই ‘সুফিয়া তার জালের সঙ্গে’ চিত্রে লাল রং এবং ‘একাকিত্বের অনুভূতিতে সুফিয়া’ চিত্রে নীল রঙের প্রাধান্য। ছবির ভেতরকার গল্প নির্মাণ, শিল্পীর ভাবনা, তাঁর অঙ্কন ও রেখা প্রয়োগের সারল্য দিনে দিনে লোকচিত্রীদের মতো সাবলীল হয়ে উঠেছে।
আমাদের দেখা দেশীয় পরিচিত বিষয়কে ধারণ করে ফরিদা জামানের আঁকা পেইন্টিংয়ের পাশ্চাত্যকেন্দ্রিক গঠন ও উপস্থাপন কৌশল—এই তিন দশকে একটু একটু করে বদলে বদলে এ–দেশীয় হয়েছে। এ এমন এক রূপান্তর, যেন ঘরে ফেরা।
মোহাম্মদ ইউনুস ও জামাল আহমেদ
শিক্ষাজীবন থেকে শিল্পীজীবনে অব্যাহত শিল্পচর্চা ও শিল্পের সঙ্গে সর্বদা সম্পৃক্ত মোহাম্মদ ইউনুস ও জামাল আহমেদ সমসাময়িক শিল্পী। ছাত্রজীবনে দেখেছি, বাস্তবানুগ চিত্রাঙ্কনে উভয়েরই বিশেষ সুখ্যাতি। পরে ইউনুস মূর্ত থেকে বিমূর্তে এসেছেন। নানা উজ্জ্বল রংনির্ভর ফর্ম ও টেক্সচারের সঙ্গে কখনো কখনো পরিচিত কোনো সামগ্রীর ইঙ্গিত দেখা যায়। চিত্রশিল্পের আধুনিকতার উৎকর্ষ অন্তঃসলিলা স্রোতস্বিনীর মতো ইউনুসের চিত্রপটকে সমৃদ্ধ করে।
প্রচুর ধৈর্য আর গভীর অনুসন্ধিৎসার দেখা মেলে ইউনুসের আঁকা ও উপস্থাপিত প্রতিটি চিত্রকর্মে। তাঁর সাতটি চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হচ্ছে এখানে। ‘দেয়ালের গল্প’ নামের বিশালাকৃতির চিত্রকর্মটি ৯ গুণিতক সাড়ে তিন ফুট ক্যানভাসে আঁকা। এটি দেয়ালের মতোই প্রস্থে সমান্তরাল—৪২ ইঞ্চি লম্বা এ দেয়ালের গায়ে নানা রং, এক বর্ণের ভেতরে আবার ভিন্ন বর্ণের আভাস, কোথাও চটা ওঠা, টেক্সচারসহ কতকিছুর সমাহার এখানে! এ দেয়াল দর্শককে তার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়, মুগ্ধ ও অতীতচারী করে।
৭ গুণিতক তিন ফুট আকৃতির আরেকটি বড় ক্যানভাসে আঁকা কাজ ‘প্রকৃতি থেকে’। প্রকৃতির বিচিত্র সব রূপ-রস-রং-রেখা ফর্মের পরতে পরতে!
শিল্পী জামাল আহমেদও সাতটি চিত্রকর্ম নিয়ে হাজির এখানে। বাস্তবানুগ ছবি এঁকে তিনি দেশে–বিদেশে নিজের কাজের ভক্তকুল ও বাজার তৈরি করেছেন। বুড়িগঙ্গার বুকে স্টিমার, নদীর দুই পারের দৃশ্য, নৌকা, মাঝি, যাত্রী ও মালামাল পারাপারের জীবনমুখী ছবি, শুকিয়ে যাওয়া খালের জলে ডুবো নৌকা, শাপলা ফুল ও পাতা, নদীর রেখা ধরে হেঁটে যাওয়া মানুষ, নদীতে স্নান সেরে ভেজা কাপড়ে উঠে আসা মুহূর্তের অপার্থিব সৌন্দর্য, শর্ষেখেতের আল ধরে গ্রামীণ পরিবারের সদস্যদের হেঁটে আসা, বাকবাকুম পায়রার চঞ্চলতা, শিল্পী ও মডেল শহর—গ্রামের এমন সব বিষয় নিয়ে প্রায় ডিটেইল কাজে সিদ্ধহস্ত এই শিল্পী।
প্রদর্শনীতে জামাল আহমেদের ছবিগুলোর শিরোনাম ‘ঘরে ফেরা’, ‘বর্ষা’, ‘অপেক্ষা’, ‘বাড়িফেরা’, ‘জেলে’, ‘ধূমপান’, ‘দোতারা হাতে একজন’। শিল্পীর আঁকার মাধ্যম ক্যানভাসে অ্যাক্রিলিক, কাগজে জলরং, কাগজে চারকোল ও প্যাস্টেল।
আহমেদ সামসুদ্দোহা ও রোকেয়া সুলতানা
বাস্তবানুগ ছবি আঁকাকে আরও উচ্চ স্তরে নিয়ে গেছেন শিল্পী আহমেদ সামসুদ্দোহা! ভূমির এই প্রদর্শনীতে তাঁর চিত্রকর্মগুলো সেই সাক্ষ্য দিচ্ছে। সাদা ও লাল দুটি রঙে জবা ফুলের ছবি এঁকেছেন শিল্পী, প্রথমটির নাম ‘ডেলিকেট হোয়াইট’, অন্যটি ‘স্টানিং রেড’। জলের নিচে সামুদ্রিক ফুল ফোটার মুহূর্ত নিয়ে আঁকা ‘ব্লুম’। ছবিতে ফুলের সৌন্দর্য ছাপিয়ে ফুটে ওঠে শিল্পীর অঙ্কন–দক্ষতা। এ প্রদর্শনীতে তাঁর আরেকটি চিত্রকর্মে নদীতীরবর্তী সুন্দরবনে সিডরের ধ্বংসযজ্ঞের পরের দৃশ্য এঁকেছেন শিল্পী। তাঁর চিত্রকর্মগুলো ক্যানভাসে আক্রিলিক রঙে আঁকা।
রোকেয়া সুলতানা ছবি আঁকায় প্রিন্ট ছাড়াও পেইন্টিং মাধ্যমে সিদ্ধহস্ত। তাঁর আঁকা সাতটি চিত্রকর্ম আছে এ প্রদর্শনীতে। এর চারটি চিত্র সবুজের প্রাধান্যে কাছাকাছি রঙের স্বতঃস্ফূর্ত সম্মিলনে রচিত হয়েছে। এর শিরোনাম—‘সবুজ বৃষ্টি’, ‘সবুজ ঘাসের বাড়ি’, ‘শিরোনামহীন’, ‘আকাশছোঁয়া নগর’ প্রভৃতি।
মা ও মেয়েশিশুকে নিয়ে রোকেয়া সুলতানার সিরিজ কাজের দুটি এখানে স্থান পেয়েছে। প্রথমটি ‘প্রাইড অ্যান্ড ডিগনিটি’—আগুনের লেলিহান শিখায় রাঙা জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ও দ্বিতীয়টি ‘টাইম অ্যান্ড ম্যাডোনা’—সেই রেনেসাঁ যুগের শিল্পী বতিচেল্লির আঁকা ভেনাসের জন্মচিত্রের পরিপ্রেক্ষিতে আঁকা। তাঁর কাজগুলো ক্যানভাসে অ্যাক্রিলিক, মিশ্র ও টেম্পেরা রঙে আঁকা।
কনক চাঁপা চাকমা ও মোহাম্মদ ইকবাল
গত শতকের আশির দশকে বাংলাদেশের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর আচার-অনুষ্ঠান নিয়ে ছবি এঁকে আমাদের শিল্পাঙ্গনে জনপ্রিয়তা পাওয়া অন্যতম শিল্পী কনক চাঁপা চাকমা। ধারাবাহিকভাবে পাহাড়ি জীবন ও পাহাড়ে বসবাসরত ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নানা সম্প্রদায়ের বিভিন্ন আচার–অনুষ্ঠান কেন্দ্র করে তিনি আঁকছেন।
চিত্রপটে শিল্পীর বর্ণলেপনের মাধুর্যের সঙ্গে আলো–ছায়ার মনোহর প্রয়োগ দৃষ্টিকে মুগ্ধতা দেয়।
এ প্রদর্শনীতে কনক চাঁপা চাকমার আঁকা সাতটি চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছে। এগুলো হচ্ছে তাঁতের চাকা, প্রকৃতির সংগীত, ধর্মীয় আচার, পাহাড়ের সৌন্দর্য, নীরব সৌন্দর্য, নীরবতার শব্দ ও আলোর ঔজ্জ্বল্য। শেষের ছবিটিতে রাতের আঁধারে আলো জ্বালিয়ে আকাশে ওড়ানো অনেকগুলো ফানুস দেখা যাচ্ছে। এটি কনক চাঁপা চাকমার আঁকার নিয়মিত বিষয়বস্তু থেকে ভিন্ন।
সৃজনশিল্পী হিসেবে নব্বইয়ের দশকে বিকশিত শিল্পী মোহাম্মদ ইকবাল প্রথম সুনাম অর্জন করেছিলেন—নারী-পুরুষের জীবন, তাদের সাজসজ্জা, গেরুয়া, সাদা ও লাল কাপড়, বালা ও শিকল লাগানো হাতে ত্রিশূল উঁচানো নাটকীয় অবয়বের ছবি এঁকে। এখন তিনি আঁকেন শান্তিময় পৃথিবীর ছবি। মানুষে মানুষে হানাহানি, যুদ্ধ ও অশান্তির বিরুদ্ধে বার্তা দেন তাঁর আঁকা চিত্রকর্ম দিয়ে। অশান্তি আর যুদ্ধে হারিয়ে যাওয়া শিশু ও নারীর অবয়ব তুলে ধরে শান্তির পক্ষে মানুষের মনে শুভবুদ্ধি জাগাতে সচেষ্ট হন।
মোহাম্মদ ইকবালের আঁকা সাতটি চিত্রকর্ম রয়েছে এই প্রদর্শনীতে। এগুলোর একটির শিরোনাম ‘অশান্ত সময়ে শান্তি’। এছাড়া রয়েছে ‘পবিত্র বৃত্ত’ ও ‘দূরের আকাশ’ নামে তিনটি করে চিত্রকর্ম। ছবিগুলো ক্যানভাসে তেলরং ও অ্যাক্রিলিক রঙে আঁকা।
তরুণ শিল্পী সহিদ কাজী ও আবদুল্লাহ আল বশীর
অপেক্ষাকৃত তরুণশিল্পী সহিদ কাজী ও তরুণতর আবদুল্লাহ আল বশীর উভয়েই বাস্তবানুগ কায়দায় আঁকেন।
সহিদ কাজী রং মোটা করে আঁকতে ভালোবাসেন। তিনি তেলবিহীন পিগমেন্ট প্রয়োগ করেন চিত্রপটে। ফুল ও প্রকৃতি তাঁর আঁকার প্রিয় বিষয়। এখানে তিনি এঁকেছেন সূর্যমুখী ও গোলাপ নিয়ে একাধিক ছবি। ‘বৃষ্টির আগে সূর্যমুখী’র বিবর্ণ রূপ তুলে ধরেছেন রং ও রেখায় দক্ষ হাতে!
আবদুল্লাহ আল বশীরের আঁকা বাস্তবানুগ চিত্রে সামসুদ্দোহার আঁকা চিত্রের ছায়া দেখি। বিশেষ করে তাঁর ইনফিনিটি সিরিজের চিত্রকর্মের অঙ্কন-পদ্ধতির কথা বলতে পারি। বশীরের ‘ডেনসিটি’ নামের সিরিজ দর্শককে পরাবাস্তব ধরনের অঙ্কনরীতির কথা মনে করিয়ে দেয়। এত তরুণ বয়সেই গুণী অগ্রজ শিল্পীদের সঙ্গে তাঁর এই অংশগ্রহণ তাঁর জন্য কৃতিত্বপূর্ণ অর্জন।
বাংলাদেশের চারুশিল্পীদের শিল্পকর্মের বাজার সৃষ্টিতে ভূমির এই আয়োজন সফল হলে আমাদের শিল্পাঙ্গন লাভবান হবে বলেই আশা করি।
প্রদর্শনীটি আগামী ২৫ জুলাই পর্যন্ত (সোমবার ব্যতীত) প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য খোলা থাকবে।



