লিওনেল মেসির ভক্তদের মধ্যে অনেকেরই শৈশব কেটেছে তার খেলা দেখে আর গোলের হিসাব রেখে। এক ভক্ত তার স্মৃতিচারণে জানান, দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় প্রথম আলো পত্রিকায় মেসির ছবি দেখে তার প্রতি ভালোবাসা জন্মায়। তখন মেসির জার্সি নম্বর ছিল ১৯।
পত্রিকা আর টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে মেসির খবর
ষষ্ঠ শ্রেণিতে উঠে ফুটবল বুঝতে শুরু করেন তিনি। বাড়িতে টিভি না থাকায় রাতের খেলা দেখা সম্ভব ছিল না। তাই প্রতিদিন টিফিনের ১০ টাকা বাঁচিয়ে পত্রিকা কিনতেন, শুধু মেসি ও আর্জেন্টিনার খবর জানার জন্য। মেসির গোলের অপেক্ষায় থাকতেন, আর পরদিন তা পত্রিকায় বড় করে ছাপা হতো।
প্রতিদ্বন্দ্বী কাকা আর ব্যালন ডি’অরের হিসাব
সেসময় মেসির বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন কাকা। ভক্তদের মধ্যেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল প্রবল। মেসির ক্লাব রেকর্ড ও ব্যালন ডি’অরের হিসাব রাখতেন তিনি। ক্যালকুলেশন করতেন, এবার কে জিতবে ব্যালন ডি’অর।
২০১৪ বিশ্বকাপ ও ২০১৬ কোপা আমেরিকার হতাশা
২০১৪ বিশ্বকাপে মেসিকে বিশ্বকাপ জিততে দেখার আশা ছিল বুকভরা। কিন্তু ভাগ্যের কাছে হার মেনে বঞ্চিত হন তারা। ২০১৬ কোপা আমেরিকায় মেসি পেনাল্টি মিস করায় আর্জেন্টিনা শিরোপা জিততে পারেনি। হতাশায় মেসি অবসর ঘোষণা করলে ভক্তের হৃদয় ভেঙে যায়। তবে মেসি ফিরে আসেন এবং ক্লাব ফুটবলে একের পর এক রেকর্ড ভাঙেন, জিতেন সাতটি ব্যালন ডি’অর। কিন্তু আন্তর্জাতিক একটি বড় ট্রফি তখনো অধরা ছিল।
২০২১ কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নপূরণ
২০১৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের কাছে বাজেভাবে হেরে বিদায় নেয় আর্জেন্টিনা। কিন্তু দলটি ধীরে ধীরে মেসির নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়ায়। ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জয়ের মাধ্যমে সেই প্রতীক্ষিত মুহূর্ত আসে। এরপর বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নপূরণ হয়। ২০২৬ বিশ্বকাপ নিয়েও ভক্তরা আশাবাদী।
ফুটবলের সৌন্দর্য ও মেসির অবদান
ভক্তের ভাষায়, মেসি আছেন বলেই ফুটবলের সব সৌন্দর্য পূর্ণতা পেয়েছে। তার খেলায় মুগ্ধতা ছড়িয়েছে ভারত মহাসাগর থেকে প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত, লাতিন আমেরিকা থেকে ওশেনিয়া। মেসি ছিলেন বলেই ফুটবল শৈশব, কৈশোর ও যৌবনকে এত সুন্দর করে তুলেছে।



