তাজিক সংগীতশিল্পী মেহরনিগর রুস্তম জানিয়েছেন, কোক স্টুডিও বাংলার গান ব্যবহার করে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের ফেসবুক পেজের একটি ভিডিও তৈরি হয়েছে, যা তিনি ইনস্টাগ্রামের বায়োতে শেয়ার করেছেন। তিনি বলেন, 'শুরুতে বিষয়টি খেয়াল করিনি। পরে অনেকে ভিডিওটি আমাকে ট্যাগ করছিলেন। তখন বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। বুঝতে পারলাম, তাঁরা আমাদের গানটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ভিডিওতে ব্যবহার করছেন। সত্যি বলতে, আমার গুজবাম্প (রোমহর্ষ) হচ্ছিল। এটা আমার জন্য গর্বের।'
গানটি আন্তর্জাতিকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে
মেহরনিগর রুস্তম বলেন, 'আমাদের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। গানটিতে কাজ করতে আমি বাংলাদেশে উড়ে যাই। আমরা টানা ১০ দিন কাজ করেছি। তখন পবিত্র রমজান মাস ছিল। তাই আমরা রোজা রেখেই ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শুটিং করেছি। কাজটা মোটেও সহজ ছিল না। আমরা আজ সেই পরিশ্রমের ফল পাচ্ছি।'
ক্যারিয়ারে প্রভাব ও হাবিব ওয়াহিদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা
গানটি তাঁর ক্যারিয়ারে কতটা প্রভাব ফেলেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'পেশাগত ও ব্যক্তিগত—দুই দিক থেকেই এটি অত্যন্ত মূল্যবান ছিল। হাবিব ওয়াহিদের সঙ্গে কাজ করাটা আমার জন্য সম্মানের ছিল। যাঁরা আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছেন, আমাকে সুযোগটি দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। সংগীত আমাদের দুই সংস্কৃতিকে কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। সত্যি বলতে, বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে এত ভালোবাসা পাব, তা কখনো কল্পনাও করিনি। তাঁদের আন্তরিকতা ও সমর্থন আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।'
হাবিব ওয়াহিদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি বলেন, 'তাঁর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাটা ছিল নিখাদ আনন্দের। তিনি অত্যন্ত প্রতিভাবান একজন শিল্পী। সংগীত সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান ও বোঝাপড়া ব্যাপক। তিনি খুবই সদয়, বিনয়ী ও বন্ধুসুলভ। রেকর্ডিংয়ে তিনি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছিলেন। ফলে একসঙ্গে কাজ করাটা খুব সহজ ও উপভোগ্য হয়ে উঠেছিল।'
বাংলাদেশে ভ্রমণ ও খাবার অভিজ্ঞতা
বাংলাদেশে কোথায় ঘুরেছেন ও কী খেয়েছেন জানতে চাইলে মেহরনিগর বলেন, 'স্টুডিও, শুটিং লোকেশন আর হোটেলের বাইরে খুব বেশি কিছু দেখার সুযোগ আমার হয়নি। কারণ, তখন রমজান মাস ছিল। আমরা পুরোপুরি কাজেই মনোযোগী ছিলাম। পুরো সময়টাই আমি খুব ব্যস্ত ছিলাম। তবে যখনই একটু অবসর পেয়েছি, নিজের জন্য কেনাকাটা করতে বের হয়েছিলাম। এমনকি কিছু ঐতিহ্যবাহী পোশাকও কিনেছিলাম। স্থানীয় খাবারও খেয়েছি, আর সেগুলো ছিল খুবই সুস্বাদু। খাবারগুলো কিছুটা ঝাল ছিল, ভারতীয় খাবারের মতো, কিন্তু আমি বেশ উপভোগ করেছি। আমার শুধু ইতিবাচক স্মৃতিই রয়েছে। আমি সত্যিই আশা করি, কোনো একদিন আবার বাংলাদেশে ফিরে আসতে পারব।'
বাংলাদেশের সংগীত সম্পর্কে পূর্ব জ্ঞান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বাংলাদেশের সংগীত সম্পর্কে আগে কতটা জানতেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'এর আগে আমি বাংলাদেশি গান খুব একটা শুনতাম না। আমি শুধু একটি গান শুনেছি, সেটি ‘জোছনা করেছে আড়ি’। তাজিকিস্তানে আমার একজন শিক্ষক একসময় আমাকে গানটি শিখিয়েছিলেন। এর বাইরে বাংলাদেশ সম্পর্কে আমার প্রায় কিছুই জানা ছিল না।'
ভবিষ্যতে আর কোনো বাংলা গানে তাঁকে পাওয়া যাবে কি না জানতে চাইলে মেহরনিগর বলেন, 'অভিজ্ঞ কোনো সংগীত প্রযোজকের কাছ থেকে আবার প্রস্তাব পেলে কাজ করব। এমনকি বাংলায় গানও করতে চাই। সংগীতের মাধ্যমে এই সুন্দর বন্ধনকে আরও গভীর করতে আমি মুখিয়ে আছি।'



