কাকা—ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার। তাঁর জন্ম ১৯৮২ সালের ২২ এপ্রিল। ফুটবলার হিসেবে এক জীবনে যা কিছু পাওয়া সম্ভব, তার প্রায় সবই স্পর্শ করে ফেলার পর ২০১৭ সালে অবসর নেন। এরপর কাকা শুভেচ্ছাদূত ও বক্তা হিসেবে কাজ করছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থার সঙ্গেও যুক্ত আছেন। অংশ নেন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ও ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানে। পেশাজীবনে এত সাফল্যের বাইরে বিশ্বজুড়ে নারীদের ভেতর কাকার এক অদ্ভুত জনপ্রিয়তা রয়েছে।
কাকার ব্যক্তিগত জীবন
বিশ্বের অন্যতম সুদর্শন এই ফুটবলার ২০০৫ সালে, ২৩ বছর বয়সে কোটি তরুণীর হৃদয় ভেঙে বিয়ে করেন ১৮ বছর বয়সী ক্যারোলিন সেলিকোকে। তিনি মূলত কাকার স্ত্রী হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পেলেও পরবর্তী সময়ে লেখক, উদ্যোক্তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও গসপেল গায়িকা হিসেবে আলাদা করে নিজের পরিচয় গড়ে তোলেন।
কাকা–সেলিকোর ঘরে ২০০৮ সালে আসে ছেলে লুকা সেলিকো লেইতে ও ২০১১ সালে মেয়ে ইসাবেলা সেলিকো লেইতে। এক দশক সংসারের পর ২০১৫ সালে কাকা ও তাঁর প্রথম স্ত্রীর বিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদের পর সেলিকো এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, কাকা একজন ‘ভালো জীবনসঙ্গী’ ছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের জীবনের লক্ষ্য ও চাহিদায় পার্থক্য তৈরি হয়েছিল। এ মন্তব্য সে সময় ব্রাজিল ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়।
২০১৯ সালে ৩৭ বছর বয়সী কাকা বিয়ে করেন ২৪ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান মডেল ক্যারোলিনা ডিয়াজকে। ২০২০ ও ২০২৩ সালে কাকা ও ক্যারোলিনার ঘরে আসে এস্থার লেইতে ও সারা বাতিস্তা লেইতে নামে দুই মেয়ে। প্রথম পক্ষের দুই সন্তানসহ এই চার সন্তানই (৩ মেয়ে ও ১ ছেলে) আছে কাকা ও ক্যারোলিনার সঙ্গে।
কাকার মোট সম্পদ ও বর্তমান অবস্থান
কাকার সম্পদের পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে কিছু মতভেদ আছে। সেলিব্রিটি নেট ওর্থ অনুসারে, কাকার মোট সম্পদ ১০০ মিলিয়ন ডলারের কম নয়। যা প্রায় ১ হাজার ২২৯ কোটি টাকার সমান। অবসরের পর কাকা বছরের বড় অংশ ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রে কাটান। কাকা অবসর নেওয়ার আগপর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো সিটি এসসি ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কেননা ক্যারিয়ারের শেষ দিকে তিনি এই ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। তবে নিয়মিত ব্রাজিলেও থাকেন।
অবসরের এক দশক পরও কাকা কেন এতটা জনপ্রিয়
ফুটবল–ভক্তদের কাছে কাকা শুধু দক্ষতার জন্য নয়; বরং তাঁর শারীরিক সৌন্দর্য, ভদ্রতা, হাসি, বিনয় ও পরিচ্ছন্ন সম্মোহনী ভাবমূর্তির জন্যও বিশেষভাবে সম্মানিত। অনেক সমর্থক তাঁকে একবিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকের সবচেয়ে সুদর্শন, নান্দনিক ও মার্জিত মিডফিল্ডারদের একজন হিসেবে মনে করেন।
কাকার প্রাপ্তি
কাকা ফুটবল ইতিহাসের খুবই বিরল খেলোয়াড়দের একজন, যিনি বিশ্বকাপ (২০০২), উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ (২০০৭) ও ব্যালন ডি’অর (২০০৭) জিতেছেন। অনেক সমর্থকের মতে, তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা সময় ছিল এসি মিলানে—২০০৩–২০০৯ সালে। এ সময়েই তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।



