জয়া আহসান ফিরছেন ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ নিয়ে, চান হালকা চরিত্র
জয়া আহসান ফিরছেন ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ নিয়ে, চান হালকা চরিত্র

জয়া আহসান ফিরছেন ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ নিয়ে। ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া কৌশিক গাঙ্গুলির ‘অর্ধাঙ্গিনী’ সিনেমাটির সিকুয়েল এটি। প্রথম কিস্তিতে মেঘনা চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন জয়া। দ্বিতীয় কিস্তিতেও মেঘনার চরিত্রে দেখা যাবে তাকে।

‘অর্ধাঙ্গিনী’র গল্প ও সাফল্য

‘অর্ধাঙ্গিনী’ ছিল সম্পর্কের এক জটিল সমীকরণের গল্প। বিয়ের ১৭ বছর পর সুমন (কৌশিক সেন) ও শুভ্রা (চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়) তাদের সাংসারিক জীবনে ইতি টানেন। কিন্তু সুমনের আকস্মিক অসুস্থতা—শপিং মলে সেরিব্রাল অ্যাটাক—সব পাল্টে দেয়। সুমন এখন বিবাহিত, তার স্ত্রী মেঘনা (জয়া আহসান) মুসলমান। ভবানীপুরের বনেদি বাড়ি ছেড়ে তারা গলফ গ্রিনের ভাড়াবাড়িতে নতুন সংসার শুরু করেন। মেঘনা স্বামীকে বাঁচাতে শুভ্রার শরণাপন্ন হয়, টাকার জন্য নয়, বরং স্বামীর ফেলে আসা সংসারের চাবি বুঝে নিতে। সুমন ফিরে আসবে কি না—এমন প্রশ্ন নিয়েই নির্মিত হয় সিনেমাটি। বাণিজ্যিক সাফল্যের পাশাপাশি সমালোচকদের প্রশংসাও পায় ‘অর্ধাঙ্গিনী’।

কৌশিক গাঙ্গুলির সঙ্গে রসায়ন

২০১৭ সালে ‘বিসর্জন’ দিয়ে প্রথম কৌশিক গাঙ্গুলির সঙ্গে কাজ করেন জয়া। এরপর করেছেন ‘বিজয়া’, ‘অর্ধাঙ্গিনী’ ও ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’। ‘বিসর্জন’ ও ‘বিজয়া’র জন্য ফিল্মফেয়ার ইস্ট, জি সিনে অ্যাওয়ার্ডসহ একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। জয়া বলেন, ‘দেখুন, তাঁর সঙ্গে রসায়নটা কেন বারবার আমাদের সাফল্য পায় আমি ঠিক জানি না। হতে পারে তাঁর চিত্রনাট্য অথবা পরিচালনার গুণ, আমি ঠিক জানি না। তবে সম্পর্কের গল্প বলতে তাঁর জুড়ি নেই।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মেঘনা চরিত্রের বিবর্তন

প্রথম কিস্তিতে মেঘনার নানা চড়াই-উতরাই দেখেছেন দর্শক। এবার মেঘনাকে আরও সাহসী হতে দেখা যাবে। জয়া বলেন, ‘মেঘনা চরিত্রটা তো আগে থেকেই তৈরি ছিল। তারপর সময় কিছুটা কেটে গেছে। শহরটা মেঘনার অনেকখানি হয়ে গেছে। ও পরিবারের একজন অংশ হয়ে গেছে। পরিবারে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। বাচ্চাটা বড় হয়েছে। মেঘনার জীবনে নতুন নতুন আরও চরিত্র এসেছে। যেমন করে সিনেমাতে নতুন চরিত্রগুলো আসে। ও আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। কিন্তু সংসারে এবারও নানা রকমের টানাপোড়েন তৈরি হয়, অদ্ভুত পরিস্থিতিতে পড়তে হয় মেঘনাকে। নতুন সিনেমায় সেটাই উঠে এসেছে।’

হালকা চরিত্রের খোঁজে

ঢাকা ও কলকাতা মিলিয়ে গত বছরটা দারুণ কাটিয়েছেন জয়া। ‘জয়া আর শারমিন’, ‘উৎসব’, ‘তাণ্ডব’, ‘ডিয়ার মা’ ও ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’—পাঁচ সিনেমায় পাঁচ ধরনের বৈচিত্র্যময় চরিত্রে চমকে দিয়েছেন তিনি। কখনো করোনায় ঘরবন্দী অভিনেত্রী, কখনো ভূত, সাংবাদিক, কখনো মায়ের ভূমিকায়; কখনো আবার মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কুসুম। তবে ‘উৎসব’-এর ভূতের চরিত্রটি ছাড়া সবগুলোই ছিল জটিল মনস্তাত্ত্বিক চরিত্র। চলতি বছরের শুরুতে কলকাতায় মুক্তি পেয়েছিল সৌকর্য ঘোষালের ‘ওসিডি’; সেখানে তিনি চিকিৎসকের ভূমিকায় অভিনয় করেন। জয়া জানান, জটিল চরিত্রে বিরতি দিয়ে একটু ‘হালকা’ মেজাজের চরিত্র তিনিও করতে চান। তিনি বলেন, ‘আমি তো অভিনয়শিল্পী; নানা ধরনের চরিত্র করতে চাই। একটু হালকা মেজাজের চরিত্রে আমিও অভিনয় করতে চাই। এ ধরনের কিছু চরিত্র নিয়ে কথা চলছে। বাকিটা তো নির্মাতাদের ওপর।’

‘ডাইনি’ হয়ে পুরস্কার

জয়া আহসান অভিনয়ের জন্য নিয়মিত পুরস্কার জেতেন। ৩ জুলাই চরকি অ্যাওয়ার্ডসে তিনি সেরা নারী অভিনয়শিল্পীর পুরস্কার পান। নুহাশ হুমায়ূনের ‘২ষ’-এর ‘বেসুরা’ পর্বে অভিনয়ের জন্য এ পুরস্কার। তবে এ পুরস্কারটি ব্যতিক্রম—তিনি পর্দায় ডাইনি হয়ে জিতেছেন! একটি ছোট মেয়ে, যার গলায় সুর নেই, তাকে সাজা দেওয়ার পরিকল্পনা করেন এলাকার বড় সংগীত সাধক। এরপর শোনা যায় বিশেষ কণ্ঠ, শেষে দেখা যায় সেই নারীকে। বেসুরার সঙ্গে তার সম্পর্ক কী—এমন গল্পের পর্বটিতে শুরুতে জয়ার উপস্থিতির কথা বলেননি নির্মাতারা। ডাইনি চরিত্রে অভিনয়ের কথা শুনেই কাজটি করতে আরও আগ্রহী হয়েছিলেন বলে জানান জয়া। তিনি বলেন, ‘দর্শকেরা সবাই কমবেশি জানেন আমি ক্যারেক্টার আর্টিস্ট, ভিন্ন রকম চরিত্র করতে পছন্দ করি। গল্পটাও আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। নুহাশ হুমায়ূন ও গুলতেকিন খান মিলে ভীষণ শক্তিশালী গল্প লিখেছেন। ক্যামিও চরিত্র হিসেবে কাজটি করেছিলাম। ছোট চরিত্র হলেও এর প্রভাব অনেক বেশি। সেই চরিত্রের জন্য পুরস্কার পেয়ে ভালো লাগছে।’

নতুন নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করতে চান

গত এক দশকে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সব নির্মাতার সঙ্গেই কাজ করেছেন জয়া। এমনকি আনকোরা পরিচালকের সঙ্গেও কাজ করতে দ্বিধা করেননি। ২০২১ সালে হাবিবুর রহমানের ‘অলাতচক্র’ মুক্তির সময় জয়া বলেছিলেন, নতুন নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করতে তিনি সব সময় মুখিয়ে থাকেন। তবে এবার নির্মাতাদের প্রসঙ্গ উঠতেই একটু চুপ থাকলেন জয়া। একটু থেমে জানালেন, তিনি প্রয়াত ঋতুপর্ণ ঘোষকে খুব মিস করেন। ‘সবচেয়ে বড় মিস করেছি আমি ঋতুদাকে। অনিক দত্তকেও খুব মিস করব। বাংলাদেশ বা কলকাতায় হোক নতুন নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করতে চাই। আশা করি, নতুন নির্মাতারা আমাকে ডাকবেন,’ বলেন তিনি।

আলাপের শেষে জয়া জানান, চলতি বছর একটু ‘ধীরে চলো’ নীতিতে চলছেন তিনি। গত বছর একসঙ্গে এতগুলো সিনেমা মুক্তি পেয়েছে, ঢাকা আর কলকাতা মিলিয়ে প্রচারে অংশ নেওয়াটাও কম ঝক্কির নয়। তারপরও কিছু কাজ করেছেন, কিছু করছেন; আরও কয়েকটি প্রকল্পের কথা চলছে। তবে চূড়ান্ত হয়ে প্রযোজনা সংস্থা ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বলতে মানা।