কেপ ভার্দের চমক: বিশ্বকাপে আলোচিত দেশটির সেরা ৫ সিনেমা
কেপ ভার্দের চমক: বিশ্বকাপে আলোচিত দেশটির সেরা ৫ সিনেমা

প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েই বিশ্ববাসীকে চমকে দিয়েছে কেপ ভার্দে। প্রথম ম্যাচেই স্পেনের সঙ্গে ড্র করে বিশ্বকাপে আলোচিত নাম হয়ে উঠছে দেশটি। একই সঙ্গে আলোচিত নাম গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। মাত্র ছয় লাখের কিছু বেশি দেশটির জনসংখ্যা। তারাই চমক সৃষ্টি করেছে। সেই দেশের এই পাঁচ সিনেমাও আপনাকে চমকে দেবে। দেখে নিতে পারেন কেপ ভার্দের সাড়াজাগানো পাঁচ সিনেমা।

১. ‘অশ ফ্লাগেলাদশ দু ভেনতু লেশতি’ (১৯৯৫)

এটি কেপ ভার্দের আলোচিত সিনেমা। চলচ্চিত্রটির কেন্দ্রীয় চরিত্র হোসে দা ক্রুজ। তিনি কেপ ভার্দের সান্তো আন্তাঁও দ্বীপের একজন কৃষক। প্রকৃতির ওপর ভরসা করে জমি চাষ করেন। প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাগ করে নেন সুখ-দুঃখ। কিন্তু দীর্ঘ খরা দ্বীপটিকে বিপর্যস্ত করে তোলে। ফসল নষ্ট হয়, খাদ্যসংকট দেখা দেয়, পরিবারগুলো বেঁচে থাকার জন্য উপকূলের দিকে পাড়ি জমাতে বাধ্য হয়। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের মুখে মানুষের মর্যাদা, বিশ্বাস ও টিকে থাকার লড়াই–ই হয়ে ওঠে ছবির মূল বিষয়। ইতালীয় নব্য বাস্তবতার ধারায় নির্মিত আফ্রিকান এই সিনেমা। সিনেমাটিকে বলা হয়, এটি কেপ ভার্দের ইতিহাস, জলবায়ু এবং সামাজিক বাস্তবতার দলিল। ম্যানুয়েল লোপেজের মূল উপন্যাস থেকে এটি নির্মিত।

২. ‘দ্য আইল্যান্ড অব কনটেন্ডা’ (১৯৯৬)

সিনেমাটিতে উঠে এসেছে ১৯৬৪ সালের কেপ ভার্দের সমাজ ও সংস্কারের গল্প। এক বিশাল আগ্নেয়গিরির পাদদেশে দাঁড়িয়ে এ সময়ে দেশটির ঐতিহ্যবাহী সমাজব্যবস্থা ধীরে ধীরে বদলে যেতে শুরু করেছে। পুরোনো অভিজাত শ্রেণির প্রভাব ভেঙে পড়ে। আর তাদের জায়গায় উঠে আসে বাণিজ্যনির্ভর আর্থিক শক্তিতে বলীয়ান এক নতুন শ্রেণি। আফ্রিকান ও পর্তুগিজ সংস্কৃতির মিশেলে গড়ে উঠছে এক নতুন পরিচয়। সমাজের পরিবর্তন ও নতুন পরিচয় কেপ ভার্দের সংস্কৃতিকে কোথায় দাঁড় করিয়েছিল—সেই গল্প নিয়েই সিনেমাটি। এর মধ্যে দিয়ে উঠে আসে কেপ ভার্দের নাগরিকদের নিজেদের খোঁজার গল্প। এটি পরিচালনা করেছেন লিয়াও লোপেজ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

৩. ‘ফিনতার ও ডেসটিনো’ (১৯৯৮)

কেপ ভার্দের সাঁও ভিসেন্তে দ্বীপের বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সী মানে। একসময় তিনি ছিলেন জনপ্রিয় গোলরক্ষক। এখন তিনি একটি পানশালা পরিচালনা করেন। একই সঙ্গে স্থানীয় তরুণদের ফুটবল প্রশিক্ষণ দেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর অতীতের খ্যাতি ম্লান হয়ে গেলেও তিনি নতুন প্রজন্মের মধ্যে নিজের দেখা স্বপ্ন বুনতে থাকেন। তাঁর সবচেয়ে মেধাবী ছাত্র কাল্লুকে তিনি পর্তুগালের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবে খেলার সুযোগ করে দিতে চান—যে সুযোগ একসময় তাঁর নিজের হাতছাড়া হয়েছিল। স্ত্রীর আপত্তি উপেক্ষা করে মানে লিসবনে পাড়ি জমান। সেখানে তাঁর লক্ষ্য শুধু বেনফিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ দেখা নয়, কাল্লুর ভবিষ্যতের দরজাও খুলে দেওয়া। লিসবনে তিনি একই সঙ্গে নিজের অতীত, অপূর্ণ স্বপ্ন এবং বিচ্ছিন্ন পারিবারিক সম্পর্কের মুখোমুখি হন। শেষ পর্যন্ত বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে তিনি ফিরে আসেন নিজের দ্বীপে, কিছুটা হতাশ, কিন্তু জীবনের নতুন উপলব্ধি নিয়ে। এটি পরিচালনা করেছেন পর্তুগিজ নির্মাতা ফেরনান্দু ভেনদ্রেল।

৪. ‘বাতুকে, দ্য সোল অব আ পিপল’ (২০০৬)

কেপ ভার্দে নিয়ে এটি একটি তথ্যচিত্র। এতে উঠে এসেছে কেপ ভার্দের মানুষের সংস্কৃতির কথা। ১৪৬২ সালে পর্তুগিজরা প্রথম আফ্রিকান দাসদের কেপ ভার্দেতে নিয়ে আসে। তাদের সঙ্গে আসে বিশেষ এক সাংস্কৃতিক ছন্দ ও সংগীতধারা, যা পরে ‘বাতুকে’ নামে পরিচিত হয়। এই সংগীত ও নৃত্যরীতিতে ঢোলের তালে অংশগ্রহণকারীরা বৃত্তাকারে নাচে। ঔপনিবেশিক আমলে বাতুকে দমন করা হলেও পরবর্তী সময়ে এটি কেপ ভার্দের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে ওঠে। এটি পরিচালনা করেছেন জুলিও সিলভা তাভারেস।

৫. ‘হানামি’ (২০২৪)

এক প্রত্যন্ত আগ্নেয় দ্বীপে নানার জন্ম। অদ্ভুত এই দ্বীপের সব বাসিন্দাই দ্বীপটি ছেড়ে যেতে চায়। এই দ্বীপ ছেড়ে একদিন নানার মা চলে যায়। নানা বেড়ে ওঠে তার বাবার পরিবারে। দ্বীপ থেকে দূরে। কিশোরী নানা একসময় অসুস্থ হয়ে পড়ে। জ্বরে আক্রান্ত হলে চিকিৎসার জন্য নানাকে সেই আগ্নেয়গিরির পাদদেশে পাঠানো হয়, যেখানে স্বপ্ন আর বাস্তবতার মাঝামাঝি এক রহস্যময় জগতের মুখোমুখি হয় নানা। বহু বছর পর, কিশোরী নানা আবার দ্বীপে ফিরে দেখা পায় মায়ের। মানবিক সম্পর্কের এই গল্পটি বানিয়েছেন ডেনিস ফার্নান্দেজ। তিনি বেড়ে উঠেছেন সুইজারল্যান্ডে। কিন্তু তাঁর বাবা-মায়ের জন্ম কেপ ভার্দের এই দ্বীপে। সিনেমাটি ২০২৪ সালে আলোচনায় আসে। লোকার্ন চলচ্চিত্র উৎসব থেকে এটি সেরা ইমার্জিং ডিরেক্টর পুরস্কার পায়। সিনেমাটি কেপ ভার্দের সঙ্গে সুইজারল্যান্ড, পর্তুগালের যৌথ প্রযোজনার নির্মাণ।