চরকির ‘চা গরম’ দর্শকদের হৃদয় জয় করছে, সামাজিক মাধ্যম জুড়ে প্রশংসার ঝড়
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ‘চা গরম’। শঙ্খ দাশগুপ্ত পরিচালিত চরকি অরিজিনাল ফিল্মটি ১৪ এপ্রিল মুক্তির পর থেকেই ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে। ফেসবুকে চলচ্চিত্রবিষয়ক বিভিন্ন গ্রুপে ফিল্মটির নানা দিক নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকেও বেশি রিভিউ পাওয়া যাচ্ছে ‘চা গরম’ সম্পর্কে। দর্শকদের মতে, এই ফিল্মটি ব্যস্ত জীবনে মানসিক প্রশান্তি দেওয়ার মতো একটি কাজ। অনেক দর্শক এই ফিল্মটিকে অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন।
দর্শকদের উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া
রায়হান এইচ সালমান ‘চা গরম’ দেখে লিখেছেন, ‘গল্প আর অভিনয়—দুটোই এককথায় দুর্দান্ত।’ বাঁধন হাজং লিখেছেন, ‘এত সিরিয়াস গল্পের মধ্যেও এত কমেডি, খুব ভালো লেগেছে। এই যে প্রান্তিক মানুষের গল্প অজানা থেকে যায়।’ মহুয়া আক্তার লিখেছেন, ‘“চা গরম” দেখলাম—সত্যিই দারুণ একটা কাজ।’ ফাতেমা আক্তার ‘চা গরম’–কে ১০ এর মধ্যে ৮.৫ রেটিং দিয়েছেন। ‘চা গরম’ ফিল্মটিকে চরকির সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভালো কনটেন্ট বলছেন মারুফ চৌধুরী ও মেহেদী হাসান মুন। ফিল্মটিকে একেবারে ফ্রেশ, ফিল গুড, নিজস্ব একটা গল্প বলছেন আশিকুর রহমান। একই রকম কথা বলেছেন লীলাবতী লিলু; ফ্রেশ ফিলের কোনো কাজ দেখতে চাইলে ‘চা গরম’ দেখতে বলেছেন তিনি। সৈয়দা সাবরিনা সাবাহ এবং ফাতেমা আক্তার ‘চা গরম’–কে ‘হাইলি রিকমেন্ড’ করেছেন। আরও অনেক উৎসাহী মন্তব্য লিখছেন দর্শকেরা।
সমালোচকদের প্রশংসা
চলচ্চিত্র সমালোচক খন্দকার স্বনন শাহরিয়ার ‘চা গরম’–এর রিভিউর শিরোনাম দিয়েছেন, ‘চা-বাগানের তেতো সত্য আর দুধ-চিনি মেশানো মিষ্টি গল্প’। শিরোনাম থেকেই বোঝা যায় ফিল্মটি তাঁকে কতটা আকৃষ্ট করেছে। তিনি ‘চা গরম’–কে দুধ-চিনি মেশানো মিষ্টি গল্প বলেছেন। নির্মাতা শঙ্খ দাশগুপ্ত এটাই নির্মাতার আসল পুরস্কার বলে উল্লেখ করেছেন। দর্শকদের কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ জন্য আরও ভালো লাগছে যে দর্শকেরা তাঁদের ভালো লাগার কথা লিখছেন এবং অন্যকে দেখার জন্য অনুপ্রাণিত করছেন। এর জন্য দর্শকদের অনেক ধন্যবাদ।’
বিনোদন পেজগুলোর প্রতিক্রিয়া
বিনোদনবিষয়ক পেজগুলোতেও ‘চা গরম’ নিয়ে লেখা চলছে। বাংলা চলচ্চিত্র গ্রুপে হেলি চাকমা লিখেছেন, ‘লোকেশন, সিনেমাটোগ্রাফি, মিউজিক আর ডিরেকশন সবকিছু মিলিয়ে ভালো একটা ফিল–গুড কাজ হয়েছে। ধন্যবাদ “চা গরম” টিমকে।’ রেমনেন্ট গ্লিমস ‘চা গরম’–কে রিসেন্ট সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ওয়েব ফিল্ম বলছে। বিএমআর বলছে, ‘পরিচালক শঙ্খ দাশগুপ্ত বেশ ইঙ্গিতপূর্ণভাবে গল্পটা বলে গেছেন। পুরোটা সময় একটা ফিল–গুড ভাইব বজায় ছিল।’
চরিত্রগুলোর প্রতি দর্শকদের আকর্ষণ
গল্প এবং নির্মাণের পাশাপাশি দর্শকদের নজর কেড়েছে প্রতিটি চরিত্র। চরিত্রগুলো নিয়ে আলাদা করে লিখেছেন অনেকেই। ‘মিঠু চরিত্রে পার্থ শেখকে খুব মানিয়েছে, সাফা কবির আইরিন চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরার স্পেস পেয়েছেন’—এমন মন্তব্য করেছেন দর্শকেরা। নন্দিনী চরিত্র নিয়ে দর্শকদের মন্তব্য, ‘এই কাজে সারাহ জেবীন অদিতি দারুণভাবে নজর কেড়েছেন। তার অভিনয় ছিল একেবারে স্বাভাবিক ও সাবলীল। শ্রীমঙ্গলের একটি লোকাল মেয়ের চরিত্রে তাকে এতটাই মানিয়েছে যে কোথাও কোনো কৃত্রিমতা দেখা যায়নি।’
রবিন চাঁদ মুর্মুর আলোচনা
সবচেয়ে আলোচিত চরিত্রটি হলো রবিন চাঁদ মুর্মু। চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন রেজওয়ান পারভেজ। দর্শক শাহজাদী বেগম তাঁর প্রশংসা করে লিখেছেন, ‘দর্শকদের কমেন্টগুলো আপনার জানা দরকার। দুদিনের মধ্যে আপনার দুর্দান্ত প্রতিভা দৃশ্যমান।’ রেমনেন্ট গ্লিম্পস বলছে, ‘রেজওয়ান পারভেজ এককথায় অসাধারণ। রবিন চাঁদ মুর্মু নামে ফেসবুকে একটি পেজও খুলেছেন ভক্তরা, যেখানে চরিত্রটির ছবি এবং সংলাপ শেয়ার করা হচ্ছে।’ এ নিয়ে রেজওয়ান পারভেজ বলেন, ‘চরিত্রটির সংলাপ বা কথা বলার ভঙ্গি এমন ছিল না। পরে আমি এবং পরিচালক মিলে সিদ্ধান্ত নিই যে সিনেমায় রবিন চরিত্রটি স্থানীয় ভাষায় কথা বলবে। কাজটা কঠিন ছিল কিন্তু চ্যালেঞ্জটা নেওয়া হয়েছিল বলে দর্শকেরাও এটা পছন্দ করছে। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।’ ফেসবুকে রেজওয়ান পারভেজ লিখেছেন, ‘ফেসবুকে নিজের করা চরিত্র (রবিন চাঁদ মুর্মু) নামে নতুন পেজ দেখতে পেয়ে খুব আনন্দিত। পেজের অ্যাডমিনের প্রতি কৃতজ্ঞতা।’
ফিল্মটির অন্যান্য তথ্য
গল্পে আরও আছেন এ কে আজাদ সেতু। গল্প ও চিত্রনাট্য করেছেন সাইফুল্লাহ রিয়াদ। চরকি ও অক্সফাম যৌথ প্রযোজনায় ফিল্মটি নির্মিত হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায়। ফিল্মটির সঙ্গে যুক্ত আছে মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রবি এবং রিভাইভাল টি। সামগ্রিকভাবে, ‘চা গরম’ বাংলা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হিসেবে দর্শকদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে।



