‘জন নায়গণ’ ছবির গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য ফাঁস, বিজয়ের শেষ সিনেমা নিয়ে উদ্বেগ
‘জন নায়গণ’ ফুটেজ ফাঁস, বিজয়ের শেষ সিনেমা নিয়ে উদ্বেগ

‘জন নায়গণ’ ছবির ফাঁস হওয়া দৃশ্যে ভক্তদের উদ্বেগ

তামিল সিনেমার জনপ্রিয় তারকা ও রাজনীতিবিদ থালাপতি বিজয়ের আলোচিত সিনেমা ‘জন নায়গণ’ মুক্তির আগেই বড় ধাক্কা খেয়েছে। ছবিটির কিছু গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য ও একটি গানের অংশ হঠাৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ফাঁস হওয়া ফুটেজের বিবরণ

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে অনলাইনে ফাঁস হওয়া ফুটেজে প্রায় পাঁচ মিনিটের একটি অংশ দেখা গেছে বলে জানা গেছে। এতে রয়েছে ছবির টাইটেল ক্রেডিটস, বিজয়ের পরিচিতিমূলক দৃশ্য ও একটি গানের কিছু অংশ। এ ছাড়া একটি কারাগারের দৃশ্যও দেখা গেছে, যেখানে বন্দীর পোশাকে কোদাল হাতে বিজয়কে দেখা যায়। পরে তাঁর স্বাক্ষরধর্মী স্টাইলে একটি অ্যাকশন দৃশ্যও ফুটে ওঠে।

ফাঁস হওয়া এই ক্লিপগুলো খুব দ্রুতই বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঠিক কোথা থেকে এই ফুটেজ ফাঁস হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিজয়ের শেষ সিনেমা হিসেবে গুরুত্ব

‘জন নায়গণ’ ছবিটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটিকে বিজয়ের শেষ সিনেমা হিসেবে ধরা হচ্ছে। অভিনয় থেকে সরে গিয়ে পূর্ণকালীন রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আগে এটিই তার বিদায়ী চলচ্চিত্র বলে প্রচার চলছে। ফলে ছবিটি ঘিরে ভক্তদের প্রত্যাশাও ছিল তুঙ্গে।

এর মধ্যেই এমন ফাঁসের ঘটনায় হতাশ ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে পুরো ছবিটি ফাঁস না হয়ে যায় এবং নির্মাতাদের ক্ষতি কমানো যায়।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রতীকী অর্থ

ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে যখন নির্বাচনী আবহ, বিশেষ করে তামিলনাড়ুর রাজনীতি যখন উত্তপ্ত, তখন এই ছবিকে ঘিরে আগ্রহ আরও বেশি। কারণ, এই ছবির পরই রাজনীতিতে আরও সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন বিজয়। ফলে সিনেমা আর রাজনীতির এই সন্ধিক্ষণে ‘জন নায়গণ’ কেবল একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং একটি প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এমন পরিস্থিতিতে ফাঁস হওয়া ফুটেজ শুধু একটি ছবির জন্যই নয়, পুরো চলচ্চিত্র শিল্পের জন্যই বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আইনি জটিলতা ও মুক্তির বিলম্ব

‘জন নায়গণ’ নিয়ে আইনি লড়াইয়ের ইতিহাসও বেশ দীর্ঘ ও জটিল। প্রথমে ছবিটি সেন্সর বোর্ডের এক্সামিনিং কমিটি সার্টিফিকেশনের জন্য ছাড়পত্র দেয়। এরপরও সিবিএফসি ছবিটিকে রিভাইজিং কমিটির কাছে পাঠায়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কেভিএন প্রোডাকশনস আদালতের দ্বারস্থ হয়।

মাদ্রাজ হাইকোর্টের একক বিচারপতি প্রথমে নির্মাতাদের পক্ষে রায় দিয়ে ছবিটিকে ইউএ সার্টিফিকেট দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে সেন্সর বোর্ড ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে ডিভিশন বেঞ্চ একক বিচারপতির রায় বাতিল করে দেন। আদালত জানান, সেন্সর বোর্ডকে যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়নি পাল্টা হলফনামা দেওয়ার জন্য।

এরপর নির্মাতারা সুপ্রিম কোর্টে যান। কিন্তু সেখানে তাদের আবেদন খারিজ করে দিয়ে বলা হয়, বিষয়টি আবার মাদ্রাজ হাইকোর্টেই নিষ্পত্তি করতে হবে। ফলে পুরো প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হয় এবং ছবির মুক্তি আরও পিছিয়ে যায়।

‘জন নায়গণ’ ছবিটি মূলত গত ৯ জানুয়ারি বিশ্বব্যাপী মুক্তির কথা ছিল। কিন্তু আইনি জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি।