‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ১৮ দিনে ১ লাখ দর্শক ও ৫ কোটি টাকার আয়, বিদেশেও সফল
বনলতা এক্সপ্রেস ১৮ দিনে ১ লাখ দর্শক, আয় ৫ কোটি টাকা

‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার অভূতপূর্ব সাফল্য: ১৮ দিনে ১ লাখ দর্শক ও ৫ কোটি টাকার আয়

ঈদুল ফিতরের উৎসবে মুক্তি পাওয়া বাংলা সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। মুক্তির পর থেকেই এটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল, এবং এখন এর সাফল্য টিকিটের সংখ্যা ও আয়ের মাধ্যমে দৃশ্যমান হচ্ছে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ দিনে সিনেমাটি ১ লাখের বেশি দর্শক টিকিট কেটে উপভোগ করেছেন, যা বাংলা সিনেমার ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।

দর্শকদের ভালোবাসায় অনুপ্রাণিত নির্মাতারা

সিনেমাটির পরিচালক তানিম নূর দর্শকদের এই বিপুল সাড়াকে ভালোবাসার প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘দর্শক সিনেমাটি দেখছেন এটাই আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় পাওয়া। কারণ, দর্শকদের জন্যই সিনেমা বানানো হয়। এই ভালোবাসাই আমাদের কাছে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।’ সাধারণত বাংলা সিনেমায় দর্শকসংখ্যা প্রকাশ করা হয় না, কিন্তু ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ শুধুমাত্র দেশের মাল্টিপ্লেক্সে মুক্তি পাওয়ায় টিকিটের সঠিক তথ্য জানা সম্ভব হয়েছে।

আয়ে শীর্ষে অবস্থান ও বিদেশি বাজারে সাফল্য

প্রযোজনা সূত্রে জানা গেছে, ঈদের অন্যান্য সিনেমার মধ্যে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ আয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছে। মুক্তির পর থেকে এটি ৫ কোটি টাকার বেশি আয় করেছে, যা এর জনপ্রিয়তার স্পষ্ট প্রমাণ। এছাড়া, সিনেমাটি বিদেশের বাজারেও সফলতা পেয়েছে। শুধুমাত্র উত্তর আমেরিকার বাজার থেকেই মুক্তির প্রথম তিন দিনে ৫৪ হাজার মার্কিন ডলার আয় করেছে, এবং পরবর্তী দিনগুলোর আয় ও অস্ট্রেলিয়ার বাজারের আয় মিলিয়ে এই পরিমাণ লাখ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সিনেমার কাহিনি ও শিল্পী দল

‘বনলতা এক্সপ্রেস’ পরিচালনা করেছেন তানিম নূর, এবং ছবিটিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, শরীফুল রাজ, সাবিলা নূর, শ্যামল মাওলা, জাকিয়া বারী মম, আজমেরী হক বাঁধন, শামীমা নাজনীন, ইন্তেখাব দিনার, আরেফিন জিলানী প্রমুখ। প্রযোজনায় রয়েছে বুড়িগঙ্গা টকিজ এবং সহপ্রযোজনায় হইচই স্টুডিওস।

সিনেমার গল্প সম্পর্কে পরিচালক তানিম নূর বলেন, ‘ট্রেন যেমন দেশের এক প্রান্তকে অন্য প্রান্তের সঙ্গে যুক্ত করে, তেমনি ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ মানুষের হৃদয়ের বিচ্ছিন্ন গল্পগুলোকে এক সুতোয় গেঁথে দেয়। একটি ট্রেনের প্রতিটি বগিতে ভিন্ন ভিন্ন জীবনের হাসি-কান্না থাকে, এবং এই চলচ্চিত্রেও সম্পর্ক, স্মৃতি ও মানবিকতার চিরচেনা আবহ উঠে এসেছে। পুরো বাংলাদেশকে এক ট্রেনযাত্রার অভিজ্ঞতায় এবং একটি অভিন্ন অনুভূতিতে বেঁধে ফেলার চেষ্টা রয়েছে এই ছবিতে।’

এই সাফল্য বাংলা সিনেমা শিল্পের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে, এবং দর্শকদের আগ্রহ ও সমর্থন ভবিষ্যতের নির্মাণে উৎসাহ যোগাচ্ছে।