‘ভাজা ২’ সিনেমা বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে, মুক্তির পাঁচ দিনেই আয় ৭৯.২৩ কোটি রুপি
মালয়ালম সিনেমা জগতে নতুন এক ঝড়ের নাম ‘ভাজা ২’। নবাগত নির্মাতা সাভিন এস-এর পরিচালনায় নির্মিত এই ছবিটি মুক্তির মাত্র পাঁচ দিনেই বিশ্বজুড়ে ৭৯.২৩ কোটি রুপি আয় করে ফেলেছে, যা এটিকে ২০২৪ সালের অন্যতম বড় হিট সিনেমায় পরিণত করেছে। গ্রীষ্মকালীন ছুটির শুরুতেই কৌশলগতভাবে ছবিটি মুক্তি দেওয়া হয়, এবং পাশাপাশি জিতু জোসেফ ও মোহনলালের বহুল প্রতীক্ষিত ‘দৃশ্যম ৩’–এর মুক্তি পিছিয়ে মে মাসে যাওয়াও ‘ভাজা ২’–এর জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করে দেয়। ইতিবাচক দর্শক প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে মিলিয়ে ছবিটি বক্স অফিসে দুর্দান্ত সাফল্য অর্জন করেছে।
সোশ্যাল মিডিয়া থেকে মূলধারায়: হাশির ও দলের উত্থান
‘ভাজা ২’ সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন হাশির এইচ, আজিন জয়, বিনায়ক ভি ও অ্যালান বিন সিরাজ। এটি ২০২৪ সালের ‘ভাজা’–এর সিকুয়েল, যেখানে বন্ধুত্ব, কৈশোর ও বেড়ে ওঠার গল্পকে কমেডি-ড্রামার আঙ্গিকে তুলে ধরা হয়েছে। কেরালাজুড়ে ছবিটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তবে হাশির ও তাঁর দলের জন্য এই জনপ্রিয়তা নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক জনপ্রিয়—বিশেষ করে কিশোর ও তরুণ দর্শকদের মধ্যে তাঁদের বিশাল অনুসারী রয়েছে। মূলত এই অনলাইন জনপ্রিয়তাই তাদের ‘ভাজা’ ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রথম ছবিতে সুযোগ এনে দেয়, যদিও তখন তাঁদের চরিত্র ছিল ছোট এবং তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়।
কিন্তু ‘ভাজা ২’–এ চিত্রটা পুরো বদলে গেছে। এবার তাঁরা মূল চরিত্রে অভিনয় করে, এবং নিজেদের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দর্শকের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে উঠে এসে মূলধারার সিনেমায় এমন সাফল্য—এই প্রজন্মের কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য নতুন এক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
গল্পের গভীরতা ও সময়োপযোগী বিষয়বস্তু
‘ভাজা ২’ দর্শককে একের পর এক যত্নে সাজানো ঘটনার ভেতর দিয়ে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ দেখার পর মনে হয়, পুরো ছবিটি যেন আলাদা আলাদা পর্বে গড়া—প্রতিটি পর্বের নিজস্ব ছন্দ আছে, ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে, তারপর হঠাৎ করেই আবেগ বা বিশৃঙ্খলার বিস্ফোরণে পৌঁছে যায়। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে এই আবেগের ঢেউ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
সিনেমাটির মূলে রয়েছে ‘ব্যর্থ’ তরুণদের গল্প। কিন্তু দ্বিতীয় কিস্তিতে সেই ব্যর্থতার ভেতর থেকেই উঠে আসে এক অপ্রত্যাশিত সাফল্যের আখ্যান। হাশির, বিনায়ক, অ্যালান ও আজিন—এই চার তরুণ নিজেদের গ্রামীণ পটভূমিতে দাঁড়িয়ে সহজ-সরল ভিডিও বানাতে শুরু করে। সেগুলোই ভাইরাল হয়ে তাদের পৌঁছে দেয় চলচ্চিত্র নির্মাতাদের নজরে। সুযোগ পেয়ে তারা নিজেদের সীমা ভেঙে অভিনয়ে এনে দেয় হাস্যরস আর বেদনার মিশেল। তাদের উপস্থিতিতে ছবির বড় একটি অংশ যেন তাদের জনপ্রিয় শর্ট ভিডিওগুলোরই সম্প্রসারণ বলে মনে হয়। নির্মাতারাও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে তাদের বাস্তব নামই ব্যবহার করেছেন, যা ছবির বাস্তবতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
লেখক বিপিন দাস এবং নবাগত পরিচালক সাভিন এস এ প্রথম ছবির সফল ফর্মুলা থেকে কিছু অংশ নিয়েছেন—বিশেষ করে তরুণদের ভুল পথে যাওয়া ও ভবিষ্যৎ নষ্ট করার গল্প। তবে দ্বিতীয় পর্বে তারা সেই কাঠামোর ভেতর আরও অনেক স্তর যোগ করেছেন। কিছু জায়গায় গল্প একটু বেশি উপদেশমূলক হয়ে উঠলেও অধিকাংশ অংশই স্বতঃস্ফূর্ত, যেন বাস্তব বন্ধুদের জীবনের ঘটনা থেকেই উঠে এসেছে।
ছবির অন্যতম শক্তি হলো এর সময়োপযোগী বিষয়বস্তু। বিদেশে, বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়ার প্রবণতা, সেই স্বপ্নের সঙ্গে বাস্তবতার দূরত্ব—এই বিষয়গুলো ছবিতে এমনভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যা অনেক তরুণ দর্শকের সঙ্গে সহজেই মিলে যায়। আবার ভাইবোনের সম্পর্কের টানাপোড়েনও ছবিতে এক উষ্ণ ও মানবিক ভঙ্গিতে তুলে ধরা হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত বোঝাপড়া ও গ্রহণযোগ্যতার দিকে নিয়ে যায়। যদিও এসব পরিস্থিতির কিছু অংশ ক্লিশে, তবু উপস্থাপনার গুণে সেগুলো কার্যকর হয়ে ওঠে।
২ এপ্রিল মুক্তি পাওয়া সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন হাশির এইচ, অ্যালান বিন সিরাজ, বিনায়ক ভি ও আজিন জয়। এটি মালয়ালম সিনেমা শিল্পে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, এবং বক্স অফিসে এর ধারাবাহিক সাফল্য চলচ্চিত্র প্রেমীদের মধ্যে নতুন আশা জাগিয়েছে।



