৭৯তম বাফটা পুরস্কারে ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’র দাপট
ব্রিটিশ একাডেমি অব ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন আর্টস (বাফটা) পুরস্কারের ৭৯তম আসরে বাজিমাত করেছে পল টমাস অ্যান্ডারসনের রাজনৈতিক থ্রিলার ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’। গত রোববার রাতে লন্ডনের রয়্যাল ফেস্টিভ্যাল হলে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে সিনেমাটি সেরা ছবি, সেরা পরিচালকসহ সর্বোচ্চ ছয়টি পুরস্কার জিতে নেয়, যা হলিউডের সাম্প্রতিক পুরস্কার মৌসুমে এর প্রভাবকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।
সেরা ছবি ও পরিচালকের সম্মান
গভীরভাবে বিভক্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরা ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ দর্শক ও সমালোচক উভয়েরই প্রশংসা অর্জন করেছে। পুরস্কার গ্রহণের সময় পরিচালক পল টমাস অ্যান্ডারসন সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে সিনেমার শিরোনামটি এখন খুব অর্থবহ মনে হয়। এ সময়ে যেন এক যুদ্ধের পর আরেক যুদ্ধই চলতে থাকে। তবু আশা হারানো যাবে না।’ তাঁর এই মন্তব্য চলচ্চিত্রটির সামাজিক প্রাসঙ্গিকতাকে তুলে ধরে।
অভিনয় শিল্পীদের উল্লেখযোগ্য জয়
অন্যান্য বিভাগেও দেখা গেছে চমকপ্রদ ফলাফল। রবার্ট অ্যারামায়ো ‘আই সয়্যার’ সিনেমায় টুরেট সিনড্রোমে আক্রান্ত এক ব্যক্তির চরিত্রে অভিনয় করে সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতেছেন, হেভিওয়েট তারকাদের হারিয়ে। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই বিশ্বাস করতে পারছি না। এই সিনেমা এমন এক বিষয়কে সামনে এনেছে, যা নিয়ে মানুষের খুব বেশি ধারণা নেই।’
একইভাবে, জেসি বাকলি ‘হ্যামনেট’ সিনেমায় উইলিয়াম শেকসপিয়রের স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন, প্রথম আইরিশ অভিনেত্রী হিসেবে বাফটা জয় করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। ‘হ্যামনেট’ সেরা ব্রিটিশ ছবির পুরস্কারও জিতে নিয়েছে।
পার্শ্ব অভিনয় ও অন্যান্য বিভাগ
পার্শ্ব অভিনয় বিভাগে সেরা পার্শ্ব–অভিনেত্রী হয়েছেন নাইজেরীয়-ব্রিটিশ অভিনেত্রী উনমি মোসাকু (‘সিনার্স’), এবং সেরা পার্শ্ব–অভিনেতা শন পেন (‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’)। সেরা বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র হয়েছে নরওয়ের ‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’।
কারিগরি ও বিশেষ পুরস্কার
কারিগরি বিভাগে গিয়ের্মো দেল তোরোর ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ নকশা, মেকআপ ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে তিনটি পুরস্কার জিতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। রায়ান কুগলারর ‘সিনার্স’ সেরা মৌলিক চিত্রনাট্য, সেরা পার্শ্ব–অভিনেত্রী ও সেরা সংগীত বিভাগে তিনটি পুরস্কার জিতেছে, যেখানে কুগলার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে মৌলিক চিত্রনাট্যে সেরা হন।
ভিজ্যুয়াল ইফেক্টসে পুরস্কার জিতেছে জেমস ক্যামেরনের ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’, সেরা অ্যানিমেশন সিনেমা হয়েছে ‘জুটোপিয়া ২’, এবং সেরা তথ্যচিত্র ‘মিস্টার নোবডি এগেইনস্ট পুতিন’।
হতাশা ও উল্লেখযোগ্য অনুপস্থিতি
যশ সাফদির ‘মার্টি সুপ্রিম’ ১১টি মনোনয়ন পেয়েও একটি পুরস্কার জিততে পারেনি, যা এবারের বাফটায় একটি বড় হতাশা হিসেবে চিহ্নিত। তবে ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’র সাফল্য পুরো অনুষ্ঠানকে প্রভাবিত করেছে।
অনুষ্ঠানের আড়ম্বর ও অতিথিবৃন্দ
এই বাফটা পুরস্কার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাফটা সভাপতি ও প্রিন্স অব ওয়েলস প্রিন্স উইলিয়াম ও তাঁর স্ত্রী ক্যাথরিন। লালগালিচায় আলো ছড়িয়েছেন লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও, মনিকা বেলুচ্চি, অ্যালিসিয়া ভিকান্দর, আলিয়া ভাট প্রমুখ তারকা। স্কটিশ অভিনেতা ও পরিচালক অ্যালান কামিং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, যা তিন সপ্তাহ পর হতে যাওয়া অস্কারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাভাস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
