তাপসী পান্নুর অভিযোগ: দক্ষিণী সিনেমায় নারী শরীর পণ্য হিসেবে দেখার সংস্কৃতি
তাপসী পান্নুর অভিযোগ: দক্ষিণী সিনেমায় নারী শরীর পণ্য

তাপসী পান্নুর কঠোর সমালোচনা: দক্ষিণী সিনেমায় নারী শরীর পণ্য হিসেবে দেখার সংস্কৃতি

ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পে নারীদের অবজেক্টিফিকেশন বা পণ্য হিসেবে দেখা একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা, যা সম্প্রতি অভিনেত্রী তাপসী পান্নু তার নতুন সিনেমা ‘আসি’-র প্রচারে এসে উন্মোচন করেছেন। তিনি দক্ষিণী সিনেমার পরিচালকদের অভিনয়ের চেয়ে অভিনেত্রীদের শারীরিক গঠনের ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতার তীব্র সমালোচনা করেছেন।

দক্ষিণী সিনেমার বৈষম্যমূলক চর্চা

একটি সাক্ষাৎকারে তাপসী পান্নু বলেন, ‘দক্ষিণী সিনেমার অনেক পরিচালক অভিনেত্রীদের অভিনয়ের চেয়ে তাদের শারীরিক গঠনের ওপর বেশি নজর দেন। আমাকে বহুবার প্যাডেড ব্রা পরতে বলা হয়েছে, যাতে স্ক্রিনে শরীরকে আরও আকর্ষণীয় দেখায়।’ তিনি উল্লেখ করেন যে, শুটিংয়ের মাঝপথে এমন নির্দেশ দেওয়া অত্যন্ত লজ্জাজনক ও অবমাননাকর, বিশেষ করে যখন চারপাশে পুরুষ ক্রু সদস্যরা উপস্থিত থাকেন।

হিন্দি ও দক্ষিণী সিনেমার পার্থক্য

তাপসী পান্নু ভারতীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির আঞ্চলিক বৈষম্যের দিকেও আলোকপাত করেন। তার মতে, হিন্দি সিনেমায় আইটেম গানে ক্লিভেজ প্রদর্শনের দিকে ঝোঁক থাকে, অন্যদিকে দক্ষিণ ভারতের সিনেমার গানগুলো প্রায়শই নারীদের নাভিকেন্দ্রিক হয়ে থাকে। তিনি বলেন, ‘এই বৈষম্যের কারণ আমি আজও বোঝার চেষ্টা করছি। মূলধারার ভারতীয় সিনেমা এখনও নারীদের অবজেক্টিফিকেশন থেকে বেরোতে পারেনি।’

ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলোর স্মৃতি

তাপসী পান্নু তার প্রথম সিনেমা ‘ঝুম্মান্দি নাদাম’-এর একটি ঘটনার কথাও স্মরণ করেন, যেখানে পরিচালক রাঘবেন্দ্র রাও তার নাভিতে একটি নারিকেল ছুড়ে মেরেছিলেন। তিনি মজার ছলে বলেছিলেন, ‘আমি জানতাম না নাভিতে নারিকেল পড়লে কী করে যৌন আবেদন তৈরি হয়।’ পরে এই মন্তব্যের জন্য তিনি ক্ষমা চেয়েছিলেন, যাতে কারও অনুভূতিতে আঘাত না লাগে।

নতুন সিনেমা ‘আসি’ ও ভিন্ন চরিত্র

বর্তমানে তাপসী পান্নুকে অনুভব সিনহার সামাজিক ড্রামা ‘আসি’-তে দেখা যাচ্ছে, যা গত ২০ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পেয়েছে। এই ছবিতে তিনি একজন আইনজীবীর চরিত্রে অভিনয় করছেন, যা তার আগের গ্ল্যামারাস চরিত্রগুলোর চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের চাহিদা অভিনেত্রীদের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়। অনেক সময় কোনো কারণ ছাড়াই অভিনেত্রীদের শরীরের নির্দিষ্ট অংশ প্রদর্শন করতে বাধ্য করা হয়।’

তাপসী পান্নু আরও যোগ করেন যে, সৌন্দর্যের একটি কৃত্রিম মানদণ্ড তৈরি করে দেওয়া হয়, যা বাস্তবসম্মত নয়। ছবির চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে নয়, বরং কেবল দর্শকদের ‘খুশি’ করতেই এ ধরনের দাবি জানানো হয়। তার এই মন্তব্য চলচ্চিত্র শিল্পে নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে একটি জোরালো কণ্ঠস্বর হিসেবে উঠে এসেছে।