প্রথম আলোর অগ্নিদগ্ধ ভবনে 'আলো' প্রদর্শনী: ধ্বংসের মাঝে শিল্পের জাগরণ
প্রথম আলোর ভবনে 'আলো' শিল্প প্রদর্শনী, দর্শকদের ভিড়

প্রথম আলোর অগ্নিদগ্ধ ভবনে 'আলো' শিল্প প্রদর্শনী: ধ্বংসস্তূপে শিল্পের প্রতিবাদ

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত প্রথম আলোর অগ্নিদগ্ধ ভবনে চলছে ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম প্রদর্শনী 'আলো'। গতকাল রোববার পঞ্চম দিনে এই প্রদর্শনীটি সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে, যেখানে দর্শকেরা ধ্বংসের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করে বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

দর্শকদের ভিড় ও প্রতিক্রিয়া

প্রদর্শনীর দ্বার খোলার পর থেকে তরুণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, চাকরিজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, সাধারণ মানুষ এবং বিদেশি নাগরিকদের সমাগম ঘটেছে। তাঁরা দেশের স্বার্থে, জাতির স্বার্থে, এবং ভাষার স্বার্থে উগ্রবাদী হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার জন্য নতুন সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

প্রদর্শনীর পটভূমি ও সময়সূচি

অগ্নিদগ্ধ এই ভবনে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে বিশিষ্ট শিল্পী মাহ্‌বুবুর রহমানের শিল্প প্রদর্শনী 'আলো'। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে একদল উগ্রবাদী প্রথম আলো ভবনে হামলা করে ব্যাপক লুটপাট চালায় এবং ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রদর্শনীটি চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে ১টা এবং বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সবার জন্য খোলা থাকবে।

বিদেশি ও স্থানীয় দর্শকদের মতামত

বাংলাদেশে বসবাসরত যুক্তরাজ্যের নাগরিক গ্রেহাম জাড বলেন, 'মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকা খুব জরুরি। কারও মতামত পছন্দ না হলে হামলা করা বা ধ্বংস করার মানসিকতা খুব ভয়ানক, যা গণতন্ত্রকে হুমকির মুখে ফেলে।' তিনি মনে করেন, ধ্বংসস্তূপের মাঝে 'আলো' নামের এই শিল্পকর্ম প্রদর্শনী একটি খুব শক্তিশালী বার্তা বহন করে এবং প্রথম আলো নিজেদের পুনর্জাগরণকে ফুটিয়ে তুলেছে।

সোনালী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবীর হুমায়ূন বলেন, 'দেশটার ওপর যে একটা টর্নেডো বয়ে যাচ্ছে, সে চিত্রই উঠে এসেছে প্রদর্শনীতে।'

সংস্কৃতিকর্মী ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ

উদীচীর সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ নূরসহ সংগঠনটির একদল সংস্কৃতিকর্মী প্রদর্শনী দেখতে এসেছিলেন। তাঁরা বলেন, প্রথম আলোতে হামলার পরদিন উদীচী কার্যালয়ে উগ্র গোষ্ঠী হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেছিল। প্রথম আলোতে তারা বই পুড়িয়েছে, উদীচীর পাঠাগারেরও বই পুড়িয়ে দিয়েছে। দেশে জ্ঞানচর্চা হোক, সেটা তারা চায় না। এদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার করতে হবে।

শিক্ষামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গতকাল প্রদর্শনীতে আসেন ইউল্যাবের ব্যবসায় প্রশাসন এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের একদল শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মৌমিতা হালদার, রুহুল আমিন, উচ্ছ্বাস আহমেদ, মাইমুনা প্রমা প্রমুখ। তাঁরা জানান, প্রথম আলোর এই প্রদর্শনীতে এত বিপর্যয় ও ধ্বংসের মধ্যেও যে ইতিবাচক দিকটি তুলে ধরা হয়েছে, সেটি তাঁদের অনুপ্রাণিত করেছে।

শিল্পের মাধ্যমে প্রতিবাদ ও আশার বার্তা

এই প্রদর্শনী শুধুমাত্র শিল্পকর্মের প্রদর্শন নয়, বরং এটি একটি প্রতিবাদ এবং আশার প্রতীক হিসেবে কাজ করছে। ধ্বংসের মাঝে আলো জ্বালানোর এই প্রচেষ্টা সমাজের বিভিন্ন স্তরে গভীর প্রভাব ফেলছে, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের অধিকারের গুরুত্বকে তুলে ধরছে।