শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর বিশেষ আয়োজন
শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্যকে সামনে রেখে একটি অনন্য সাংস্কৃতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ঢাকা ফিল্ম ক্লাব। 'একুশের চেতনায় উজ্জীবিত হোক নতুন প্রজন্ম' শীর্ষক এই বিশেষ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী আজ শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সড়কদ্বীপ প্রাঙ্গণে সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে, যা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও বাংলা চলচ্চিত্রের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রদর্শনীর সময়সূচি ও চলচ্চিত্রের তালিকা
প্রথম দিন, ২০ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার, প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষা আন্দোলনভিত্তিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র 'জীবন থেকে নেয়া' প্রদর্শিত হবে, যা পরিচালনা করেছেন বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান। এছাড়াও, সমসাময়িক একটি প্রামাণ্যচিত্রও এই দিনে দেখানো হবে, যা দর্শকদের ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নিয়ে যাবে। দ্বিতীয় দিন, ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার, প্রদর্শিত হবে শহিদুল হক খান পরিচালিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র 'কলমীলতা' এবং আরেকটি সমসাময়িক প্রামাণ্যচিত্র। এই চলচ্চিত্রগুলো বাংলা ভাষার সংগ্রাম ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে ফুটিয়ে তুলবে, নতুন প্রজন্মকে একুশের চেতনায় অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে।
ঢাকা ফিল্ম ক্লাবের উদ্দেশ্য ও সহযোগী প্রতিষ্ঠান
ঢাকা ফিল্ম ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বড়ুয়া মনোজিত ধীমন জানিয়েছেন, বাংলা ভাষার জন্য প্রাণ উৎসর্গকারী মহান শহীদদের স্মরণ করা এবং বাংলা সিনেমাকে চলচ্চিত্র প্রেমীদের মধ্যে আরও ব্যাপকভাবে প্রচার ও প্রসার করার উদ্দেশ্যে এই প্রথমবারের মতো প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগটি শুধুমাত্র একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, বরং ভাষা আন্দোলনের মূল্যবোধ ও বাংলা চলচ্চিত্রের ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি মাধ্যম। প্রদর্শনীটি আয়োজনে সহযোগী হিসেবে রয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের গণযোগাযোগ অধিদফতর এবং বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ, যা এই আয়োজনকে আরও সমৃদ্ধ ও কার্যকর করতে ভূমিকা রাখছে।
এই প্রদর্শনীটি শহীদ দিবসের প্রেক্ষাপটে একটি শিক্ষামূলক ও বিনোদনমূলক অভিজ্ঞতা প্রদান করবে, যেখানে দর্শকরা বাংলা ভাষার ইতিহাস ও চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সংস্কৃতির গভীরতা অনুভব করতে পারবেন। ঢাকা ফিল্ম ক্লাব আশা প্রকাশ করে যে, ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোগ অব্যাহত রাখা হবে, যাতে বাংলা সিনেমার প্রচার ও প্রসার বৃদ্ধি পায় এবং একুশের চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে জাগ্রত থাকে।
