গাজা ইস্যুতে জেরুজালেম উৎসব বয়কট করলেন নোবেলজয়ী কোয়েটজি
গাজা ইস্যুতে জেরুজালেম উৎসব বয়কট করলেন কোয়েটজি

গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে জেরুজালেম ইন্টারন্যাশনাল রাইটার্স ফেস্টিভ্যালে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন নোবেলজয়ী লেখক জে. এম. কোয়েটজি। উৎসব কর্তৃপক্ষকে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানকে “গণহত্যামূলক অভিযান” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই ঘটনার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার ভাষায়, “ইসরায়েলের কলঙ্ক মুছতে বহু বছর সময় লাগবে।”

কোয়েটজির প্রতিক্রিয়া

কোয়েটজি তার চিঠিতে উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরায়েলের যে সামরিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়, তা তাকে ব্যক্তিগতভাবে হতাশ ও বিচলিত করেছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যারা ইসরায়েলকে সমর্থন করে এসেছেন, তাদের অনেকেই এখন দেশটির সামরিক কর্মকাণ্ডে “বিরক্ত ও বিমুখ” হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে কোয়েটজি দাবি করেন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক নেতৃত্ব নয়, ইসরায়েলের বুদ্ধিজীবী, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের একটি অংশও এই যুদ্ধের নৈতিক দায় এড়াতে পারে না।

উৎসব কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া

জেরুজালেম ইন্টারন্যাশনাল রাইটার্স ফেস্টিভ্যালের শিল্প নির্দেশক জুলিয়া ফেরমেন্তো-জাইসলার পরে গণমাধ্যমে কোয়েটজির চিঠির বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি মন্তব্য করেন, কোয়েটজির প্রতিক্রিয়া ছিল “অস্বাভাবিকভাবে কঠোর” এবং উৎসব কর্তৃপক্ষকে তা বিস্মিত করেছে। তবে তিনি এটিও স্বীকার করেন যে, গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিভাজন ও বিতর্ক ক্রমেই বাড়ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কোয়েটজির সাহিত্যিক প্রেক্ষাপট

বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমকালীন লেখক হিসেবে পরিচিত কোয়েটজি ২০০৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তার উপন্যাসে দীর্ঘদিন ধরেই ঔপনিবেশিকতা, রাষ্ট্রীয় সহিংসতা, নৈতিক সংকট ও মানবাধিকার প্রশ্ন গুরুত্ব পেয়ে এসেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থার অভিজ্ঞতা তার সাহিত্যচিন্তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। তাই গাজা প্রসঙ্গে তার এই অবস্থান আন্তর্জাতিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।