বলিউড অভিনেত্রী সারা আলী খান বর্তমানে তাঁর নতুন ছবি ‘পতি পত্নী অউর ওহ দো’র প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। এই কমেডি ছবিতে তাঁর সঙ্গে অভিনয় করেছেন আয়ুষ্মান খুরানা, রাকুল প্রীত সিং ও ওয়ামিকা গাব্বি। পরিচালক মুদাসসর আজিজ পরিচালিত ছবিটি ২০১৯ সালের ‘পতি পত্নী অউর ওহ’-এর দ্বিতীয় কিস্তি। ১৯৭৯ সালে সঞ্জীব কুমার অভিনীত ‘পতি পত্নী অউর ওহ’ ছবির রিমেক ছিল মুদাসসরের সেই ছবি। কমেডি অব এররস ঘরানার এই ছবিতে প্রজাপতি নামের এক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে গল্প এগিয়েছে, যার চরিত্রে অভিনয় করেছেন আয়ুষ্মান।
ছবির নাম নিয়ে ভুল ধারণা
ছবির নাম ‘পতি পত্নী অউর ওহ দো’ শুনে অনেকের ধারণা হয়েছে যে এই ছবি পরকীয়াকে উসকানি দিচ্ছে। তবে পরিচালক আগেই জানিয়েছিলেন যে এখানে তা করা হয়নি, এটি আদ্যোপান্ত পারিবারিক ছবি। সারা আলী খানের কণ্ঠেও প্রায় একই সুর শোনা গেছে। তিনি বলেন, ‘নাম শুনে অন্য কিছু মনে হতে পারে, কিন্তু আসলে এটি পুরো পরিবারের সঙ্গে বসে দেখার মতো ছবি। আপনার সন্তান বা দাদা-দাদির সামনে চোখ-কান বন্ধ করতে হবে না। অনেক দিন পর মনে হচ্ছে, এমন একটা ছবি আসছে, যেটা সবাই মিলে হলে গিয়ে উপভোগ করা যাবে।’
আয়ুষ্মানের প্রশংসায় সারা
সহ-অভিনেতা আয়ুষ্মান খুরানার প্রশংসা করে সারা বলেন, তিনি সেটে সব সময় হালকা পরিবেশ বজায় রাখতেন। অভিনেত্রীর কথায়, ‘ও সেটে সব সময় মজা করে আর পরিবেশটা ফুরফুরে রাখে। নিজেকে একদমই বেশি গুরুত্ব দেয় না। এটি ওর সঙ্গে আমার দ্বিতীয় ছবি।’ সারা-আয়ুষ্মানকে আবার ‘উড়তা তির’ ছবিতে একসঙ্গে দেখা যাবে। তিনি আরও বলেন, ‘প্রথম ছবির সময় প্রথম কয়েক দিন আমি ওর সঙ্গে কথাই বলতাম না। ভাবতাম, আয়ুষ্মান নিশ্চয়ই খুব সিরিয়াস ধরনের মানুষ। আমি কিছু বলব না। কিন্তু লক্ষ করে দেখলাম, ও ভীষণই মজার মানুষ, সবার সঙ্গে মজা করে। তখন ভাবলাম, ঠিক আছে, ও তো বেশ রসিক! তারপর আমরা একসঙ্গে হাসিঠাট্টা শুরু করি।’
গঠনমূলক সমালোচনা ও ক্যারিয়ার
সারা মনে করেন, গঠনমূলক সমালোচনা তিনি ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে কাজে লাগান। তবে তাঁর মতে, ক্যারিয়ারকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে চারপাশের অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তাকেও উপেক্ষা করা জরুরি। কারণ, তাঁর অভিনয়জীবনে যেমন সাফল্য এসেছে, তেমনই ব্যর্থতাও এসেছে। সাইফ আলী খান ও অমৃতা সিং-কন্যা সারা জানান, তাঁর প্রথম ছবি ‘কেদারনাথ’ এবং ‘সিমবা’ মুক্তির পর যে বিপুল সাফল্য আসে, তা নিয়েও মা তাঁকে সতর্ক করেছিলেন।
প্রথম সাফল্যের পর সতর্কবার্তা
৩০ বছর বয়সী অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি জানি, ক্যারিয়ারের একেবারে শুরুতেই আমি অনেক ভালোবাসা পেয়েছিলাম। খুব, খুব দ্রুত সবকিছু হয়েছিল। আর মা তখনই বলেছিলেন, এটা খুব ভয়ংকর, রাতারাতি সাফল্য ভয়ংকর। কারণ, সবকিছু রাতারাতি ঘটে গিয়েছিল। তারপর এমন দুটি ছবি এল, যেগুলো আমাকে সেই ভালোবাসা দেয়নি। আর সেটা আরও ভয়ংকর ছিল।’ সারা আরও বলেন, ‘তখন আমি ভাবছিলাম, এটা কী হচ্ছে? কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝেছি, যদি আপনি ভালো এবং সৎ ভাবে কাজ করেন, দর্শক আপনাকে সেই ভালোবাসা দেবেই।’
ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা
প্রথম দিকের সাফল্যের পর সারার পরের দুটি ছবি ‘লাভ আজ কাল’ ও ‘কুলি নম্বর ১’ দর্শকদের মন জয় করতে পারেনি। তবে আনন্দ এল রাইয়ের ‘আতরঙ্গী রে’ ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছিল। সারা বলেন, ‘কিছু ছবি দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করবে, কিছু করবে না। আপনি শুধু সেরাটা আশা করতে পারেন এবং কাজ করে যেতে পারেন। চারপাশের কথাবার্তাকে মাথায় নিলে চলবে না; বরং ভাবতে হবে, এটা কী গঠনমূলক সমালোচনা? মানুষের কথায় কী কোনো সত্যি আছে? হয়তো আমাকে আরও সচেতন হতে হবে। হয়তো আমার ব্যক্তিত্ব এত বেশি জোরালো হওয়া উচিত নয় যে মানুষ আমাকে সিরিয়াসলি নিতেই না চায়। আমি এসবই ভাবি।’
কাজই কথা বলবে
সারা মনে করেন, শেষ পর্যন্ত কাজই কথা বলবে। বলেন, ‘মানুষ যদি আমাকে সুযোগ দেয় আর সৌভাগ্যবশত আমি কাজ পেলে আশা করি, তারা আমাকে পছন্দ করবে। আর যদি না-ও করে আমি আরও বেশি করে চেষ্টা করব।’ সারাকে সবশেষে ‘স্কাই ফোর্স’ ও ‘মেট্রো ইন দিনো’-তে দেখা গেছে। ২০২৬ সালে হিন্দি চলচ্চিত্রে আট বছর পূর্ণ করেছেন তিনি। সারা বলেন, ‘ভাবছিলাম, ওহ মাই গড, আমি তো সেদিন “কেদারনাথ”-এর কাজ করেছি। এখনো সব মনে আছে। সত্যিই অবিশ্বাস্য লাগে।’ ছবিটিতে তাঁর বিপরীতে ছিলেন প্রয়াত বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত।



