ভারতের দিল্লিতে ভগিনীপতির কিডনি প্রতিস্থাপনের চিকিৎসায় সঙ্গী হয়েছিলেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী নুরুল আমিন সোহাগ। একদিন পরই দিল্লির ফ্লরিশ স্টে হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি। ওই ঘটনায় আরও ২০ জন মারা গেছেন। শনিবার দিল্লি থেকে চট্টগ্রামে পৌঁছায় ব্যবসায়ী সোহাগের লাশ।
জানাজা ও দাফন সম্পন্ন
রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর ডবলমুরিং থানার বারোকোয়ার্টার সংলগ্ন লেকভিউ আবাসিক এলাকায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হন তিনি। সোহাগ দুই মেয়ে ও এক ছেলের জনক। তিনি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের সাঙ্গীশ্বর গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে। ছোটবেলা থেকেই বারোকোয়ার্টার এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন।
শোকের পরিবেশ
রোববার লেকভিউ আবাসিক এলাকায় ঢোকার মুখে ব্যবসায়ী সোহাগের নিজস্ব ভবনটিতে তার ছবি সম্বলিত একাধিক শোক ব্যানার টানানো দেখা যায়। বাড়ির সামনেই ছিল একটি লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স, যার ভেতর ছিল সোহাগের নিথর দেহ। বাড়ির তৃতীয় তলায় ছিল সোহাগের স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীর ভিড়। সবার মুখে মুখে শুধু আফসোস। শেষবারের মতো প্রিয়জনকে দেখতে এসে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। জানাজার পর তার বাবা আবদুস সোবাহান, মা রোকেয়া বেগম, স্ত্রী ফারজানা ফেরদৌস, ছেলে আরাফসহ স্বজনদের কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে পরিবেশ।
ঘটনার বিবরণ
জানা গেছে, গত ২ জুন বোন রেহেনা আকতার মুন্নী ও তার স্বামী মোশাররফ হোসেনকে নিয়ে ভারতে যান সোহাগ। সঙ্গে ছিলেন মোশাররফের চাচাতো বোন উম্মে জোহরা ও তার মেয়ে উম্মে সায়রা। জোহরা ছিলেন মোশাররফ হোসেনের কিডনির ডোনার। তারা যে হোটেলে উঠেছিলেন, ৩ জুন সেখানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলেই মারা যান সোহাগ। এছাড়া বোনের স্বামী মোশাররফ হোসেনসহ বাকি চারজন গুরুতর আহত অবস্থায় দিল্লির হাসপাতালে এখনো চিকিৎসাধীন।



