অল্প বাজেটের হরর সিনেমা ‘ব্যাকরুমস’-এর বিশ্বজুড়ে সাফল্য
অল্প বাজেটের হরর সিনেমা ‘ব্যাকরুমস’-এর সাফল্য

বিশ্বজুড়ে এখন দাপট দেখাচ্ছে অল্প বাজেটের দুই হরর সিনেমা ‘অবসেশন’ ও ‘ব্যাকরুমস’। ‘অবসেশন’ তো এরই মধ্যে ১ মিলিয়ন বাজেটে ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে। ‘ব্যাকরুমস’ও চমকে দিয়েছে। কাকতালীয়ভাবে ‘অবসেশন’ নির্মাতা ক্যারি বার্কার ও ‘ব্যাকরুমস’ নির্মাতা কেন পারসনস মূলত ইউটিবার। ক্যারি বার্কারের মতো কেন পারসনসকে নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। মাত্র ২০ বছর বয়সী এই নির্মাতা প্রথম সিনেমা দিয়েই হইচই ফেলে দিয়েছেন। মাত্র এক কোটি ডলারের বাজেটে নির্মিত ছবিটি মুক্তির পর বিশ্বজুড়ে আয় করেছে ১১ কোটি ৮০ লাখ ডলারের বেশি। অর্থাৎ বাজেটের প্রায় ১১ গুণ আয়।

‘ব্যাকরুমস’ যেভাবে পর্দায়

‘ব্যাকরুমস’ নামটি অনেকের কাছেই পরিচিত। এটি মূলত ইন্টারনেটের একটি জনপ্রিয় ‘ক্রিপিপাস্তা’ বা অনলাইন হরর কিংবদন্তি। ধারণাটি প্রথম ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন ফোরামে। গল্প অনুযায়ী, বাস্তবতার কোনো ফাঁক দিয়ে হঠাৎ কেউ যদি পৃথিবীর পরিচিত জগৎ থেকে বেরিয়ে যায়, তবে সে আটকা পড়ে এক অন্তহীন, হলুদ দেয়ালে ঘেরা গোলকধাঁধার মতো জায়গায়—যার নাম ‘ব্যাকরুমস’।

এই ধারণাকে কেন্দ্র করে ২০২২ সালে ইউটিউবে একাধিক শর্ট হরর ভিডিও তৈরি করেন কিশোর নির্মাতা কেন পারসনস। তাঁর ভিডিওগুলো দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। অত্যন্ত কম বাজেট, বাস্তবসম্মত ভিজ্যুয়াল এফেক্ট ও ভয় ধরানো পরিবেশ দর্শকদের মুগ্ধ করে। কয়েক বছরের মধ্যেই সিরিজটির ভিউ দাঁড়ায় প্রায় ২০ কোটি। সেই ইউটিউব সিরিজই পরে নজরে আসে হলিউডের।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হলিউডের ঝুঁকি ও সাফল্য

সাধারণত হলিউডের বড় স্টুডিওগুলো নবীন নির্মাতাদের হাতে বড় প্রকল্প তুলে দিতে দ্বিধা করে। কিন্তু কেন পারসনসের ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টোটা। স্বাধীন চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও পরিবেশনার জন্য বিখ্যাত এ২৪ তাঁর প্রতিভায় আস্থা রাখে। স্টুডিওটি সিদ্ধান্ত নেয়, ‘ব্যাকরুমস’–কে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে তৈরি করা হবে এবং পরিচালনার দায়িত্বও থাকবে পারসনসের হাতেই। এটি ছিল এক অর্থে বড় ঝুঁকি। কারণ, চলচ্চিত্র মুক্তির সময় তাঁর বয়স মাত্র ২০ বছর। কিন্তু ফলাফল প্রমাণ করেছে, সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল না।

মুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ৩ হাজার ৪৪২টি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হয় সিনেমাটি। প্রথম সপ্তাহান্তেই ছবিটি আয় করে ৮ কোটি ১৫ লাখ ডলার। স্বাধীন চলচ্চিত্রের জন্য এটি শুধু বড় সাফল্য নয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম বিস্ময়কর উদ্বোধনী আয়। কয়েক দিনের মধ্যেই বিশ্বব্যাপী ছবিটির মোট আয় দাঁড়ায় ১১ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

এই সাফল্যের ফলে ছবিটি একাধিক রেকর্ড গড়েছে। বিশেষ করে এ২৪-এর ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় উদ্বোধনী আয় করা চলচ্চিত্র হিসেবে আলোচনায় এসেছে। হলিউড বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল যুগে দর্শকদের রুচি কতটা বদলেছে, ‘ব্যাকরুমস’ তার বড় উদাহরণ। এখন আর কেবল বড় তারকা বা শত কোটি ডলারের বাজেটই সাফল্যের চাবিকাঠি নয়; শক্তিশালী ধারণা এবং অনলাইন কমিউনিটির সমর্থনও বিশাল পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

ইউটিউব থেকে হলিউড

কয়েক সপ্তাহ আগেই আরেক তরুণ ইউটিউবার ক্যারি বারকারের ‘অবসেশন’ আলোচনার ঝড় তুলেছিল। মাত্র ১০ লাখ ডলারের বাজেটের সেই ছবিটি বিশ্বব্যাপী ১০ কোটি ৮০ লাখ ডলার আয় করে। এবার সেই রেকর্ডের ধারাবাহিকতায় এল ‘ব্যাকরুমস’।

দুটি ঘটনাই দেখিয়ে দিয়েছে, ইউটিউব আর কেবল ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম নয়। এটি এখন হলিউডের জন্য নতুন প্রতিভা খোঁজার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। একসময় যেসব তরুণ নির্মাতা স্টুডিওর দরজায় দরজায় ঘুরতেন, এখন তাঁরা নিজেরাই ইউটিউবের মাধ্যমে দর্শক তৈরি করছেন। সেই দর্শকরাই পরে তাঁদের সিনেমার প্রথম সমর্থক হয়ে উঠছেন।

‘ব্যাকরুমস’-এর ভয় কোথায়

সাম্প্রতিক হরর চলচ্চিত্রগুলোর অনেকগুলোই রক্তারক্তি বা জাম্প-স্কেয়ারের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু ‘ব্যাকরুমস’-এর ভয় অন্য জায়গায়। এখানে ভয় তৈরি হয় নিঃসঙ্গতা থেকে। অন্তহীন করিডর, একঘেয়ে আলো, অজানা শব্দ এবং কোথাও যেন কিছু একটা লুকিয়ে আছে—এই অনুভূতিই ছবির মূল শক্তি। দর্শক কখনো পুরোপুরি বুঝতে পারেন না কী ঘটতে যাচ্ছে। ফলে পুরো সময়জুড়ে একধরনের অস্বস্তি কাজ করে। মনস্তাত্ত্বিক আতঙ্ক এবং বিজ্ঞান কল্পকাহিনির মিশ্রণে তৈরি এই পরিবেশই ছবিটিকে আলাদা করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শক্তি

‘ব্যাকরুমস’-এর সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে ইন্টারনেট সংস্কৃতি। হাজার হাজার মিম, বিশ্লেষণ ভিডিও, তত্ত্বভিত্তিক আলোচনা এবং ফ্যান কমিউনিটির কারণে ‘ব্যাকরুমস’ ইতিমধ্যে একটি সাংস্কৃতিক ঘটনাতে পরিণত হয়েছিল। ফলে সিনেমা মুক্তির আগেই এর বিশাল দর্শকভিত্তি তৈরি হয়ে যায়। হলিউডে সাধারণত একটি নতুন ব্র্যান্ড বা ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিষ্ঠা করতে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়। কিন্তু ‘ব্যাকরুমস’ ইতিমধ্যেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিজস্ব পরিচিতি গড়ে তুলেছিল। এ কারণেই মুক্তির পর দর্শকদের আগ্রহ বেড়ে যায়।