সৈয়দপুর বন্ধুসভা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে রবীন্দ্র-নজরুলজয়ন্তী উদযাপন করেছে। ৫ জুন বিকেলে সৈয়দপুর শহরের রহমতুল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বন্ধুসভার সদস্যরা রঙিন পোশাকে অংশগ্রহণ করেন।
পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও আলোচনা সভা
অনুষ্ঠানের শুরুতে দুই কবির প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। সভাপতিত্ব করেন সৈয়দপুর বন্ধুসভার সভাপতি মমতাজ পারভীন। আলোচনা পর্বে বক্তব্য দেন সাংবাদিক এম আর আলম, বন্ধুসভার উপদেষ্টা হোসনে আরা লিপি, বন্ধু বিলকিস আক্তার, সাদ ইবনে আলম ও মারফিয়া আহমেদ। বক্তারা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্ম, দর্শন এবং মানবতার আদর্শ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তাঁরা বলেন, দুই মহান কবির সাহিত্য বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদী চেতনা ও নজরুলের বিদ্রোহী সত্তা আজকের প্রজন্মের জন্য আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করছে। বাংলার এই দুই দিকপাল কবি শুধু সাহিত্যিক প্রতিভা নয়, মানবিক মূল্যবোধ ও সমাজচেতনার দিক থেকেও অতুলনীয়।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনা
আলোচনা সভা শেষে শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। বন্ধুসভার তরুণ সদস্যরা রবীন্দ্রসংগীত ও নজরুলগীতি পরিবেশন করেন। তাঁদের কণ্ঠে বিখ্যাত রচনার সুর মিলনায়তনকে আবেগময় করে তোলে। এছাড়াও রবীন্দ্র ও নজরুলের কবিতা আবৃত্তিতে অংশগ্রহণকারীরা গভীর দক্ষতা প্রদর্শন করেন। কবিগুরুর গানের তালে মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।
বন্ধুসভার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সভাপতি মমতাজ পারভীন বলেন, ‘সৈয়দপুর বন্ধুসভা সর্বদা সংস্কৃতি ও সাহিত্যচর্চার প্রসারে কাজ করে যাচ্ছে। রবীন্দ্র-নজরুলজয়ন্তীর মতো অনুষ্ঠান তরুণ প্রজন্মকে বাংলার সমৃদ্ধ সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় এবং তাদের মধ্যে দেশপ্রেম ও মানবতাবোধ জাগিয়ে তোলে।’ তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতেও বন্ধুসভা এ ধরনের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।



