শাকিব খানের 'রকস্টার' সিনেমায় শিশুশিল্পীদের চুলের বিড়ম্বনা
শাকিব খানের 'রকস্টার' সিনেমায় শিশুশিল্পীদের চুলের বিড়ম্বনা

শাকিব খানের বহুল আলোচিত সিনেমা ‘রকস্টার’। এই সিনেমায় শাকিব খানের ছোটবেলার চরিত্রে অভিনয় করেছে শায়ান মির্জা ও ভুবন গগন। সিনেমার জন্য তাদের চুল বড় রাখতে হয়েছিল, যা স্কুলে বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

চুলের জন্য স্কুলে বকা খেলেন ভুবন গগন

সিনেমায় শাকিব খানকে বড় চুলের লুকে দেখা যায়। সেটির সঙ্গে মিল রাখতে ভুবন গগনকে চুল না কাটার নির্দেশ দিয়েছিলেন নির্মাতা। তিন মাস চুল কাটেনি সে। এ জন্য ক্লাস টিচারের বকাও খেতে হয়েছে। ভুবন গগন ঢাকার ওয়াইডব্লিউসিএ স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে পড়ছে। সে বলছিল, ‘টিচার বকা দিয়েছিলেন বড় চুলের জন্য। ক্লাসে দাঁড় করিয়েও রেখেছিলেন। পরে অবশ্য কারণ জেনে আদরও করেছেন।’

শায়ান মির্জার সমস্যা

একই সমস্যায় পড়তে হয় শায়ানকে। তাকে দেখে স্কুলের অন্যরাও চুল বড় রাখতে শুরু করে। তখন স্কুলে আরও কড়াকড়ি শুরু হয়। দরখাস্ত দেওয়া ছিল, শিক্ষকেরা তাড়াতাড়ি চুল কেটে ফেলতে বলেন। ভয় পাচ্ছিলেন শায়ানের মা, কোনো শিক্ষক আবার চুল কেটে দেন কি না! এ জন্য শুটিংয়ের আগে শেষ এক সপ্তাহ স্কুলেই যায়নি শায়ান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শাকিব খানের সঙ্গে দেখা

‘রকস্টার’ সিনেমার জন্য গগন ও শায়ান দুদিন করে শুটিং করেছে। কিন্তু শুটিং সেটে শাকিব খানের সঙ্গে কারও দেখা হয়নি। তবে আলাদা করে গগন দেখা করেছে এই তারকার সঙ্গে। ‘৪০ মিনিট অপেক্ষা করে অটোগ্রাফ নিয়েছি, ছবি তুলেছি।’ অভিজ্ঞতার কথা জানাচ্ছিল গগন। অটোগ্রাফে ‘রকস্টার গগন’ লিখে দেন শাকিব। গগনকে নিজ হাতে নামের শেষে ‘খান’ জুড়ে দিতে বলেন তিনি। গগন বলছিল, ‘শাকিব খান বললেন, “তুমি কোন ক্লাসে পড়ো? কোন স্কুলে পড়ো?” বাবাকে জিজ্ঞাসা করেছেন, “আপনার ছেলে কার মতো হয়েছে?” বাবা বলল, মায়ের মতো।’ শাকিব খানের সঙ্গে দেখা হয়নি শায়ানের। তবে শুটিং সেটে দিলারা জামান, সাবিলা নূর ও তারিক আনামের সঙ্গে কথা হয়েছে। দিলারা জামান অভিনয়ও দেখিয়ে দিয়েছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সিনেমায় এই প্রথম

গগন ও শায়ানের সিনেমায় এটি প্রথম কাজ। এর আগে বিভিন্ন টিভিসি এবং ওভিসিতে কাজ করেছে। ‘লাভ সিটার’ নামের একটি ওয়েব ফিল্মে কাজ করেছে গগন। এর আগে নাটকে অভিনয় করেছে শায়ান। ‘এলাটিং বেলাটিং’ নামের একটি ৩০ পর্বের শিশুতোষ নাটকে কাজ করেছে সে। ‘হই হই হল্লা’ নামের আরেকটি ধারাবাহিকেও অভিনয় করেছে। গগনের মা রুবি হোসেন বলেন, ‘আট মাস বয়সে গগনের দাদি মারা যান। দাদির সান্নিধ্য পায়নি বললেই চলে। “রকস্টার” সিনেমায় দাদির সঙ্গে দৃশ্য ছিল গগনের। সেই জায়গাটা ওর জন্য বিশেষ ছিল। অভিনয় হলেও দাদির স্নেহের স্পর্শ সে পেয়েছে।’

পড়ালেখা এগিয়ে রাখতে হয়

পড়ালেখা আর কাজ দুটোই মানিয়ে চলতে হয় গগন ও শায়ানকে। এ জন্য বাড়তি চাপও পড়ে যায়। ‘রকস্টার’ সিনেমা দুদিনের শুটিংয়ের শেষ দিন বাসায় ফিরতে রাত ১২টা বেজে যায় গগনের। পরের দিন সকাল সাতটায় স্কুলের প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় বসে। শায়ান বলছিল, শুটিংয়ের জন্য পড়ালেখা আগে থেকেই এগিয়ে রাখতে হয়। কখন কোন শুটিংয়ের তারিখ পড়ে, আগে থেকে জানা যায় না। ফলে সময় পেলেই পড়াটা গুছিয়ে রাখতে হয়। পড়ালেখা, অভিনয়ের পাশাপাশি খেলতে ভালোবাসে ওরা। দুজনেরই প্রিয় খেলা ফুটবল। বাদ্যযন্ত্র ইউকুলেলে বাজাতে পারে গগন। বই পড়তে ভালোবাসে শায়ান।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

শায়ানের ইচ্ছা বড় হয়ে প্রকৌশলী হবে আর গগন হতে চায় ফুটবলার।