খায়রুল বাসার: সিনেমা-নাটক দুইয়ে ব্যস্ত ঈদ
খায়রুল বাসার: সিনেমা-নাটক দুইয়ে ব্যস্ত ঈদ

বর্তমানে ব্যস্ততা কী নিয়ে? খায়রুল বাসার জানালেন, ‘ঈদের নাটক ‘ঈরার পদ্ম’–এর শুটিং করেছিলাম। সেই নাটকের সিক্যুয়েলের শুটিং করছি।’ ঈদের শুটিং আর কত দিন করবেন? ‘এটাই ঈদের শেষ নাটকের শুটিং। আগামী ২৬ তারিখ পর্যন্ত শুটিং করব।’

বনলতা সেন ও প্রচারণা

আপনার অভিনীত ‘বনলতা সেন’ সিনেমাটি ঈদে মুক্তি পাচ্ছে। প্রচারণায় কীভাবে যুক্ত থাকবেন? খায়রুল বাসার বলেন, ‘নাটকের শুটিংয়ের মধ্যেই যুক্ত থাকতে হবে। কারণ, আমাদের এখানে তো কবে সিনেমা মুক্তি পাবে, বেশি আগে থেকে জানা যায় না। জানলে সময়টা রাখা যায়। এখন শুটিংয়ের ফাঁকেই প্রচারণায় যুক্ত আছি। পোস্টার প্রকাশের পর থেকেই ভালো সাড়া পাচ্ছি। ক্যারেক্টার পোস্টার নিয়েও সবার অনেক আগ্রহ। সামনে গান, ট্রেলার আসবে। নানাভাবেই চেষ্টা করছি দর্শকদের কাছে পৌঁছানোর।’

ভক্তদের চাহিদা ও সিনেমার বাস্তবতা

আপনার পোস্টগুলোর নিচে একাধিক মন্তব্য, সিনেমায় ভক্তরা নিয়মিত দেখতে চান। খায়রুল বাসার বলেন, ‘‘নেটওয়ার্কের বাইরে’, ‘কাজল রেখা’ সিনেমা করার পর এ কথা নিয়মিত শুনতে হয়। আমি তো সিনেমা করতে চাই। কিন্তু একেবারে সিনেমায় নাম লেখানো কঠিন।’ কেন কঠিন মনে হয়? ‘এখানে বছরে সিনেমা হয় কয়টা? নাটক যদি ছেড়ে দিই, তাহলে সিনেমা করে আমি চলতে পারব না। সম্মান ও সম্মানী নিয়ে সংকটে পড়ব। আমাকে তখন সন্ন্যাসজীবন, বাউন্ডুলেজীবন বেছে নিতে হবে। এটা এখন কোনো শিল্পী চাইবে? আমার পরিবার আছে, দায়বদ্ধতা রয়েছে, সেখানে শুধু সিনেমা সেই অর্থে পেশাগত জায়গাটা তৈরি করতে পারেনি।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বড় পর্দা ও ছোট পর্দার অভিনেতা

কীভাবে বড় পর্দা একজন ছোট পর্দার অভিনেতাকে আত্মবিশ্বাসী করতে পারে? খায়রুল বাসার বলেন, ‘আমাদের অনেক ভালো চলচ্চিত্র নির্মাতা দরকার। তাঁদের ছবিতে ভালো গল্প যেমন দরকার, তেমনি ভালো শিল্পী দরকার। ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচানো দরকার। চার–পাঁচ বছর ধরে শুনছি বড় বাজেটের সিনেমা করলে ইন্ডাস্ট্রি বদলে যাবে। কতটা বদলেছে? আমার মনে হয়, বড় বাজেটের সিনেমার দরকার আছে। পাশাপাশি এক প্রযোজক যদি বড় বাজেটের একটি সিনেমার অর্থ দিয়ে আরও পাঁচটি সিনেমা নির্মাণ করেন, তাহলে কিন্তু অনেকেই কাজের সুযোগ পাবে। কিন্তু এখানে ঘুরেফিরে ৪ কি ৫ জন নির্মাতাকে দেখা যায়। এই সংখ্যা বাড়তে হবে।’

নাটকের শিল্পীদের বড় পর্দায় দেখা

আবার অনেকে এটাও বলেন, নাটকের শিল্পীদের বড় পর্দায় দেখতে চান না? খায়রুল বাসার বলেন, ‘আমাদের দর্শক চাহিদা নেই, এসব কথার কোনো ভিত্তি নেই। ভিত্তি থাকলে ‘মনপুরা’, ‘উৎসব’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমাগুলো দর্শকেরা দেখতেন না। আমাদের নিয়মিত ভালো সিনেমা নির্মাণের পরিচালক দরকার, সেখানে যথাযথ কাস্টিং দরকার। একটা কাজকে ভালো করার চেষ্টা থাকতে হবে। কয়টা ছবি সাড়া ফেলছে? বেশির ভাগ দেখা যাচ্ছে, বড় বাজেটে কাজ করা অনেকেই একটা সময় পর দীর্ঘ বিরতি দিচ্ছে। একসময় সে নিয়মিত কাজ করতে পারছে না। তাহলে কী দাঁড়াচ্ছে, চেষ্টার ফলাফল জিরো? নাটকের শিল্পীদের ওপর দায় চাপিয়ে লাভ নেই। দর্শক ভালো গল্প দেখতে চান।’

জীবনানন্দ দাশের চরিত্রে অভিনয়

জীবনানন্দ দাশের চরিত্রে অভিনয় করার কথা শুনে শুরুতে কী মনে হয়েছিল? খায়রুল বাসার বলেন, ‘আমি অডিশনে যাই। আমাকে চিত্রনাট্যের একটা অংশ ধরিয়ে দেওয়া হয়। বলা হয় অভিনয় করতে। একটি চরিত্রের ব্যাকগ্রাউন্ড কোনো কিছুই জানি না। এই সম্পর্কে পরিচালক মাসুদ হাসান উজ্জ্বল ভাইও কিছু বলেন না। শুধু বললেন, ‘যা মন চায় অভিনয় করো।’ আমার মতো অভিনয় করলাম। চার দিন পরও একইভাবে অডিশন দিলাম। কয়েক দিন পর পরিচালক ফোন দিয়ে বললেন, ‘বাসার তুমি জীবনানন্দ দাশের চরিত্রে অভিনয় করবে।’ আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম। বললাম, ‘কোন জীবনানন্দ দাশের কথা বলছেন?’ একজন আমার পছন্দের কবি। এখানে হয়তো অন্য কোনো জীবনানন্দ দাশ হতে পারে। যখন সব শুনলাম, তখন বিশাল একটি ইমোশনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়াল।’

জীবনানন্দ দাশ হয়ে ক্যামেরার সামনে

জীবনানন্দ দাশ হয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা কী? খায়রুল বাসার বলেন, ‘তাঁর কবিতা আমার খুব পছন্দের। যিনি জীবন, প্রকৃতিকে নানাভাবে ব্যাখ্যা করেন, তাঁর চরিত্রে অভিনয় করা চ্যালেঞ্জিং ছিল। চিত্রনাট্য পড়ে তো বুঝতে পেরেছিলাম, এটা অনেক গবেষণা করে লেখা। এ ছাড়া আমাকে প্রচুর পড়তে হয়েছে। কারণ, কোন প্রেক্ষাপটে কোন কবিতাটি লিখেছেন, তখন মানসিক অবস্থা কেমন ছিল, সেগুলো জানার চেষ্টা করেছি। ঘোরের মধ্যে প্রথম দিন জীবনানন্দ হয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে যাই।’

লেবুর কৌশল ও ছবি তোলা

ক্যারেক্টার পোস্টারে জীবনানন্দ দাশের মতোই আপনার মুখ ফোলা, এটার জন্য কী করতে হয়েছিল? খায়রুল বাসার বলেন, ‘জীবনানন্দ দাশের খুব বেশি ছবি পাওয়া যায় না। সেখানে যে ছবি আছে, তাতে মুখ একটু ফোলা, এমনটা হতে হবে। নানাভাবে সিলিকন, টিস্যু, এটা–ওটা দিয়ে চেষ্টা করলাম। কিন্তু কোনো লাভ হলো না। পরে একদিন চা খেতে বসেছি। লেবু চা। সেই লেবুর অংশ ফেলে দেওয়ার সময় হঠাৎ মুখের মধ্যে দিয়ে নিজেকে দেখার চেষ্টা করি। আমার কাছে মনে হলো পেয়ে গেছি। পরে পরিচালক দেখে তো অবাক। বললেন, ‘এই জীবনানন্দ দাশকেই চাই।’ এরপর শুরু হলো আমার লেবুর সঙ্গে যুদ্ধ। ৩২ দিন লেবু মুখের মধ্যে রাখতে হয়েছে। শুটিংয়ে সারাক্ষণ মুখে লেবু থাকত। পুরো মুখ খেলে যেত। ঠিকমতো খেতে পারতাম না।’

ছবি তোলার শখ

এবার আসি আপনার ছবি তোলার প্রসঙ্গে, আপনার নাকি দুটি ক্যামেরা? খায়রুল বাসার বলেন, ‘দুটিই বাইরে থেকে এনেছি। আমি ছবি তুলতে ভালোবাসি। ফড়িং, লতা, পাতা, ফুল, পাখি, কর্মজীবী মানুষের ছবি তুলি। এটা আমাকে দারুণ একটা রিফ্রেশমেন্ট দেয়। আমার শখ।’ সহকর্মীদের মধ্যে কার ছবি তুলে প্রশংসা পেয়েছেন? ‘আমি তো শুটিংয়েও অনেকের ছবি তুলি। সাফা (কবির) আমার ছবির ভালো প্রশংসা করে। এ ছাড়া (তানজিন) তিশা, (তানজিম সাইয়ারা) তটিনী, (কেয়া) পায়েল, সুনেরাহ্ (বিনতে কামাল)—ওরা আগ্রহ নিয়ে বলে, আমার ছবি তোলার হাত অনেক ভালো।’ পুরুষ অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে কেউ প্রশংসা করেন না? ‘(হাসি) না না, তেমনটা নয়। সোহেল (মণ্ডল), মনোজ প্রামানিক, লাইট ও ক্যামেরার সহকারী অনেকের ছবি তুলি। তারাও প্রশংসা করে।’

ঈদ উদযাপন ও নাটক-সিনেমা

ঈদ কোথায় করবেন? খায়রুল বাসার বলেন, ‘এবার ঢাকাতেই ঈদ করব। মা–বাবা এখানেই রয়েছেন। আমার বোন ও ভাইয়েরাও ঢাকায় আসবেন।’ ঈদে নাটক নাকি সিনেমা—কোনটি আপনাকে এগিয়ে রাখবে? ‘আমার ঈদে ১০টির মতো নাটক প্রচার হবে। অন্যদিকে একটি সিনেমা। যে কারও জন্যই সিনেমা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দিন শেষে দর্শক কিন্তু ভালো গল্পকেই এগিয়ে রাখে। আমার কাছে মনে হয়েছে, অনেক ভালো একটি সিনেমা বনলতা সেন। অন্যদিকে নাটকেও কিন্তু ভালো ভালো গল্পে কাজ করেছি। কদিন আগে এটা আমাদেরই গল্প নাটকের পরিচালক মোস্তফা কামাল রাজ ভাইয়ের দ্য অভিযান নামে একটি নাটকের কাজ করেছি। কক্সবাজারে শুটিং হয়েছে। এটি দর্শকদের ভালো লাগবে। সিনেমা ও নাটকে সব সময়ই দর্শক ভালো গল্প খোঁজেন। দর্শককে একটি কথা বারবার বলব, সিনেমাটি হলে গিয়ে দেখুন। এটা দারুণ একটি কাজ। আমি মনে করি, যত দিন জীবনানন্দ দাশ থাকবেন, তত দিন সিনেমাটি থেকে যাবে।’