মোহনলালের জন্মদিনে মুক্তি পেল ‘দৃশ্যম ৩’, প্রথম দিনেই ৪৩ কোটি রুপি আয়
মোহনলালের জন্মদিনে মুক্তি পেল ‘দৃশ্যম ৩’, প্রথম দিনেই ৪৩ কোটি রুপি আয়

২০১৩ সালে মুক্তির পরই জিতু জোসেফের মালয়ালম থ্রিলার ‘দৃশ্যম’ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। পরে এর সিক্যুয়েলও প্রশংসিত হয়, এবং হিন্দি রিমেক দুটিও ব্যবসায়িক সাফল্য পায়। এই ফ্র্যাঞ্চাইজির কেন্দ্রে আছেন জর্জ, একজন সাধারণ কেব্‌ল ব্যবসায়ী, যিনি পরিবারকে বাঁচাতে অসাধারণ বুদ্ধি প্রদর্শন করেন। এবার এসেছে ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন সিনেমা ‘দৃশ্যম ৩’, যা গতকাল বৃহস্পতিবার মোহনলালের জন্মদিনে মুক্তি পেয়েছে।

প্রথম দিনের বক্স অফিস সংগ্রহ

প্রথম দিনেই বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪৩ কোটি রুপির ব্যবসা করে মালয়ালম সিনেমার ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ওপেনিংয়ের রেকর্ড গড়েছে ছবিটি। এর আগে শীর্ষে ছিল ‘এল২: এমপুরান’, যেটিও অভিনয় করেছিলেন মোহনলাল। ফলে মালয়ালম সিনেমার সবচেয়ে বড় দুই ওপেনিং এখন একই অভিনেতার দখলে।

ভারতে ও বিদেশে আয়

ট্র্যাকিং সংস্থা স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, ছবিটি ভারতে প্রথম দিনে প্রায় ১৮.৩৭ কোটি রুপি গ্রস আয় করেছে। বিদেশে আয় করেছে আরও প্রায় ২৫ কোটি রুপি। সব মিলিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রথম দিনের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৪৩.৩৭ কোটি রুপি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মোহনলালের জন্মদিনে ‘ডাবল সেলিব্রেশন’

২১ মে ছিল মোহনলালের ৬৬তম জন্মদিন। আর সেদিনই মুক্তি পায় সিনেমাটি। ফলে ভক্তদের কাছে দিনটি উৎসবে পরিণত হয়। কেরলমের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে মাঝরাত থেকেই ছিল বিশেষ শো, কেক কাটা, ব্যানার আর আতশবাজির আয়োজন।

‘দৃশ্যম’ ফ্র্যাঞ্চাইজির ইতিহাস

২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া প্রথম ‘দৃশ্যম’ ভারতীয় থ্রিলার সিনেমার ইতিহাসই বদলে দিয়েছিল। সাধারণ কেব্‌ল অপারেটর জর্জকুট্টি কীভাবে নিজের পরিবারকে বাঁচাতে আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যান, সেই গল্প দর্শকদের এমনভাবে নাড়া দিয়েছিল যে সিনেমাটি পরে হিন্দি, তামিল, তেলেগু, কন্নড়সহ বিভিন্ন ভাষায় রিমেক হয়। এমনকি চীন ও শ্রীলঙ্কায়ও তৈরি হয়েছে স্থানীয় সংস্করণ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দ্বিতীয় কিস্তি ও তৃতীয় কিস্তির প্রত্যাশা

করোনা মহামারির সময়ে ওটিটিতে মুক্তি পায় ‘দৃশ্যম ২’। থিয়েটারে মুক্তি না পেলেও ছবিটি সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায়। তাই তৃতীয় কিস্তি নিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া।

ছবির চরিত্র ও অভিনয়

ছবিতে আবারও ফিরে এসেছে জর্জকুট্টির পরিবার। রানি জর্জের চরিত্রে মীনা, অঞ্জু চরিত্রে আনসিবা হাসান ও অনু চরিত্রে এস্থার অনিল। দর্শকদের বড় অংশ বলছে, এই পরিচিত পরিবারকে আবার বড় পর্দায় দেখাই ছিল ছবির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।

সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া

ছবিটি নিয়ে দর্শক-সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া পুরোপুরি একমুখী নয়। অনেকেই বলছেন, প্রথম দুই কিস্তির তুলনায় এবার রহস্যের গভীরতা কিছুটা কম। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপেই ছবিটি পুরোপুরি বিস্ময় তৈরি করতে পারেনি। তবে প্রায় সবাই একমত, মোহনলালের অভিনয় এখনো সিনেমাটির প্রাণ। বিশেষ করে জর্জকুট্টির নীরব আতঙ্ক, হিসাবি আচরণ আর পরিবারের প্রতি তাঁর মরিয়া ভালোবাসা আগের মতোই দর্শকদের টেনে রেখেছে।

পরিচালকের প্রশংসা

পরিচালক জিতু জোসেফ প্রশংসা পাচ্ছেন গল্প বলার দক্ষতার জন্য। ধীরগতির নির্মাণ হলেও তিনি শেষ পর্যন্ত টান টান উত্তেজনা ধরে রাখতে পেরেছেন বলে মত দিয়েছেন অনেক সমালোচক।

জর্জকুট্টির জনপ্রিয়তার কারণ

ভারতীয় মূলধারার সিনেমায় সাধারণত নায়ক মানেই শক্তিশালী, অ্যাকশনধর্মী চরিত্র। কিন্তু জর্জকুট্টি সম্পূর্ণ আলাদা। তিনি না পুলিশ, না গ্যাংস্টার, না সুপারহিরো। তিনি এক সাধারণ পরিবারপ্রেমী মানুষ, যিনি বুদ্ধি দিয়ে প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করেন। এই মানবিক দিকটাই চরিত্রটিকে দর্শকদের কাছে বাস্তব করে তুলেছে। ফলে এক দশকের বেশি সময় পেরিয়েও মানুষ এখনো জর্জকুট্টির গল্প দেখতে আগ্রহী।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

এখন দেখার বিষয়, মুখে মুখে প্রচার কতটা ইতিবাচক থাকে এবং দ্বিতীয় সপ্তাহেও ছবিটি একই গতি ধরে রাখতে পারে কি না। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, জর্জকুট্টি এখনো হারিয়ে যায়নি; বরং সময়ের সঙ্গে সে ভারতীয় জনপ্রিয় সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে।