গত বছরের মে মাসে ভিয়েতনাম সফরে বিমান থেকে নামার আগে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে তার স্ত্রী ব্রিজিত ম্যাক্রোঁ ধাক্কা বা থাপ্পড় মারছেন এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। ফরাসি ফার্স্ট লেডির এমন আচরণের কারণ নিয়ে তখন নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। তবে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নতুন বইয়ে দাবি করা হয়েছে, এই ঘটনার নেপথ্যে ছিলেন ৪২ বছর বয়সী ইরানি অভিনেত্রী গোলশিফতেহ ফারাহানি। ম্যাক্রোঁর ফোনে ওই অভিনেত্রীর মেসেজ দেখেই ক্ষুব্ধ হয়ে স্বামীকে থাপ্পড় মেরেছিলেন ব্রিজিত।
বইয়ের দাবি
ফরাসি সাংবাদিক ফ্লোরিয়ান তার্দিফ তার নতুন বই ‘এ (নিয়ারলি) পারফেক্ট কাপল’-এ এই দাবি করেছেন। বুধবার (১৩ মে) আরটিএল রেডিওতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিমানের ভেতরে ভুল বোঝাবুঝির কারণে এই ব্যক্তিগত দৃশ্যটি প্রকাশ্যে চলে আসে। আমরা ভেবেছিলাম বিতর্কটি ওখানেই শেষ, কিন্তু তা ছিল না। তার দাবি, ম্যাক্রোঁর সঙ্গে ওই অভিনেত্রীর কয়েক মাস ধরে একটি প্লেটোনিক বা আত্মিক সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে ম্যাক্রোঁ তাকে বেশ কিছু মেসেজ পাঠান, যার একটিতে লেখা ছিল, ‘আমি তোমাকে খুব সুন্দরী মনে করি’। ব্রিজিত বিমানে থাকা অবস্থায় স্বামীর ফোনে এই মেসেজটি দেখে ফেলেন, যার জেরে দুজনের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত তা রানওয়েতে ক্যামেরার সামনে চলে আসে।
সাংবাদিকের বক্তব্য
২০১৭ সাল থেকে ম্যাক্রোঁকে অনুসরণ করে আসা সাংবাদিক তার্দিফ বলেন, তার বইটি সম্পূর্ণ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে লেখা এবং এটি ফরাসি এই দম্পতির জীবনের ‘নিষিদ্ধ এলাকা’ উন্মোচন করবে। তবে এলিসি প্যালেস নাকি পরে এটি লুকিয়ে রাখার জন্য আফসোস করেছিল। তারা ভেবেছিল, এটি প্রকাশ পেলে বিশ্ববাসীকে দেখানো যেত যে তারা একটি নিখুঁত দম্পতি নয়, বরং একটি বাস্তব দম্পতি।
ম্যাক্রোঁর প্রতিক্রিয়া
অবশ্য ঘটনার সময় মুখের ওপর ধাক্কা বা থাপ্পড় খাওয়ার বিষয়টিকে ‘কিছুই না’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন ম্যাক্রোঁ। তিনি এটিকে স্ত্রীর সঙ্গে স্রেফ ‘ঝগড়া বা খুনসুটি’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
ব্রিজিতের ঘনিষ্ঠদের অস্বীকার
এদিকে বইয়ে লেখা এই দাবিগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ব্রিজিত ম্যাক্রোঁর ঘনিষ্ঠরা। ফার্স্ট লেডির সঙ্গী ও সহায়তাকারীরা এই ধারণা পুরোপুরি নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, ব্রিজিত তার স্বামীর ফোন চেক করেন না। পলিটিকোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফার্স্ট লেডির এক ঘনিষ্ঠজন জানান, ক্যামেরায় ধরা পড়া ওই ঘটনার পেছনে কোনও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের বিষয় ছিল না।
অভিনেত্রীর বক্তব্য
অন্যদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জন নাকচ করে দিয়েছেন অভিনেত্রী গোলশিফতেহ ফারাহানিও। তেহরানে জন্মগ্রহণকারী এই অভিনেত্রী আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সময় হিজাব পরতে অস্বীকৃতি জানানোর পর থেকে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন। অতীতেও ৪৮ বছর বয়সী ফরাসি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার নাম জড়ানো হয়েছিল।
এই গুঞ্জন নিয়ে গত বছর ‘গালা’ ম্যাগাজিনকে ফারাহানি বলেছিলেন, আমি কেবল এসব দেখি ও লক্ষ্য করি। আমার কী-ই বা করার আছে? এটি আমাকে বিরক্তও করে না। এসবের মানেই বা কী? তিনি আরও বলেন, প্রশ্ন হলো মানুষ কেন এই ধরনের গল্পে আগ্রহী হয়। আমি মনে করি, কিছু মানুষের জীবনে ভালোবাসার অভাব রয়েছে এবং সেই শূন্যতা পূরণ করতেই তারা এমন কাল্পনিক প্রেমের গল্প তৈরি করে।



