চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাব থেকে এক সাংবাদিককে তুলে নিয়ে মারধর করার ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া একটি আবাসিক হোটেল সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—‘মাতৃমায়া’ আবাসিক হোটেলের মালিক মো. ফারুক হোসেন লিটন ও তার ছেলে তাওহীদ হোসেন।
ঘটনার বিবরণ
জানা গেছে, আবাসিক হোটেলে ‘অনৈতিক’ কাজের সংবাদ প্রকাশ করায় মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা সাংবাদিক মহিউদ্দিন আল আজাদের ওপর হামলা চালায়। মহিউদ্দিন আল আজাদ হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ নিউজ ও বাংলাদেশের খবর পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি এবং সাপ্তাহিক ‘ত্রিনদী’ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক।
পুলিশের বক্তব্য
বিষয়টি নিশ্চিত করে হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ওই ঘটনায় অভিযুক্ত ফারুক ও তার ছেলে তাওহীদকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অন্যান্য অভিযোগ
হোটেলে ‘অনৈতিক’ কর্মকাণ্ড ছাড়াও লোকজনকে মারধর করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে মাতৃমায়া হোটেলের মালিক ফারুক হোসেন লিটনের বিরুদ্ধে। সবশেষ গত ১৩ জুন ওই হোটেল থেকে নিখোঁজ এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই সময় বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবাসিক হোটেলটির কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। কিন্তু নির্দেশনা অমান্য করে হোটেল খোলা রাখা হয়। খবর পেয়ে ওই হোটেল থেকে হাজীগঞ্জ থানা-পুলিশ দুজনকে আটক করে। সেই সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
সাংবাদিকের ওপর হামলা
সাংবাদিক মহিউদ্দিন আল আজাদও ওই সংবাদ প্রকাশ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ফারুক ১০-১২ জনকে নিয়ে হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয় থেকে মহিউদ্দিন আল আজাদকে তুলে হোটেল ভবনে নিয়ে মারধর করে। এ ঘটনায় সচেতন মহল, সাংবাদিক নেতারা নিন্দা জানান এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
চিকিৎসা ও মামলা
মহিউদ্দিন আল আজাদ হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় তিনি ফারুক, তার ছেলে তাওহীদ ও বাবা আনোয়ার হোসেনসহ অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে আসামি করে হাজীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। পরে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।
হোটেল সিলগালা
এদিকে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে আবাসিক হোটেল পরিচালনা করায় মঙ্গলবার বিকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মাতৃমায়া আবাসিক হোটেলটি সিলগালা করে দেন। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিনা জাহান, হাজীগঞ্জ থানার ওসি মো. আব্দুল মান্নান, হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি খালেকুজ্জামান শামীম উপস্থিত ছিলেন।



