শাহরুখ খানের মেয়ে সুহানার জন্য লেখা গোপন ডায়েরির কথা জানালেন অনুরাগীরা
সুহানার জন্য শাহরুখের গোপন ডায়েরি

বলিউডের 'বাদশাহ' শাহরুখ খান ক্যামেরার ফ্ল্যাশলাইট আর বক্স অফিস হিটের উন্মাদনাকে বাদ দিলে নিতান্তই এক পারিবারিক ব্যক্তি। তিন সন্তান—আরিয়ান, সুহানা ও আব্রামের দায়িত্বশীল বাবা। অনেক দিন ধরেই আলোচনায় মেয়ে সুহানার জন্য লেখা শাহরুখের 'গোপন ডায়েরি'। কী আছে সেই ডায়েরিতে? আজ বাবা দিবস উপলক্ষে জেনে নেওয়া যাক সেই ডায়েরি ও বাবা শাহরুখের গল্প।

শুরুটা ২০১৪ সালে

২০১৪ সালে অভিনেতা অনুপম খেরের অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে শাহরুখ প্রথম এই ডায়েরির কথা প্রকাশ করেছিলেন। তখন সুহানা কিশোরী। শাহরুখ ডায়েরির কথা বলার পর অনুপম খের জানতে চান, 'তাহলে আপনি মেয়ের জন্য অভিনয়ের ওপর বই লিখছেন?' শাহরুখ জবাব দিয়েছিলেন, 'হ্যাঁ, শুধু ওর জন্যই। আমি নিজের টুকটাক অভিজ্ঞতার কথা ছোট ছোট তিন–চার লাইনে লিখছি। আমার মনে হলো ওর জন্য এটা লেখা দরকার। আসলে আমার তো কাউকে বলা দরকার যে আমি কীভাবে অভিনয় করি! আমার সহ–অভিনেতাদের এ নিয়ে কিছু বলতে গেলে তারা পাত্তা দেয় না। তাই আমি চাই, আমার মেয়ে বইটা পড়ুক আর ওখান থেকে শিখুক।' অনুপম খের বইটার কোনো নাম ভেবেছেন কি না, তা জানতে চাইলে শাহরুখ বলেন, 'নাম রেখেছি—"টু সুহানা, অন অ্যাক্টিং। ফ্রম পাপা" (সুহানার জন্য, অভিনয় নিয়ে। ইতি পাপা)।'

একই অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, 'আমি খুব চাই আমার মেয়ে বড় হয়ে অভিনয় করুক। অন্য কেউ তো আর আমার কথা শোনে না! মেয়েটা এখনো ছোট, তাই অন্তত বাবাকে সম্মান করে হলেও আমার লেখা বইটা হয়তো ও পড়বে। এ বই আমি শুধু ওর জন্যই লিখছি। অভিনয় নিয়ে যখনই মাথায় কিছু আসে, আমি সঙ্গে সঙ্গে লিখে রাখি।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কী আছে ডায়েরিতে

শাহরুখ স্পষ্ট করে বলেছিলেন, বইটি কেবল সুহানার জন্যই লেখা হচ্ছে। সেখানে তিনি লিখছেন কীভাবে তিনি চরিত্র নির্মাণ করেন, কীভাবে দৃশ্যের আবেগ খুঁজে পান, কীভাবে ক্যামেরার সামনে নিজেকে তৈরি করেন। এসবই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা সংক্ষিপ্ত নোট। শাহরুখের কাছে বিষয়টি কেবল অভিনয় শেখানো নয়; বরং তিনি চাইছিলেন তাঁর অভিজ্ঞতাগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে। একজন শিল্পী হিসেবে তিনি যা শিখেছেন, তা যেন তাঁর মেয়ের কাজে লাগে।

'টু সুহানা, অন অ্যাক্টিং। ফ্রম পাপা'

২০১৪ সালে ডায়েরির কথা প্রথমবার বলেছিলেন শাহরুখ। এর আট বছর পর ২০২২ সালে সেই ডায়েরি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়। শাহরুখ খানের ভক্তরা সুহানার ইনস্টাগ্রাম থেকে জানতে পেরেছে মেয়ের জন্য বাবার এই অমূল্য উপহারের কথা। সুহানা খান তাঁর ইনস্টাগ্রামে খুব কমই পোস্ট করেন। তবে যখনই তিনি তা করেন, মুহূর্তের মধ্যে তা ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে যায়। বাবা শাহরুখের কাছ থেকে পাওয়া একটি জার্নালের ছবি শেয়ার করেছেন। এর ওপরে লেখা ছিল, 'টু সুহানা, অন অ্যাক্টিং। ফ্রম পাপা'। আরেকবার ছবিটি পোস্ট করে ক্যাপশনে সুহানা লিখেছিলেন, 'মঙ্গলবারের প্রেরণা'। মেয়ের সেই পোস্টে শাহরুখের মন্তব্য আরও বেশি আলোচনায় আসে। তিনি লিখেছিলেন, 'অভিনয় সম্পর্কে আমি যা জানি না, সবই সেখানে লিখে রেখেছি। তুমি শিখবে, তারপর আমাকে আবার শেখাবে।'

শাহরুখ খানের সঙ্গে সুহানার সম্পর্ক বরাবরই বিশেষ। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি মেয়েকে নিয়ে গর্বের কথা বলেছেন। আবার প্রয়োজন হলে তাঁকে আড়ালেও রেখেছেন। সুহানা যখন ছোট ছিলেন, তখন প্রচারমাধ্যমের অতিরিক্ত মনোযোগ তাঁর ভালো লাগত না। পরে তিনি নিজেই বলেছেন, বাবার খ্যাতির কারণে পাওয়া সেই মনোযোগ তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলত।

বাবা শাহরুখ

শুটিংয়ের শিডিউল যতই ব্যস্ত থাকুক না কেন, ছোট ছেলে আব্রামের স্কুলের কোনো বিশেষ দিন শাহরুখ মিস করেন না বললেই চলে। সাধারণ অভিভাবকদের মতোই তাঁকে প্রায়ই স্কুলের অনুষ্ঠানে অন্য দর্শকদের মাঝে বসে সন্তানের জন্য উল্লাস করে। ২০২৪ সালেও স্ত্রী গৌরী ও মেয়ে সুহানাকে নিয়ে তিনি আব্রামের স্কুলের একটি অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন। সেখানে তাকে একজন গর্বিত বাবার মতো হাসিমুখে নিজের ফোনে ছেলের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে দেখা যায়।

সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে যেখানে সবাই নিজের ছেলেমেয়েকে জোর করে স্টার বানাতে ব্যস্ত, সেখানে শাহরুখের চিন্তাভাবনা একদম আলাদা আর স্বাধীন। তিনি একদমই মনে করেন না যে তাঁর সন্তানদেরও তাঁর মতোই সুপারস্টার হতে হবে। এ নিয়ে তিনি বলেছিলেন, 'আমি ইন্ডাস্ট্রিতে উত্তরাধিকারে বিশ্বাস করি না। আমার বাবা তো অভিনেতা ছিলেন না। আমি নিজে অভিনেতা হয়েছি, তার মানে এই নয় যে আমার ছেলেমেয়েদেরও অভিনেতা হতে হবে।'

শাহরুখ আরও বলেন, 'তারা জীবনে কী করবে, সেটা আমি বলে দেব না...আমি তাদের জন্য কী চাই, সেটা বড় কথা নয়, তারা নিজেরা কী হতে চায়, সেটাই আসল। তারা অভিনেতা না হলেও তাদের আমি সব সময়ই ভালোবাসব।'

সন্তানদের যেকোনো সাফল্যে শাহরুখ শুধু ঘরে বসে অভিনন্দন জানান না, বরং পুরো পৃথিবীর সামনে তা বুক ফুলিয়ে উদ্‌যাপন করেন। বছরখানেক আগে সুহানা যখন লন্ডনের আরডিংলি কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেন, তখন শাহরুখ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর মেয়ের একটি মিষ্টি ভিডিও শেয়ার করে নিজের গর্ব প্রকাশ করেছিলেন। আবার বড় ছেলে আরিয়ান খান যখন পরিচালক হিসেবে তাঁর প্রথম ওটিটি প্রজেক্ট 'দ্য ব্যা***অব বলিউড'-এর কাজ শুরু করেন, তখন শাহরুখই সবার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই প্রজেক্টের টিজার ও ছবি শেয়ার করে ছেলের কাজের পাশে থেকেছেন।

শিক্ষা ও ভালোবাসা

টাকাপয়সা আর জাঁকজমকের মধ্যেও শাহরুখের মূল লক্ষ্য তাঁর সন্তানদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। আরিয়ানকে দেওয়া একটি দারুণ শিক্ষার কথা উল্লেখ করে তিনি একবার বলেছিলেন, 'আমি আমার ২১ বছর বয়সী ছেলেকে শেখাই, কোনো মানুষকে অসম্মান করা মোটেও ঠিক নয়...আমি সবার প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্মানের কথা বলছি।' তবে শুধু শাসন নয়, নিজের সন্তানদের ভূয়সী প্রশংসা করতেও ভোলেন না তিনি। একাধিক সাক্ষাৎকারে শাহরুখ নিজেই বলেছেন, 'আমার সন্তানেরা অত্যন্ত গোছানো...তারা আমার চেয়েও পরিপক্ব। আশ্চর্যজনকভাবে মানুষ হয়তো ভাবে, তারকার সন্তানেরা তো, বিগড়ে যাবে; কিন্তু তারা সত্যিই ভীষণ ভালো সন্তান।'

একসঙ্গে শাহরুখ-সুহানা

ওটিটিতে সুহানার আগেই অভিষেক হয়েছে, বড় পর্দায় তাঁর অভিনয় ছিল সময়ের ব্যাপার। তবে ভক্তদের অপেক্ষা ছিল কবে একসঙ্গে পর্দায় বাবা শাহরুখ আর মেয়ে সুহানাকে দেখা যাবে। সে অপেক্ষা ফুরাচ্ছে চলতি বছরই। আগামী ২৫ ডিসেম্বর বড়দিনে মুক্তি পাবে সিদ্ধান্ত আনন্দর 'কিং', যেখানে প্রথমবার শাহরুখ ও সুহানাকে একসঙ্গে অভিনয় করতে দেখা যাবে। জানা গেছে, বাস্তবের মতো পর্দাতেও তাঁদের বাবা-মেয়ের চরিত্রে দেখা যাবে।